প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ০১:০৩ এএম
দেশের মানুষের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে আইন ও আন্দোলনের বিকল্প নেই। এজন্য সমাজের সর্বস্তরের লোকদের অংশগ্রহণে আন্দোলন জোরদার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, আমাদের দেশে কেউ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, আবার বিপুলসংখ্যক মানুষ না খেতে পেরে পুষ্টিহীনতায় ভুগে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের বেশিরভাগ মানুষ দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে এবং অনেকেই দৈনন্দিন খাবারের তালিকা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ১ শতাংশে ছিল, ফলে প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ৩টি পর্যাপ্ত খাবার খেতে পারেনি। নিম্ন আয়ের পরিবারের কথা বিবেচনা করলে বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬টিতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের পর খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও এখনও সেটা ১০ শতাংশের বেশি। খাদ্য নিরাপত্তা মোকাবিলায় প্রতি ১০ জনের ৭ জন জমানো টাকা খরচ করছেন বা সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। খাদ্য ঘাটতির মুখোমুখি অনেক পরিবার হয় ঋণ করছে, না হয় সঞ্চয় থেকে খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। এ ছাড়া খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সমন্বয়কারী ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক কানিজ ফাতেমার সঞ্চালনায় এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান।