× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কেমিক্যাল গোডাউনের শহর যেন ঢাকা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৫৪ পিএম

কেমিক্যাল গোডাউনের শহর যেন ঢাকা

পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় ২০১৯ সালে কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জনের মৃত্যু হয়। ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীতে রাসায়নিক গুদাম থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে পুড়ে মারা যায় ১২৪ জন। অবৈধ কেমিক্যাল গোডাউনের আগুনে এমন ট্র্যাজেডির ঘটনা একটি-দুটি নয়, অনেক। কিন্তু এত প্রাণহানির পরও এই বিপদের কবল থেকে মুক্তি মেলেনি রাজধানীবাসীর। যার পরিণতিতে সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবারও রাজধানীর মিরপুরে ঘটেছে আরেকটি বিপর্যয়ের ঘটনা, যেখানে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৬। এ ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে জনবহুল এলাকায় অনিরাপদ ও অবৈধভাবে গড়ে তোলা কেমিক্যাল গোডাউনগুলো অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সীমাহীন উদাসীনতার বিষয়টি। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, ঢাকা কি চিরকাল কেমিক্যালের গোডাউনের শহর হয়েই থাকবে!

সংশ্লিষ্টদের মতে, যত্রতত্র বাসাবাড়ি বা বহুতল ভবনের নিচতলায়, কখনও-বা ওপরতলাতেই যেভাবে অনুমতি ছাড়া কেমিক্যাল গোডাউন বানানো হয়েছে তাতে কিছুদিন পর পর বড় দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এখনও সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। 

উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে সাভারের আশুলিয়ায় কেমিক্যাল গোডাউনের আগুনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ও ফাইটারসহ ৪ জনের প্রানহানি ঘটে। ওই ঘটনায়ও জানা যায়, গোডাউনের জন্য পূর্ব অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই গোডাউনে মজুদ ছিল নানা ধরনের কেমিক্যাল। 

বিস্ফোরণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে পুরান ঢাকা, মিরপুর ও উত্তরাসহ বেশ কিছু এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গোডাউন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছিল সিটি করপোরেশন। কিন্তু সেই অভিযান আর নিয়মিত হয়নি। একপর্যায়ে বন্ধই হয়ে গেছে। নতুন নতুন এলাকায় গড়ে উঠছে কেমিক্যাল গোডাউন। এখনও রাজধানীর অনেক এলাকাতেই যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠছে কেমিক্যাল গোডাউন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌহিদুল হক বলেন, ‘ঢাকার মানুষ বসবাস করছে এক হিসেবে অ্যাটম বোমার সঙ্গে। এসব গোডাউন সরানোর পদক্ষেপ বারবার ব্যর্থ হয়। যে কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটে। অকালে প্রাণ হারায় সাধারণ মানুষ।’ 

সূত্র মতে, ২০২৩ সালে দেশে ২৭ হাজার ৬২৪টি বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৭৯২ কোটি টাকার বেশি সম্পদের ক্ষতি হয়। প্রাণ হারায় ১০২ জন। ২০২৪ সালে সারা দেশে মোট ২৬ হাজার ৬৫৯টি বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ১৪০ জন, আহত হয়েছে আরও ৩৪১ জন। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় মারা গেছে ১৫৪ জন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরান ঢাকায় ২৫ হাজার কেমিক্যাল গোডাউন বা রাসায়নিক পণ্যের গুদাম রয়েছে। এসবের মধ্যে ১৫ হাজার আছে বিভিন্ন আবাসিক ভবনে। পুরো ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা মিলিয়ে কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজারের মতো। এর মধ্যে মাত্র আড়াই হাজার গুদামকে ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে সিটি করপোরেশন। বাকিগুলো অবৈধ। বিগত সরকারের সময় বলা হয়েছিল, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পুরান ঢাকা থেকে দাহ্য রাসায়নিকের ব্যবসা স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু তার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পরও কয়েক দফা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে পুরান ঢাকায়। দুর্ঘটনা হলেই রাসায়নিক কারখানা স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা হয়। কয়েক দিন পর আবার থেমেও যায়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। যদি আমলে নেওয়া হতো তাহলে দুর্ঘটনা অনেকটা কমে আসত। তিনি আরও বলেন, আমাদের সুপারিশ ছিল বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে আবাসিক এলাকায় কোনো ধরনের রাসায়নিকের দোকান বা গুদাম স্থাপন করা যাবে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা