× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চোখ-নাকের পানি একাকার কাঁচা লংকার দামের ঝালে

কাউসার আহমেদ

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৫১ এএম

চোখ-নাকের পানি একাকার কাঁচা লংকার দামের ঝালে

কাঁচালংকার দামের ঝালে ক্রেতাদের চোখের পানি নাকের পানি একাকার হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রতিটি সবজির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি দশ থেকে কুড়ি টাকা। শীতের আগাম সবজির দামও অনেক বেশি। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশাহার সাধারণ মানুষ। তার সঙ্গে বাড়তি দাম যোগ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। যা সাধারণের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বৃষ্টির অজুহাতে বাজারে চলছে অস্থিরতার খেলা। যেখানে বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম তাই দাম বাড়তি। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ- সবই সিন্ডিকেটের কারসাজি। 

সরেজমিনে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগেও যে শিম প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় মিলত, তা এখন কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা। তবে সবচেয়ে বড় ঝড় বয়ে গেছে কাঁচামরিচের দামে। রান্নাঘরের প্রাণ এই মসলাটি মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। ক্রেতাদের দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে যেন প্রতিদিনের হাঁড়ি-পাতিলও কাঁদছে। 

মহাখালী বাজারের সবজি বিক্রেতা রহমান মিয়া জানান, ‘বৃষ্টির জন্য কাঁচামরিচের ফলন নষ্ট হয়েছে। এতে পাইকারি বাজারে তৈরি হয়েছে সংকট। এদিকে ভারত থেকেও কাঁচামরিচ আনা বন্ধ। তাই দাম বাড়তে বাড়তে এখন এক পাল্লা (৫ কেজি) ১২০০-১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহ ছিল ৮০০-৯০০ টাকার মধ্যে।’

এ বাজারে হাতে ব্যাগ নিয়ে ঘুরছিলেন শহিদুল হাসান, বিক্রেতাদের সঙ্গে দাম নিয়ে মুলামুলি করছেন। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বেতনের টাকা হাতে গোনা। অথচ জিনিসের দাম তো প্রতিদিনই বাড়ছে। পরিবার নিয়ে এ শহরে টিকিয়ে থাকাই দায়।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী, জোয়ার সাহারা ও কুড়াতলি বাজারে গিয়ে সবজির দামের এমন ঊর্ধ্বগতির চিত্র দেখা গেছে। তবে সবজির বাজারে আগুনের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে কাঁচা পেঁপে ও মুখিকচু। বাজারে কাঁচা পেঁপে মিলছে ২০-২৫ টাকা কেজিতে, আর মুখিকচু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। তবে এর বাইরে শসা, মিষ্টিকুমড়া আর ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে মিললেও বেশিরভাগ সবজির দাম এখন ৮০ টাকার ওপরে। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি ও পাতাকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৬০-৭০ টাকা। মুলার দামও বেড়ে এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৬০ টাকা। বরবটি ও করলা কেজিপ্রতি ১০০ টাকা, উচ্ছে ১২০, লম্বা বেগুন ১০০ আর গোল বেগুন ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, চিচিঙ্গা ও কাঁকরোল প্রতি কেজি ৮০ টাকায় মিললেও গাজর ও টমেটোর জন্য গুনতে হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং আকারভেদে প্রতিটি লাউ ও জালির দাম ৮০ থেকে ১২০ টাকা। 

শুধু সবজি নয়, বাজারে শাকের দামেও পরিবর্তন এসেছে। পুঁইশাক প্রতি আঁটি ৪০-৫০ টাকা, কুমার শাক ৫০-৬০ টাকা, লালশাক ২৫-৩০ টাকা, কলমি ২০ টাকা, পালং ৪০ টাকা, পাটশাক ও কচুশাক ৩০ টাকা, মুলা শাক ২৫ টাকা এবং ডাঁটা শাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জোয়ার সাহারা বাজারের ভ্যানচালক ও শাক ব্যবসায়ী আলমগীর জানান, ‘গত সপ্তাহে ৩ হাজার টাকায় যে শাক কিনতেন, এখন তা ৫ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে জমিতে শাক নষ্ট হওয়ায় পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমেছে।’

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়- রুই প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪০০, কাতল ৩৫০ থেকে ৪২০, চিতল ৬০০ থেকে ৭০০, বোয়াল ৪০০ থেকে ৫৫০, আইড় ৫০০ থেকে ৬০০, সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২২০, ইলিশ এক কেজির কম ১২০০ থেকে ১৬০০ ও এক কেজির ওপরে ২৬০০ থেকে ৩০০০, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৪০ ও নদীর পাঙাশ ১০০০ থেকে ১২০০, চিংড়ি আকারভেদে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৩০০ থেকে ৩৫০, চাষের কৈ ২২০ থেকে ২৮০, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, পুঁটি ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা বাজারের আবুল হোসেন নামের এক মাছ বিক্রেতা বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মাছের দাম একই আছে। কিছু দাম কমলেও আবার বেড়ে যায়।’

মহাখালীর মাংস বিক্রেতা ওয়াসিম জানান, ‘গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০, খাসি প্রতি কেজি ১১০০ থেকে ১২০০, মহিষ ৭২০ থেকে ৭৮০, সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩১০, ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০, দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০, দেশি হাঁস ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে সবজির দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বৃষ্টিকে অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে, কারণ বাজারে পর্যাপ্ত তদারকি নেই। সরকার চাইলে উত্তরাঞ্চলের জেলা থেকে কম খরচে সবজি আনার জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে পারে। কৃষকের জন্য সরাসরি হাট এবং কৃষিঋণ নিশ্চিত করতে পারে। ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন, দাম বাড়লে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমাতে হবে।’

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী রায় বলেন, ‘আমরা তো এখন সবাই পূজার ছুটিতে। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’ তিনি অভিযোগ দিয়ে রাখার পরামর্শ দেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা