× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘ভালো নেই’ প্রবীণ নিবাসের বাসিন্দারা

হাসনাত শাহীন

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:০৫ এএম

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৩৪ পিএম

‘ভালো নেই’ প্রবীণ নিবাসের বাসিন্দারা

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে ছোট্ট একটা চায়ের দোকানে কর্মরত জামাল হাওলাদার। জানান, বয়স কমবেশি ৬৫ হবে। এই বয়সেও চায়ের দোকান চালাচ্ছেন? বলেন, আমি দোকান চালাই না, ছেলেই চালায়। ফজর পড়ে আমি দোকান খুলি, ১০টা-১১টা পর্যন্ত চালাই। তারপর ছেলে আসে। সেই রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান চালায়। এর মধ্যে আমি বিকালের দিকে একবার আসি, সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকি। তারপর বাসায় চলে যাই।

আর কতদিন এভাবে চলবেন, এখন তো আপনার বয়স হয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহ যতদিন চালায়, ততদিন এভাবেই চলতে চাই। ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। তাদের সঙ্গে এভাবেই থাকতে চাই। এর মধ্য দিয়েই তো ভালো আছি। শরীর আর পারে না। মাঝেমধ্যে কিছু ভালো লাগে না। তবু পরিবারের সঙ্গে আছি; এই শান্তি।

জামালের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে দুপুরের আগে আগে যাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের (বাইগাম) অফিসে। সেখানে প্রবীণ নিবাসে কথা হয় বেশ কয়েকজন প্রবীণের সঙ্গে। তারা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, জামাল হাওলাদারের ঠিক উল্টো কথা। তারা বলেন, এখানে (প্রবীণ নিবাসে) ভালো লাগে না। এখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ভালো। পাশেই হাসপাতাল, সহজে চিকিৎসা নিতে পারি। অবসরও অনেক। বই পড়তে পারি, বিভিন্ন অঞ্চলের যেসব প্রবীণ এখানে থাকেন, তাদের সঙ্গে গল্প করতে পারি। তবু একা একা লাগে। মন ভালো না। আমরা ভালো নেই। কেন ভালো নেইÑ এমন কথার জবাবে চোখের জল ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা করে একজন বললেন, মাঝে মাঝে পরিবার-পরিজনের কথা মনে পড়ে, তবু এখানে থাকতে হয়।

প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের (বাইগাম) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আশরাফুল আলম জানান, এখানে বর্তমানে ২৯ জন প্রবীণ আছেন। আমাদের এটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এর প্রায় সব কার্যক্রম চলে অনেকটা সরকারের আর্থিক অনুদানে। আমাদের এই হাসপাতালের চিকিৎসাও চলে সরকারি চিকিৎসার রেট অনুযায়ী। এখানের বহির্বিভাগ ও ইনডোরের পাশাপাশি জরুরি বিভাগ এবং কিছু কিছু অপারেশনও হয়। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বাদে সপ্তাহের সব দিন সব বিভাগেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় মাত্র ৫০ টাকার টিকিটে। কিছু টেস্টের মূল্য নেওয়া হয়। সেটা সরকারি রেট অনুযায়ী।

প্রবীণদের নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী। তিনি বলেন, তাদের স্বস্তিদায়ক বার্ধক্য নিশ্চিত করা। এর মধ্যে গুরত্বপূর্ণ হলোÑ প্রবীণদের আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থিক সচ্ছলতা প্রদান, যা এই মুহূর্তে আমাদের নেই এবং প্রবীণদের আর্থিক সচ্ছলতাও নেই। এজন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি আরও পরিকল্পনা প্রয়োজন।

আশরাফুল আলম বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা বার্ষিক অনুদান পাই ৪ কোটি টাকা। আর সমাজকল্যাণ থেকে পাই ৪ লাখ টাকা, এবার ৬ লাখ টাকা পেয়েছি। কিন্তু আমাদের প্রতিবছর খরচ হয় ৮ কোটি টাকার বেশি। এই দিকটায় একটু বাড়লে আমরা প্রবীণদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারব।

প্রবীণদের জীবনধারণের এই প্রেক্ষাপটে প্রতিবছরের মতো এবারও এসেছে পহেলা অক্টোবর, যে দিনটিতে সারা বিশ্বে একযোগে পালিত হয় ‘বিশ্ব প্রবীণ দিবস’। আজ ১ অক্টোবর ‘৩৫তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৫’। এবারের এ প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘একদিন তুমি পৃথিবী গড়েছ, আজ আমি স্বপ্ন গড়ব। সযত্নে তোমায় রাখব আগলে’। প্রতিবছরের মতো বাংলাদেশ এবারের প্রবীণ দিবস পালন করতে পারছে না। কারণ এবারের প্রবীণ দিবসের দিনটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন। প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তাই এই দিবসটি সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ অক্টোবর উদযাপন করা হবে। প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (বাইগাম)। বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় প্রবীণ হিতৈষী সংঘ থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পর্যন্ত র‌্যালি হবে। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের নেতৃত্বে এ র‌্যালিতে প্রবীণ ব্যক্তি ও প্রবীণকল্যাণে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। শেষে সমাজসেবা অধিদপ্তর মিলনায়তনে হবে আলোচনা।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের প্রবীণ নাগরিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। যুগান্তকারী এ সিদ্ধান্তের আলোকে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ১৯৯১ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা