× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সুষম খাদ্যে মিথেন নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:১৭ পিএম

সুষম খাদ্যে মিথেন নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

সুষম খাদ্য ব্যবহার করলে রুমিন্যান্ট (জাবর কাটা) প্রাণীর হজম প্রক্রিয়াজনিত মিথেন নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর প্যান পেসিফিন সোনারগাঁও হোটেলে ‘পাথওয়েস টু ইমিশন রিডাকশন ইন রাইস এন্ড লাইভস্টক সেক্টর ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মিটিগেশন মার্কেটপ্লেস এন্ড ওয়ার্কশপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিশ্ব ব্যাংক, আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম গবেষণা সেন্টার (সিমিট) এবং কনসালটেটিভ গ্রুপ ফন ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকাল রিসার্চের (সিজিআইএআর) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র এগ্রিকালচারাল স্পেশালিস্ট সন তানহ ভ, কী নোট উপস্থাপন করেন সিমিটের সিনিয়র এগ্রিকালচারাল ইকোনোমিস্ট টি এস আমজাহ বাবু, গেস্ট অব অনার ছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের ডিভিশনাল ডিরেক্টর জেন পেসমি।

ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশের কৃষি নির্গমনের মূল উৎস ধান ও প্রাণিসম্পদ খাত। প্রাণিখাত থেকে নির্গত গ্যাসের প্রধান উৎস দুটি—রুমিন্যান্ট (জাবর কাটা) প্রাণীদের হজম প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন মিথেন এবং প্রাণীর মল ব্যবস্থাপনায় উৎপন্ন মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড। গবাদিপশুর মধ্যে গরু সবচেয়ে বেশি নির্গমনের জন্য দায়ী, এরপর রয়েছে মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। বিশ্বজুড়ে মানবসৃষ্ট মোট গ্রীনহাউস গ্যাসের প্রায় ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ এ খাত থেকে আসে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) গরুর মিথেন নির্গমন পরিমাপ এবং তা হ্রাসে বিভিন্ন গবেষণা পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি গবাদিপশুর নির্গমন নির্ধারণে উন্নত মডেল ও পদ্ধতি ব্যবহার করছে। উন্নতমানের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খাদ্যের গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে কীভাবে নির্গমন হ্রাস করা যায়, তা অনুসন্ধান করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সুষম খাদ্য ব্যবহার করলে রুমিন্যান্ট প্রাণীর হজম প্রক্রিয়াজনিত মিথেন নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব।

উপদেষ্টা বলেন, বিএলআরআই বর্তমানে এমন কিছু প্রযুক্তি প্রয়োগ করছে, যেগুলো জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত। এই প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উচ্চফলনশীল গো-খাদ্য, যা খড় নির্ভর খাদ্য থেকে সরে এসে সবুজ ঘাস নির্ভর খাদ্য ব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটাচ্ছে। এর ফলে প্রাণির দুধ ও মাংস উৎপাদন যেমন বাড়ছে, তেমনি নির্গমনও হ্রাস পাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএলআরআই দুগ্ধজাত প্রাণির জন্য মোট খাদ্য মিশ্রণ (সম্পূর্ণ মিশ্র খাদ্য) ও খনিজ মিশ্রণ তৈরি করেছে, যা হজম প্রক্রিয়াজনিত নির্গমন হ্রাসে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্র পরিসরে ঘাস সংরক্ষণের (সাইলেজ) প্রযুক্তি চালু করেছে, যা খরা, বন্যা বা খাদ্য সংকটের সময় খাদ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা দেয় এবং খাতে সহনশীলতা বাড়ায়।

উপদেষ্টা জানান, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে একটি ‘সমন্বিত মল ব্যবস্থাপনা নীতি’র খসড়া তৈরি করেছে, যা পরিবেশবান্ধব সার ব্যবস্থাপনা ও আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মল থেকে নির্গমন হ্রাসেও সহায়ক হবে। বিএলআরআই তাদের প্রধান কার্যালয়সহ আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোতে পাঁচটি বায়োগ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এসব কেন্দ্র থেকে উৎপন্ন জৈব বিদ্যুৎ খামার পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্যও কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে মল থেকে নির্গমন হ্রাসের পাশাপাশি বায়োসলারি ও জৈবসার থেকে আয়বর্ধক পণ্য উৎপাদনের দিকেও গবেষণা করছে।

তিনি বলেন, বিএলআরআই বাংলাদেশভিত্তিক নির্গমন পরিমাপক নির্ধারণে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেলের প্রথম স্তর থেকে উন্নত দ্বিতীয় স্তরে উত্তরণের লক্ষ্যে নির্গমন হিসাব পদ্ধতি আধুনিকায়নের কাজ করছে। এর ফলে খামারভিত্তিক উন্নয়ন, প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং সরকারি নীতিমালার বাস্তব প্রতিফলন নির্গমন পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হবে।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নির্গমন হ্রাস একসাথে নিশ্চিত করে ধান, দুধ ও মাংসের কম-কার্বন পণ্য হিসেবে বাজারজাতকরণ করলে দেশীয় কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি মূল্যে বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই ধরনের পণ্য ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে কৃষকের আয় ও জীবনমান বৃদ্ধি সম্ভব।

তারা বলেন, বাংলাদেশের কৃষিতে নির্গমন হ্রাস, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কার্যকর নীতিগত হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। ‘নিঃসরণ হ্রাস বাজার’ শীর্ষক এই আয়োজন সংশ্লিষ্ট খাতসমূহে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে একটি টেকসই ও যুগোপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও অবদান রাখবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা