× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঢাকা উড়াল সড়কের পথ যেন ফুরায় না

মাসুদুল হাসান

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:০৫ পিএম

ঢাকা উড়াল সড়কের পথ যেন ফুরায় না

পথ যেন ফুরায় না ঢাকা উড়াল সড়কে। ১৪ বছরেও শেষ হয়নি এর নির্মাণ কাজ। কবে শেষ হবে সে জবাবও কারো জানা নেই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশদারত্ব সংক্রান্ত বিরোধে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল বাংলাদেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প ঢাকা এলিভেটেডে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ। প্রায় ২ বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আইনি ঝামেলা মিটিয়ে প্রকল্পটির কাজ ফের শুরু হয়েছে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ এই মেগা প্রকল্পটির নির্মাণ পরিকল্পনা করা হয়। তবে চুক্তির পর ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে এ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। 

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয় ২০০৯ সালে। জানা যায়, ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিনিয়োগকারী ইতালিয়ান থাই ডেভেলমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেডের (ইতাল-থাই) সঙ্গে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকায় সংশোধিত চুক্তি করে সেতু বিভাগ। তবে প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি না থাকায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে ঘোষণা ছিল, ২০১৯ সালেই চালু হবে। পরে আরও তিন দফা সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন করা হয়। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) ডেডলাইনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে ঠিকাদার ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডকে (এফডিইসিএল) অবিলম্বে কাজ শুরু করার জন্য হুঁশিয়ারি দেয়। তখন প্রকল্প পরিচালক এএইচএম এস আকতার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের যে ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে, তা আর বাড়ানো হবে না।’ কিন্তু এবারও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় আবারও সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। তবে এবারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার শঙ্কা রয়ে গেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস 

এরপর পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১

পর্যন্ত নির্মাণ কাজের লক্ষ্যমাত্রা ৬৮ শতাংশ নির্ধারণ করা ছিল। তবে বাস্তবে অর্জিত হয়েছে ৫৫ শতাংশ। প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, বিলম্বের জন্য প্রকল্প ব্যয় বাড়বে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য বড় বোঝা হতে পারে। 

এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুরু থেকেই প্রকল্পের কাজে বিলম্বের জন্য বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে আইনি ও আর্থিক সমস্যা, অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয়ের বাধ্যবাধকতা এবং চূড়ান্ত নকশা অনুমোদনে বিলম্ব। ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত সমস্যারÑ বিশেষত, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পান্থকুঞ্জ পার্ক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনস্থ এলাকায় কিছু অংশের নকশা নতুন করে করতে হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, তৃতীয় ধাপে মগবাজার রেলক্রসিং থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত এখনও পর্যন্ত মাত্র ১২ শতাংশ ভৌত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে এক্সপ্রেস ওয়ের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখা যায়, কারওয়ান বাজার রেল ক্রসিংয়ের পর থেকে প্রকল্পটির অবশিষ্ট অংশের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। নির্মিত বিমের ওপর গার্ডার বসানোর কাজ চলছে। বড় মগবাজার দিলু রোড রেলক্রসিং চারুলতা মসজিদের পূর্ব পাশে ৪২৪ নম্বর পিলার পর্যন্ত ওপরে গার্ডার বসানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের অবশিষ্ট অংশে মালিবাগ রেলক্রসিং পর্যন্ত ‍আগে থেকে বিম বসানো ছিল। এখন গার্ডার বসানো হবে। একাধিক ড্যান্ডি ক্রেইন দিয়ে কাজ চলছে। 

এখানে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি একটি হ্যান্ডমাইকে পথচারীদের সতর্ক করছেন, যা ঝুঁকি এড়াতে অপ্রতুল। এই অংশে নির্মাণ কাজ চলা অবস্থায় নিচ দিয়ে মানুষের অবাধ চলাচলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মালিবাগ পার হলে দেখা যায়, প্রধান সড়কের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জায়গা নিয়ে খিলগাঁও ফ্লাইওভারে ওঠার আগ পর্যন্ত এলাকায় পিয়ার নির্মাণ কাজ চলছে। বাসাবো থেকে মুগদা মেডিকেল এলাকায় প্রধান সড়কের ডান পাশে দেওয়ালের বাইরের দিকে পিয়ার বসানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে তা প্রাথমিক অবস্থায় আছে। 

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি ওই বছরের মধ্যেই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

বাস্তবে কাজের অগ্রগতি কতটুকু এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম এস আকতার বলেন, ‘উড়াল সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি ৭৫.৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। মগবাজার, মালিবাগ, বাসাবো, কমলাপুর সব স্পটে প্রকল্পের পুরোদমে কাজ চলছে।’

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্পের কাজে নতুন করে পলাশীর দিকে তৈরি র‌্যাম্প নির্মাণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ রাজধানীর সার্ক ফোয়ারা মোড় সংলগ্ন ‘পান্থকুঞ্জ পার্ক’ ও হাতিরঝিল জলাধারের উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপাতত বহাল থাকছে। ফলে এই এলাকায় কোনো নির্মাণ কার্যক্রম চলবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। 

এদিকে চলতি বছরের আগস্টে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েকে মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে এই সংযোগের বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই সমীক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তবসম্মত কি না, তা নির্ধারণ হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ ফেরদৌস গণমাধ্যমকে জানান, ‘বুয়েটের মাধ্যমে এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে। এ ছাড়াও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বর্তমান বিনিয়োগকারীরা বিমানবন্দর থেকে যান চলাচল সহজ করার জন্য মহাখালীতে একটি নতুন র‍্যাম্প নির্মাণের জন্য আরেকটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করবে।’

তবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পেতে আরও প্রায় দেড় বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেননাÑ শেয়ার পরিবর্তন, বিদেশি ঠিকাদার ও আদালতের স্থগিতাদেশে অনেকদিন কাজ থেমে ছিল। বর্তমানে সব জটিলতা কেটে গেলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের নতুন প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা হবে, সেটিই এখন নগরবাসীর প্রশ্ন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা