ঢাকা ওয়াসা
ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:২৫ এএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:৩২ এএম
ফাইল ফটো
রাজধানীর দেড় কোটির বেশি মানুষের পানির জোগানদাতা ঢাকা ওয়াসা। এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ পদে নিয়োগ পেতে শুরু হয়েছে ত্রিমুখী তদবির। সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৩৭ জন আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর তিনজনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তারা হলেনÑ ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সালাম ব্যাপারী, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও তাকসিম সিন্ডিকেটের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্র্রকৌশলী মো. এনামুল হক। তাই কে হবেন ওয়াসার পরবর্তী এমডি, তা নিয়ে চলছে জোর লবিং।
জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসার এমডি নিয়োগের জন্য গত ২১ মার্চ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বয়সসীমা রাখা হয়েছিল ৬০ বছর। তবে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের জন্য বয়স শিথিল রাখা হয়েছিল। কিন্তু দুদিন পর নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সেটি কড়াকড়িভাবে ৬০ বছর নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, শুধু তাসকিম অনুগত প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এটি করা হয়। পরবর্তীতে আবার বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৩৭ জন আবেদন করেছিলেন। যোগ্যতা যাচাইয়ের পর আবেদনকারীদের মধ্যে তিনজনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। এই তালিকায় ১ নম্বরে রয়েছেন আবদুস সালাম ব্যাপারী। ২০১৮ সাল থেকেই তাকে এমডি করার প্রস্তাব থেকে তোলা হলেও বারবার বঞ্চিত হন। কিন্তু তাকসিম আমলে তথাকথিত অভিযোগ এনে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা হয়ে এমডি হওয়ার আবেদন করেছেন। অন্যদিকে ওয়াসায় এখনও তাকসিম সিন্ডিকেট সক্রিয়। ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত এমডি ছিলেন তাকসিম এ খান। তিনি ওয়াসায় গড়ে তোলেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সিন্ডিকেটকে ‘তাকসিম বলয়’ নামেই চেনেন। ২০২৩ সালে মে মাসে ওয়াসার চেয়ারম্যান ড. গোলাম মোস্তফা তাকসিমের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াসা মূলত রাজধানী নাগরিকদের পানির চাহিদা মেটানোর প্রতিষ্ঠান। অথচ এখানে নিয়োগ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন সবকিছুতেই সিন্ডিকেটের প্রভাব প্রবল। এর ফলে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে পানির দাম, নষ্ট হচ্ছে প্রকল্প, আর দুর্নীতির বোঝা চাপছে সাধারণ মানুষের কাঁধে। ওয়াসার এমডি নিয়োগ যদি যোগ্যতা ও সুশাসনের ভিত্তিতে না হয়, তবে সংস্থাটি আরও সংকটে পড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক এক সচিব প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ঢাকা ওয়াসা গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা সংস্থা। তারপরও ক্ষমতার বলয় ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। অতীতে সচিব থাকাকালে কিছু পদক্ষেপ নিতে গিয়ে তিনিই ঝামেলায় পড়েছিলেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সিন্ডিকেট-নির্ভরতা বাদ দিতে না পারলে আর সম্ভব হবে না। আবারও এমডি নিয়োগের বিষয়টি যদি সিন্ডিকেট-নির্ভর হয়, তাহলে অতীতের মতোই জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ আনোয়ার ফারুক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ওয়াসায় যে ধরনের আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে, তা প্রতিষ্ঠানটির সুশাসনকে পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমডি নিয়োগে যদি আবারও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করে, তবে দুর্নীতির চক্র ভাঙা সম্ভব হবে না। ওয়াসার মতো একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তি এমডি থাকা এবং পরে তার প্রভাবশালীদের প্রার্থী হওয়া প্রশাসনিক সংস্কৃতির বড় ব্যর্থতা।