প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৫৬ পিএম
বাংলাদেশে অল্পবয়সী কন্যাশিশু, বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন। অপরাধী ও ভুক্তভোগী উভয়ই তরুণ বয়সের হওয়ায় বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৪’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি জানান, ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি, উত্ত্যক্তকরণ, যৌতুক, বাল্যবিয়ে, গৃহকর্মী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ—এই আট ধরনের সহিংসতা গণমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়েছে। তাই এগুলোকে প্রাধান্য দিয়েই এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
আফরুজা আরমান বলেন, ধর্ষণের পর মামলা তুলতে চাপ, সালিশের মাধ্যমে আপোষের চেষ্টা—এসব বাধা সত্ত্বেও ভুক্তভোগীর মামলা করার প্রবণতা বেড়েছে। সামাজিক প্রতিবাদও আগের তুলনায় সক্রিয় হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা এবং লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাডভোকেট দীপ্তি শিকদার জানান, সহিংসতার ঘটনায় নানা উপায়ে বিচার প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়। মামলার দীর্ঘসূত্রিতা রোধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁরা আরও জানান, মহিলা পরিষদের আইনি সহায়তায় পরিচালিত মামলাগুলোর ৯৮ শতাংশেই সাফল্য এসেছে, তবে প্রতিটি মামলার রায় পেতে ২৫-২৬ বছর সময় লেগেছে।
সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমীক্ষায় দেখা গেছে অপরাধী ও ভিকটিম উভয়ই তরুণ বয়সের। এটি একটি বড় সামাজিক সংকেত। যে তরুণ একবার ধর্ষণের ঘটনায় জড়ায়, সে বারবার একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন ও অপরাধীর যোগসূত্র না ভাঙলে এ প্রবণতা কমবে না।
তিনি আরও বলেন, নারী বিদ্বেষী আবহ, সাম্প্রদায়িকতা ও অপরাধপ্রবণতার কারণে নারী ও শিশু প্রান্তিক গোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য নারীবান্ধব সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গণমাধ্যম ও নারী আন্দোলনকে একসাথে কাজ করতে হবে।