× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রকল্পে অনিয়ম

রাজউকের রাজকীয় বৃক্ষ রোপণ

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ০৮:৪৪ এএম

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১১:৩৩ এএম

রাজউক লোগো

রাজউক লোগো

রাজউক নামের সঙ্গেই যেন জড়িয়ে আছে রাজকীয় ব্যাপার। নইলে কি বড় আকারের একটি চারাগাছ ৮ হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি চারাগাছ ২ হাজার ৭০০ টাকা আর আমগাছের চারা ৩ হাজার টাকায় কেনা হয়? বাজারে আকারভেদে এসব চারার দাম ২৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা। এমন বিলাসী চারাগাছ কেনা হয়েছে ‘কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের উভয়পাশে ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায়। এটি বাস্তবায়ন করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেয় গৃহায়ন ‍ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাজারমূল্যের তুলনায় দাম যদি বেশি হয়, সেটা অনুসন্ধান করে দেখা উচিত। গাছের দাম সাধারণত এত টাকা হয় না। গাছ কেনায় কত টাকার অনিয়ম হয়েছে, সেটা খুঁজে দেখা দরকার। সেটা হোক পাঁচ টাকা, এটা তো অনিয়মই। এ কাজের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া উচিত।’

চারাগাছগুলো সেকশন সি খালের উত্তরপাড়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে লাগানো হয়েছে। প্রকল্পের নথি ঘেঁটে দেখা যায়, আরবরি কালচার খাতের আওতায় কুড়িল বিশ্বরোড হতে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার এলাকায় খালের দুই পাড়ে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৯১টি গাছ লাগানো হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে বিভিন্ন জাতের বড় চারাগাছ লাগানো হয়েছে ৮০০টি। এতে মোট ব্যয় হয়েছে ৬৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রতিটি চারার দাম পড়েছে ৮ হাজার ৬০০ টাকা। ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় মাঝারি আকারের চারাগাছ লাগানো হয়েছে ৮০০টি। প্রতিটি গাছের দাম পড়েছে ২ হাজার ৭০০ টাকা। নথিতে এই দুই ধরনের চারাগাছের নাম উল্লেখ করা হয়নি। প্রকল্প পরিচালকের কাছে নাম জানতে চাইলে তিনি বলতে পারেননি। তবে নথিতে আমগাছের চারার নাম উল্লেখ রয়েছে। সি সেকশনের খালপাড়ে আমগাছ লাগানো হয়েছে ৩ হাজারটি। প্রতিটি গাছের দাম পড়েছে ৩ হাজার টাকা। এতে মোট ব্যয় হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। 

গাছের বাজারদর যাচাই করতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সোনালী স্বপ্ন গার্ডেনে গিয়ে কথা হয় নার্সারিটির মালিক মো. আলামিনের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতিটি ছোট আমগাছ বিক্রি করেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় এবং আম ধরেছে এমন গাছ বিক্রি করেন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। মেহগনি ও সেগুনগাছ বিক্রি করছেন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। একই দামের কথা জানান সবুজনগর নার্সারি-২-এর কর্ণধার মো. বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, প্রতিটি গাছের খুঁটিসহ বেড়া বিক্রি করেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। 

পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হলে তারা গাছের দাম বাজারদরের সঙ্গে মিল রয়েছে কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মিটিংয়ে এই প্রকল্পের নানা অসঙ্গতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সেগুলো রেজ্যুলেশন বইয়ে লেখা আছে। এমনটা আর হবে না বলে তারা মৌখিকভাবে জানিয়ে অঙ্গীকার করেছিল। 

প্রকল্প পরিচালক ও রাজউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এসএম এহসান জামীল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দাম কত পড়েছে আমার জানা নেই। কাগজ না দেখে মন্তব্য করতে পারব না। কেনাকাটার বিষয়টি সেনাবাহিনী করে থাকে, আমি করি না। এ বিষয়ে তারাই ভালো জানাতে পারবে।’ খালের সেকশন সিতে অতিরিক্ত মূল্যের গাছ লাগানো হয়েছে, এটি কোন এলাকায় পড়েছেÑ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে জানান। 

সময় ও ব্যয় বেড়েছে লাফিয়ে

প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৫ সালে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালে। চার দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর করা হয়। প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৫ হাজার ১৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বিশেষ সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৫ হাজার ২৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বৃদ্ধি করে ১০ হাজার ৩২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা করা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় প্রায় অপরিবর্তিত থাকছে।

আরও যত অভিযোগ

প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে সাইন সংকেত কিমি পোস্ট এবং রোড মার্কিং খাতে ৬ কোটি টাকা অনুমোদন ছিল। দ্বিতীয় সংশোধনীর প্রস্তাবে ২৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি করে ৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে বরাদ্দের কোনো ব্যয় বিভাজন ছিল না। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। বরাদ্দের চেয়ে বেশি ব্যয় করতে চাইলে পরিপত্র অনুযায়ী পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। 

জেনারেল অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৪১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এই খাতের অনেক কাজই সড়ক নির্মাণ খাতের প্যাকেজ এবং ফিউচার লেন নির্মাণ খাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণের আগে পূর্বাচল আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ছোট পরিসরে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই প্রকল্পের আওতায় পূর্বের রাস্তা ভেঙে নতুন রাস্তা করা হয়েছে। তা ছাড়া প্রকল্পভুক্ত ১২ দশমিক ৬৮ কিমি রাস্তার ওপর দিয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।

কাজের চেয়ে বেশি দেখানোরও অভিযোগ উঠেছে পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণে। ফিউচার লেনের জন্য ১২৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১০ বর্গমিটার। বাস্তবে পরিকল্পনা কমিশন কাজ পায় ৪৪ হাজার ৩৮০ বর্গমিটার। অর্থাৎ প্রাক্কলনের অর্ধেকও কাজ পায়নি কমিশন।

কমিশনের সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিউচার লেনের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৩৪০ মিটার। গড়ে ফিউচার লেনের প্রস্থ ৩ দশমিক ৫ মিটার। ফিউচার লেনের গড় প্রস্থ ৩ দশমিক ৫ মিটার ও দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৩৪০ মিটার ধরা হলে মোট আয়তন হয় ৪৪ হাজার ৩৮০ বর্গমিটার। কিন্তু প্রাক্কলনে উল্লেখ করা হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১০ বর্গমিটার। 

প্রকল্পের ১১টি খাতে বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত ৬৩৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশনের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা