প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৫ ১১:৩৭ এএম
আবারও বন্ধ হলো রাজধানীর হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সেবা। বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে দেড় মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বন্ধ হলো গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ। গত সোমবার থেকে ওয়াটার ট্যাক্সিচালক ও কর্মীরা কাজে যোগ দেননি। ঘাটগুলোতে যাত্রী এলেও ট্যাক্সি না পেয়ে তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। এভাবে যাত্রীদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের কৌশলে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) হাতিরঝিলের গুলশান (গুদারাঘাট), রামপুরা ঘাট, পুলিশ প্লাজা ঘাট ও এফডিসি ঘাট ঘুরে দেখা গেছে সব জেটি ও কাউন্টার বন্ধ। ঘাটে নৌযানগুলো বাঁধা রয়েছে। রাজধানীর গুলশান ঘাটে কথা হয় ওয়াটার ট্যাক্সির যাত্রী রাশেদুল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বাসা বাড্ডা আর অফিস কারওয়ান বাজার। প্রতিদিন ওয়াটার ট্যাক্সিতে যাতায়াত করি। কিন্তু গত চার দিন ধরে বন্ধ ওয়াটার ট্যাক্সি। যাত্রীদের কথা ভেবে হলেও সংশ্লিষ্টদের ওয়াটার ট্যাক্সি চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’
প্রায় ৬০ জনের মতো কর্মী হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। তারা নিজেদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি কাউন্টারের এক কর্মী বলেন, ‘আমরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছি। আমাদের দাবি মানা হলে তবেই কাজে ফিরব।’
ওয়াটার ট্যাক্সির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান করিম গ্রুপের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কর্মীরা সোমবার থেকে ওয়াটার ট্যাক্সি চালানো বন্ধ রেখেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষ আন্তরিক। তবে কবে আবার ওয়াটার ট্যাক্সি চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’
হাতিরঝিলে বর্তমানে ১৫টি ওয়াটার ট্যাক্সি চলাচল করে। প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এই সেবার ওপর নির্ভরশীল। সেবা বন্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সেবা পরিচালিত হয় রাজউকের তত্ত্বাবধানে। সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ খন্দকার বলেন, ‘করিম গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কারণে ওয়াটার ট্যাক্সি চলাচল বন্ধ আছে। সম্ভবত কর্মীদের বেতন নিয়ে কোনো ঝামেলা আছে।’
প্রসঙ্গত, দেড় মাস আগে হাতিরঝিলে ওয়াটার ট্যাক্সি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান করিম গ্রুপ ইজারার কিস্তি হিসেবে তিন মাসের ভাড়া বকেয়া রাখায় রাজউক ওয়াটার ট্যাক্সি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। সে সময় পাঁচ দিন বন্ধ ছিল এ সেবা। তখন ভাড়া পরিশোধের পর রাজউক ওয়াটার ট্যাক্সি চলাচলের অনুমতি দেয়।