প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ২২:২৯ পিএম
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ২২:৩১ পিএম
দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। নানান ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন হচ্ছে না। বেশ কিছু কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে সার্টিফিকেট অর্জনই ছাত্রদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে পড়ালেখায় মনোযোগ কমছে তাদের। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে মেধাবৃত্তির সংখ্যা বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে। সর্বোপরি, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা দরকার।
শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর খামারবাড়ি বিএআরসি অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ বিষয়ক সেমিনারে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।
শিক্ষাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সাঈদ ফেরদৌস। এছাড়াও সেমিনারে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলার, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরআই সদস্যসচিব সৈয়দ রেজওয়ানুল কবীর।
অনুষ্ঠানে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, চাহিদা ভিত্তিক শিক্ষা প্রকৃতই বর্তমান সময়ের চাহিদা। কর্মমুখী বিশেষায়িত শিক্ষাই দেশের বিপুল তরুণ প্রজন্মকে জনসম্পদে রুপান্তর করতে পারে।
তিনি বলেন, কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষার প্রতি সমাজের কোনো প্রকার অবজ্ঞা সমীচীন নয়।
চাকরি, গবেষণা, প্রকৌশল, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি সকল বিষয়েই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যকার দূরত্ব ঘুছানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক ফায়েজ।
সভাপতির বক্তব্যে এহছানুল হক মিলন বলেন, তাদের দক্ষতা উন্নয়ন না হওয়ায় বেকার হয়ে ঘুরছে, জাতির মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন ব্যতিরেকে যেসব শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, তাদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই।
তিনি বলেন, শিল্পের সাথে শিক্ষার সংযোগ ঘটাতে হবে। উন্নত দেশগুলো শিক্ষার্থীদের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করেই উন্নত হয়েছে। যেসব শিক্ষা বর্তমান বিশ্বে সময়োপযোগী ও চাহিদাসম্পন্ন তা চিহ্নিত করে শিক্ষা কারিকুলাম বিন্যাস করতে হবে।
এসময় উন্নত দেশসহ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার শিক্ষা কৌশল আলোকপাত করে, কীভাবে তারা মেধা পাচার প্রতিরোধ করেছেন, তার কৌশল শিক্ষানীতিতে যুক্ত করার সুপারিশ করেন তিনি।