প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ২৩:৪৯ পিএম
রাজধানীর কদমতলী রায়েরবাগের মেরাজনগরে তামান্না আক্তার (১৯) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ওই গৃহবধূকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর তামান্নাকে হত্যা করেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা নায়েব উল্লাহ। পুলিশ নিহতের স্বামী নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।
কদমতলি থানার ওসি জানান, তামান্নার মৃত্যুর ঘটনায় যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে গতকাল শুক্রবার একটি মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা নায়েব উল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় নিহতের স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ নিহতের স্বামী নয়নকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
পুলিশ বলছে, তামান্না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নায়েব আলীর মেয়ে। দেড় বছরের এক কন্যাশিশু রয়েছে তার। স্বামী নয়নের সঙ্গে রায়েরবাগ মিরাজনগরে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে ওই গৃহবধূকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঢাকা মেডিকেল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যা না আত্মহত্যা ছিল, তা পরিষ্কার হবে।
তামান্নার চাচা জিয়াউল হক জিয়া জানান, ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ার পর থেকে স্বামী মোহাম্মদ নয়ন ও শাশুড়ি যৌতুকের দাবিতে তামান্নাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। তামান্নার বাবা বেশ কয়েকবার নয়নকে নগদ টাকা দিয়েছিলেন। কয়েক দিন আগে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে অসুস্থতার খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করেন, তামান্না গলায় ফাঁস দিয়েছিলেন এবং ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয়েছে। তামান্নার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।