প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৩৮ পিএম
সিগারেটের চার স্তরের কর হার সমান হওয়ায় সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে সিগারেটের মূল্যস্তরের ব্যবধান বেশি থাকায় ব্র্যান্ড পরিবর্তন (ব্র্যান্ড সুইচ) বেড়ে যাচ্ছে এবং বাজেট প্রস্তাবে ‘তদুর্ধ্ব’ শব্দের অপব্যবহারে রাজস্ব ফাঁকিও বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির স্বার্থে তামাকজাত দ্রব্যে সুনির্দিষ্ট করারোপের আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় ‘অনন্য কর হার : রাজস্ব আদায়ে প্রভাব’ শীর্ষক এক জিম্পোজিয়ামে তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর ট্যোবাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) যৌথভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে এ সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সুশান্ত সিনহা। তিনি জানান, গত ৯ জানুয়ারি সব স্তরে একই করহার নির্ধারণের পর উৎপাদন কমলেও রাজস্ব বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিগারেট থেকে রাজস্ব আয় ছিল ৩৭ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। তামাক কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় বেশি দেখানো ও খুচরা মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, ফলে বর্তমানে তামাক কর কাঠামো আধুনিকীকরণের কোনো বিকল্প নেই। আর এজন্য প্রাথমিকভাবে প্রতি শলাকা সিগারেটে ১ টাকা হারে সুনির্দিষ্ট করারোপ করতে হবে। কারণ মিক্সপদ্ধতিতে গেলেও সরকারের প্রতিদিন ২০ কোটি টাকা রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞ আলোচক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, সুনির্দিষ্ট করারোপের পাশাপাশি তামাকপাতা রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল জরুরি, কারণ শুল্ক প্রত্যাহারের পর দেশে তামাক চাষ বেড়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে সস্তায় তামাকপাতা বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, শুধু দাম বাড়ানো যথেষ্ট নয়, করহার ও মূল্য বৃদ্ধির সমন্বয় জরুরি। ‘তদুর্ধ্ব’ শব্দ ব্যবহারের কারণে সিগারেটের মূল্যের অংক জটিল হয়ে রাজস্ব ফাঁকি ও ব্র্যান্ড সুইচ বাড়ছে। এজন্য সুনির্দিষ্ট করারোপের পাশাপাশি জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিইআরের প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র প্রজেক্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার ইব্রাহীম খলিল। সিম্পোজিয়ামে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।