কাউসার আহমেদ
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ১২:১২ পিএম
টিসিবির ট্রাকসেল থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য কিনতে ভিড় করছে সাধারণ মানুষ। সোমবার রাজধানীর আব্দুল গণি রোড থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা
ছোট্ট একটি পুরনো প্লাস্টিকের ব্যাগ হাতে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ রাজধানীর গুলশানের গুদারাঘাট এলাকায় ভিড় ঠেলে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসেন টিসিবির ট্রাকের কাছে। স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড নেই, তবু আশা লাইনে দাঁড়ালে হয়তো কিছু মিলবে। টিসিবির লাইনে দাঁড়ানো প্রতিটি মানুষের গল্পই আলাদা- কেউ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হাতে পাচ্ছেন বাজারের চেয়ে সস্তায় তেল-চিনি-ডাল, আবার কেউ ফিরছেন খালি হাতে। কিন্তু সবার চোখে একটাই প্রত্যাশা যেন এই সেবা নিয়মিত ও আরও সহজ হয়, যাতে জীবনের চাকা সচল থাকে।
গত রবিবার থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবারও টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলে নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দিন কিছু স্থানে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলেও গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশান, বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মৌচাক, মোহাম্মদপুর ও মতিঝিলে সরেজমিনে ঘুরে ও খবর নিয়ে দেখা গেছে, পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। লাইনে দাঁড়ানো বেশিরভাগ মানুষই জানিয়েছেন, কোনো বড় ধরনের সমস্যা হয়নি, শান্তিপূর্ণভাবে পণ্য বিতরণ হচ্ছে।
অনেক স্থানেই বিক্রি শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব পণ্য শেষ হয়ে যায়। আবার কোথাও কোথাও ভিড় ও অপেক্ষায় থেকে থেকে অনেকে পণ্য না নিয়েই ফিরে যান।
বারিধারা এলাকায় বিতরণের দায়িত্বে থাকা লাভনি এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি আবু সাইদ জানান, ‘টিসিবির প্রতিটি প্যাকেজে রয়েছে দুই লিটার ভোজ্যতেল (প্রতি লিটার ১১৫ টাকা), এক কেজি চিনি (৮০ টাকা) ও দুই কেজি মসুর ডাল (প্রতি কেজি ৭০ টাকা)। পুরো প্যাকেজের দাম ৪৫০ টাকা।’
বাজারে যেখানে লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯, সেখানে ট্রাকে মিলছে ১১৫ টাকায়। ফলে দুই লিটারে সাশ্রয় হচ্ছে ১৪৮ টাকা। আবার দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি মিলিয়ে সাশ্রয় প্রায় ৩০০ টাকা। যা অনেক বড় স্বস্তির।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধের কাছে এগিয়ে গেলে তিনি জানান, ‘সকাল থেকেই দাঁড়িয়ে। নাস্তাও করিনি। শুনেছি ৫০০ জনকে দেবে, তাই ভোরেই চলে এসেছি।’
স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া ট্রাকের সামনে আসা নাজমা নামের এক নারী বলেন, ‘কয়েকবার আবেদন করেছি, কার্ড হয়নি। অনেকদিন পর এসেছি দেখি কিছু হয় কি না।’
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘সরকার আমাদের ভালোর জন্যই এ উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু যদি আরেকটু দাম কমাত, তাহলে আমরা আরও ভালো থাকতে পারতাম।’
তবে সবার অভিজ্ঞতা একই রকম নয়। রাশেদা আক্তার নামে এক নারী বলেন, ‘সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য পাইনি। আবার পরিচিত কয়েকজন লাইনে না দাঁড়িয়েও পণ্য পেয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেকে তো দু’বারও নেয়।’
গুলশান গুদারাঘাটে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে দায়িত্বে থাকা মেসার্স আল মদিনা এন্টারপ্রাইজের মোহাম্মদ রাজন বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে পণ্য নিয়ে গেলে দেখি আগে থেকেই মানুষ জড়ো হয়ে আছে। স্থানীয়রা আমাদের সহযোগিতা করছে। এ ছাড়া নতুন করে প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করায় কাজ আরও সহজ হয়েছে।’
মতিঝিলে পণ্য বিতরণ করছেন শেখ জেনারেল স্টোরের শাহাবুদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, ‘মাঝে মাঝে মহিলারা লাইন ভঙ্গ করে, কিন্তু আমাদের কর্মীরা সেটা সামলে নেয়। আমরা টোকেন দিয়ে পণ্য দেই, তাই ভুল হওয়ার সুযোগ নেই।’
নিয়মিত বিভিন্ন স্থানের ট্রাকসেলের খবর নিচ্ছেন জানিয়ে ঢাকা জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপ-সহকারী নিবন্ধক মোহাম্মদ আইন উদ্দিন বলেন, ‘বিতরণকারীরা নিজেরাই কল দিয়ে প্রতিনিয়ত আপডেট জানাচ্ছে। কোথাও তেমন কোনো অভিযোগ নেই।’