প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ০৮:৫২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
গতকাল থেকে নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য আবারও ট্রাকে ভর্তুকি মূল্যে তেল, চিনি ও ডাল বিক্রি শুরু করেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। প্রায় দুই মাস বিরতির পর মাসব্যাপী এ কার্যক্রম শুরু হলো। এর আগে, গত শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় টিসিবি। এতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকায় ৬০টি ট্রাকের মাধ্যমে এবং সারা দেশে নির্ধারিত স্থানে শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতিটি ট্রাক থেকে দৈনিক ৫০০ জন ক্রেতা সাশ্রয়ী দামে তেল, চিনি ও ডাল কিনতে পারবে। প্রতিটি পণ্যে বাজার মূল্য থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কম দামে পাবে।
গতকাল রবিবার বারিধারা কালভার্ট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে তিন সারিতে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা পণ্য সংগ্রহের অপেক্ষায় আছেন। স্মার্ট কার্ডধারীরা আগের নির্ধারিত দামে পণ্য পাচ্ছেন, আর সাধারণ ক্রেতারা লাইনে দাঁড়িয়ে স্লিপ সংগ্রহ করে নির্ধারিত দামে পণ্য নিচ্ছেন।
দুই মাস পর গতকাল টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির প্রথম দিনে হট্টগোল ও লুটপাটের খবরও পাওয়া গেছে। খিলগাঁও এলাকায় পরিস্থিতি নাজুক আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
এদিকে খুচরা বাজারে দুই লিটার সয়াবিন তেল ৩৭০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে সেখানে টিসিবি থেকে ২৩০ টাকায় পাচ্ছে, যা বাজারের তুলনায় ১৫০ টাকা কম। এ ছাড়াও মসুর ডাল বাজারের তুলনায় প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা করে কমে দুই কেজিতে একশ টাকা কমে কিনতে পারছেন ক্রেতারা। চিনির দাম ১৩০ টাকা বিক্রি হলেও টিসিবি থেকে ৫০ টাকা কমে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
লাভনি এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি আবু সাইদ বলেন, কোরবানির পর আজই আমরা ট্রাক সেল কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রতিদিন ৫০০ জনকে পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতিজন ক্রেতা ২ লিটার ভোজ্যতেল ২৩০ টাকা, ১ কেজি চিনি ৮০ টাকা এবং ২ কেজি মসুর ডাল ১৪০ টাকায় পাবেন। স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীরা পূর্বের দামেই পণ্য পাচ্ছেন।
কালভার্টের পাশে এক বছরের শিশু হামজাকে নিয়ে কিছুটা হতাশ চোখে টিসিবির লাইনের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন নাজমা বেগম। কাছে গিয়ে পণ্য পেয়েছেন কি না- জানতে চাইলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমার টিসিবির কার্ড নাই, আগে যখন ভোটার কার্ড দিয়ে টিসিবির পণ্য দিত তখন সব সময় কিনতাম, এখন কার্ড না থাকার করণে পাই না। কার্ডের জন্য কয়েকবার আবেদন করেছি, কিন্তু হয়নি। অনেকদিন পর এসেছি, যদি পাই নিয়ে যাব, নাহলে চলে যাব। এই জন্যে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।
সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ানো আবদুল কাইয়ুম বলেন, ৪৫০ টাকার স্লিপের মাধ্যমে তেল, চিনি ও ডাল দেওয়া হচ্ছে। অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কিছু লোক সামনে থেকে এসে নিয়ে যাচ্ছে। জিজ্ঞেস করলে বলছে, তারা নাকি পরিচিত। টিসিবির পণ্য নেওয়াতে সবচেয়ে বড় কষ্ট রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা। এই ব্যবস্থাটা যদি সরকার পরিবর্তন করত তাহলে আমরা যারা বয়স্ক আছি তাদের জন্য ভালো হয়।
রাশেদা আক্তার নামে এক নারী অভিযোগ করেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু কিছু পরিচিত লোক লাইনে না দাঁড়িয়ে পণ্য নিয়ে যায়। আবার কেউ কেউ দু’বারও নেয়। এই রোদে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর হলেও দাম কম বলে এসেছি। তুলনামূলকভাবে মানুষ কম, আশা রাখি আজ পণ্য নিয়ে বাড়ি যেতে পারব।
টিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিন (শুক্রবার ছাড়া) সারা দেশে এ কার্যক্রম চলবে। এর আওতায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৫টি, গাজীপুর মহানগরীতে ৬টি, কুমিল্লা মহানগরীতে ৩টি, ঢাকা জেলায় ৮টি, কুমিল্লা জেলায় ১২টি, ফরিদপুর জেলায় ৪টি, পটুয়াখালী জেলায় ৫টি এবং বাগেরহাট জেলায় ৫টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০০ জন ক্রেতাকে পণ্য বিক্রি করা হবে।
টিসিবি জানায়, যেকোনো ভোক্তা নির্ধারিত ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। তবে স্মার্ট কার্ডধারীরা বিশেষ সুবিধা হিসেবে পুরনো দামে পণ্য পাবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।