প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ০০:৩৯ এএম
গাজীপুরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে গলা কেটে হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছে ঢাকায় অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংবাদিক সংগঠন।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স, ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন করে এ বিচারের দাবি করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানানো হয়।
মানববন্ধনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, আজ (শুক্রবার) দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে তুহিন হত্যার বিচার চাওয়ার জন্য আমাদের রাজপথে নামতে হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। আজ যদি ইন্টেরিমের কোনো উপদেষ্টার পরিবারের কাউকে খুন করা হতো, তাহলে কি গ্রেপ্তারে এত সময় লাগত? লাগত না। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি হামলা-মামলা, খুনের শিকার হয়েছে যে পেশাজীবীরা, তারা হলেন সাংবাদিক। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের পর সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছে সাংবাদিকরা। অথচ আমরা কী পেলাম? আমাদের দিন-দুপুরে হত্যা করা হয়, আমরা কোনো নিরাপত্তা পেলাম না।
গণমাধ্যম কর্মী আকরাম খান বলেন, এই মানববন্ধনে দাঁড়ানো আমাদের জন্য দুঃখজনক। ৫ আগস্টের আগে দেখেছি সাংবাদিক হামলা-মামলা, হত্যার শিকার হয়েছেন। আমরা আশা করেছিলাম বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে এসবের অবসান হবে কিন্তু তা হয়নি। একটি স্বাধীন দেশে কেন সাংবাদিকরা হত্যার শিকার হবে? গাজীপুরের ঘটনাটি পুলিশের সামনেই হয়েছিল, অথচ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আবেদন, সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
অন্য এক গণমাধ্যম কর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচার চাইতে মানববন্ধন করেছি। কয়েক দিন পর হয়তো অনেকেই এ ঘটনা ভুলে যাব। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত পাইনি। শুধু সাগর-রুনি নয়, বেশিরভাগ সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের কোনো সুরাহা এখনও হয়নি। আমাদের দাবি থাকবে, দ্রুততম সময় তুহিন হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হোক ও বিচার নিশ্চিত করা হোক।
ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ১২টার দিকে মানববন্ধন করে। এ সময় মানববন্ধন থেকে রিয়াদুল ইসলাম যুবাহ বলেন, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ভাইরাল হওয়া ঘটনা ব্যতীত হাজার হাজার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে। আগে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া হতো কিন্তু এখন সরাসরি মেরে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দিয়ে বোঝা যায় দেশ কতটা সন্ত্রাসীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে! চাঁদাবাজির নিউজ করার কারণে সাংবাদিক ভাইদের পাথর দিয়ে থেঁতলে ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে, জুলাই-পরবর্তী সময়ে এ ঘটনা কাম্য নয়। আপনারা (অন্তর্বর্তী) যদি এমন ফাইজলামি করতে থাকেন তাহলে জুলাই আবার নেমে আসবে। অতিদ্রুত এই চাঁদাবাজদের বিচার করতে হবে।
মাহফুজ হাসান নামের অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, লাল জুলাইয়ের এক বছর সম্পন্ন হওয়ার পরেও আমাদের এ ধরনের ঘটনা দেখতে হচ্ছে। ইন্টেরিম সরকারকে বারবার চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বলা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জুলাই-পরবর্তী সময়েও আমাদের চাঁদাবাজের কারণে এমন ঘটনা দেখতে হচ্ছে। যারা সত্য উদ্ঘাটন করে তাদের নিরাপত্তা কোথায়?
জবিসাসের দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি সাকেরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক তুহিনের হত্যা কেবল একজন সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি করছি।
জবিসাস সহসভাপতি ও দ্য ডেইলি সানের প্রতিবেদক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বারবার এ ধরনের ঘটনা আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করে। সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ভূমিকা পালন করে, তাদের ওপর হামলা মানে সত্যকে দমিয়ে রাখা এবং পুনরায় স্বৈরাচারী মনোভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা। এই অপরাধের বিচার না হলে সমাজে নৈরাজ্য বাড়বে।