গণসাক্ষরতা অভিযান
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৬:১৫ পিএম
শনিবার বেলা ১১টায় ‘গণসাক্ষরতা অভিযান’ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর আয়োজনে মতবিনিময় সভায় বক্তারা। প্রবা ফটো
‘নারীকে বাদ দিয়ে নারী বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নয়’ এই দাবিকে সামনে রেখে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় ‘গণসাক্ষরতা অভিযান’ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় খসড়া আকারে ১৫ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী। প্রধান অতিথি ছিলেন নারী সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভীন হক। আরও বক্তব্য রাখেন খুশি কবির (নিজেরা করি), ফওজিয়া মোসলেম ও ডা. মালেকা বানু (বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ), গীতা দাস (নারীপক্ষ), শাহীন আনাম (মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন), মাহীন সুলতান ও ফেরদৌসী সুলতানা (নারী সংস্কার কমিশন), অধ্যাপক শারমিন্দ নিলোর্মী, ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম (সিপিডি), শাহজাদী ফানান্না জহুরা ও সামান্তা করিম (জুলাই আন্দোলন), সাঈদ আহমেদ (আইআইডি), জ্যোতি এফ গোমেজ (ক্যাথলিক এডুকেশন বোর্ড), ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও তপন কুমার দাশ (গণসাক্ষরতা অভিযান)।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি গঠিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের প্রক্রিয়ায় নারীদের উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রথম গঠিত ছয়টি কমিশনের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা চরম বৈষম্য এবং অসাংবিধানিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তারা।
সভায় বক্তারা বলেন, নারী নেতৃত্ববিহীন ঐক্যমত কমিশনের গঠন গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। জুলাই আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীরা অগ্রভাগে ছিলেন, অথচ এখন সেই নারীদেরই প্রতিনিধিত্ব নেইএমন উদ্বেগও প্রকাশ করেন বক্তারা।
সভায় খসড়া আকারে ১৫ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো: জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। নারী সংস্কার কমিশনের ৪৩৩টি সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা। কমিশনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতির মাধ্যমে নারীদের যুক্ত করা। সব জাতীয় কমিশন, বোর্ড ও কমিটিতে ৫০% নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটে নির্বাচন আয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার। নারীকে বাদ দিয়ে কোনো সনদ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা গণবিরোধী হিসেবে বিবেচিত হবে এবং নারী অধিকারের পরিপন্থী হবে।