× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিটি করপোরেশনের নিজস্ব মশার খামার

রাহাত হুসাইন

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৫ ০৯:০৬ এএম

সিটি করপোরেশনের নিজস্ব মশার খামার

চারদিকে টিন দিয়ে ঘেরা একটি নির্মাণাধীন অবকাঠামো। এর উত্তরে গুলিস্তান ফ্লাইওভার ও ব্যস্ত সড়ক, দক্ষিণে মুরগি পট্টির একটি অংশ আর পশ্চিম পাশে কাপ্তান বাজারের দ্বিতীয় কমপ্লেক্স। দক্ষিণ দিকের টিনের বেড়ার একাংশ ভাঙা; সেই ফাঁক গলে চোখে পড়ে ভয়াবহ এক দৃশ্য : নির্মাণাধীন এ মার্কেটের বেজমেন্টে জমে থাকা পচা পানিতে গজিয়ে উঠেছে কচুরিপানা; ভাসছে ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন এমনকি মরা মুরগি। তার ওপরে উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা।

এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন শেরেবাংলা মালেক শাহ মার্কেট, যার নির্মাণকাজ আটকে আছে প্রায় আট বছর ধরে। এখন এটি পরিণত হয়েছে এডিস, কিউলেক্স ও অ্যানোফেলিস মশার প্রজননকেন্দ্রে। ডিএসসিসির নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়াা তথ্য অনুযায়ী গত এক মাসে দক্ষিণ সিটির আওতাভুক্ত এলাকায় ১৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান স্মরণে জুলাইব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান চালাচ্ছে ডিএসসিসি। প্রতি শনিবার ডাকঢোল পিটিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চালায় মশক নিধন কার্যক্রম। অথচ ডিএসসিসির নিজস্ব এই ভবনেই কোটি কোটি মশার জন্ম হচ্ছে। তা নিয়ে বেখবর সংস্থাটি। 

প্রকল্প সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের এপ্রিলে ডিএসসিসি এই মার্কেট নির্মাণের কার্যাদেশ দেয় দ্য বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডকে। নির্ধারিত সময় ছিল ২০২০ সালের মার্চ, কিন্তু তা বাড়িয়ে নেওয়া হয় প্রথমে সেপ্টেম্বর ২০১৯, পরে আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত। এতে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। অবশেষে চুক্তি বাতিল করে নতুনভাবে দরপত্র আহ্বান ও শিডিউল অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা চলমান। মার্কেট নির্মাণ সেল জানিয়েছে, শেরেবাংলা মালেক শাহ মার্কেটের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নতুন নকশা তৈরি করেছে। প্রাক্কলন শেষ পর্যায়ে। কিছু অংশ এখনও বেদখলে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ একবার পরিষ্কার করলেও তা ছিল সাময়িক। চুক্তি বাতিল ও নতুন দরপত্র আহ্বানে সময় লাগছে। কয়েকদিনের মধ্যে তা আহ্বান করা হবে। 

নির্মাণাধীন শেরেবাংলা মালেক শাহ মার্কেটের একটি দোকানের মালিক আওয়াল হোসেন সেলিম। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এই মার্কেটে ৪০০ দোকান হওয়ার কথা। বেজমেন্ট নির্মাণের পর দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটের নির্মাণকাজ বন্ধ। সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন ও তাপসের দ্বন্দ্বে আটকে ছিল ভবন নির্মাণকাজ। সরকার পরিবর্তনের পরও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এতে আমরা বিপাকে আছি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও মার্কেটটি নির্মাণে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এখন সেটি পচা পানি, কচুরিপানা, পলিথিন, মশা ও আবর্জনায় ভরা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে লার্ভা ধ্বংসে কোনো স্প্রে বা পরিদর্শন কার্যক্রম নেই। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ‍উদ্যোগ নেই। বর্তমানে চলছে বর্ষা মৌসুম। জমে থাকা পানির পরিমাণ বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে মশার প্রজননের হারও। এ মার্কেটের সামনের সড়কে বিকালের পর শার্ট-প্যান্টের ভাসমান দোকান চালান মো. ফরিদ। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার পর মশার কামড় সহ্য করা যায় না। কয়েল জ্বালিয়ে বসি। আর পচা পানির দুর্গন্ধে টেকা মুশকিল।’

পুরান ঢাকা নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ইকবাল কবির বলেন, ডিএসসিসি নিজস্ব স্থাপনার খোঁজ রাখতে পারছে না। সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে না। জবাবদিহিতা না থাকায় সিটি করপোরেশন গা-ছাড়া ভাবে চলছে। ডিএসসিসি যদি নিজস্ব ভবন ও সম্পত্তির খোঁজ না রাখে, তবে মশা দমনে সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে। অভিযান চালিয়ে প্রচারণা বাড়ানো যায়, কিন্তু বাস্তব নিয়ন্ত্রণ আসে পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ থেকেই।

মশার আবাসস্থলের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেবে বলে জানালেন, ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা তথ্যটি পেয়েছি, যাচাই-বাছাই করে দ্রুতই ব্যবস্থা নেব। 

তথ্য পাওয়ার পরও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে, ডিএসসিসির অন্যান্য উদ্যোগও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মত দেন নগর বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত এই সরকারি অবকাঠামো মশাবাহিত রোগের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, সিটি করপোরেশনের দায়সারা অভিযান নয়, এসব স্থায়ী সমস্যার টেকসই সমাধানই জরুরি। বাইরে ধোঁয়া ছড়িয়ে ভেতরে মশা পালন করার এই ‘দ্বিচারিতা’ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর গ্রিন মডেল টাউন ও মান্ডা এলাকায় ছয় শতাধিক কর্মী নিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম চালায় ডিএসসিসি। সেখানে সংস্থার প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নাগরিকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অঞ্চলভিত্তিক এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা