প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:১৯ পিএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৫৪ পিএম
বিএনপির সমাবেশ কেন্দ্র করে শনিবার রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছবি : প্রবা
বিএনপির ঢাকার গণসমাবেশের পর নেতাকর্মীরা যেন নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসতে না পারেন সেজন্য কাকরাইল মোড়ে দফায় দফায় লাঠিমিছিল করছেন আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে বিএনপির সমাবেশ শেষ হওয়ার পর কাকরাইলের ভিআইপি সড়ক এখন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের খণ্ড মিছিল আর স্লোগানে মুখরিত। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও হকিস্টিক নিয়ে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁর সামনে জড়ো হতে চাইলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পরে তারা কাকরাইল থেকে বিজয়নগর মোড় হয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে যান। এসব মিছিলে আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগানের বাইরে বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে একের পর এক স্লোগান দিতে থাকেন নেতাকর্মীরা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় ও ফকিরাপুল মোড় থেকে কার্যালয়ের দিকে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পল্টনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুলিশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত ৪ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন আছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।
এদিকে বিভিন্ন চেকপোস্টে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে হয়রানি করা হচ্ছে না। বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষ করে ঘরে ফিরবেন সেই প্রত্যাশা। শুক্রবার, শনিবার সরকারিসহ অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক ছুটি। যে কারণে দুই দিন রাজধানীতে চাপ কম। চেকপোস্ট পরিচালনা নিরাপত্তার স্বার্থে, পুলিশের রুটিনওয়ার্ক।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) একেএম হাফিজ আক্তার বলেছেন, ‘বিএনপির সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তার শঙ্কা রয়েছে।’
কাকরাইল থেকে পুরানা পল্টন, দৈনিক বাংলা, আরামবাগ ও ফকিরাপুল মোড় হয়ে টিকাটুলী পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মোড়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা আরও সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিয়েছেন।
বিএনপির সমাবেশে যোগ দিতে আসা কর্মীদের সঙ্গে টিকাটুলী মোড়ে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মহানগরী যুবদলের এক কর্মী বলেন, ‘সমাবেশের পর আমরা যে-যার মতো বাড়ি চলে যাব। সমাবেশের পর করণীয় কী হবে তা আমাদের নেতারা নির্দেশনা দেবেন। সেন্ট্রাল অফিসের দিকে যাচ্ছি না আমরা।’
এদিকে সমাবেশ ঘিরে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকটা ছুটির আমেজ রয়েছে রাজধানীতে। ঢাকার সড়কে বাস চলছে না বললেই চলে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চললেও অন্যান্য দিনের চেয়ে সেগুলোর সংখ্যাও কম। রাস্তায় মানুষের সংখ্যাও অন্যান্য দিনের চেয়ে কম।