প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৫ ২০:৪৮ পিএম
আপডেট : ২০ মে ২০২৫ ২০:৫৫ পিএম
ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাস্থলের ভিডিও থেকে নেওয়া।
‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে হাক্কানী পাবলিশার্সের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বাসায় মধ্যরাতে ঢোকার চেষ্টার সময় আটক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেলের দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেখা নিয়ে বিকেলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষতে তারা যাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে না জড়ান সে বিষয়ে লিখিত নেওয়া হয়েছে।
ছাড়া পাওয়া ওই তিনজন হলেন- মোহাম্মদপুর থানা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বি, ঢাকা মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান সরকার ডিনার ও মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ট্রাফিক সহায়ক মোহাম্মদ জিসান উল্লাহ।
এর মধ্যে ‘নৈতিকস্খলনজনিত কারণে’ সাইফুল ইসলাম রাব্বিকে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বিকেলে সংগঠনটি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনের সদস্য (দপ্তর সেল) মারজিউর রহমান চৌধুরীর ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নৈতিকস্খলনজনিত কারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, মোহাম্মদপুর থানা শাখার আহবায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিকে সংগঠনের সব ধরণের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’
জানা যায়, সোমবার রাত ১১টার পর সিভিল পোশাক পরিহিত একদল লোক ধানমন্ডির ৪ নম্বর সড়কের ৩৬/১ এর হাক্কানী পাবলিশার্সের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বাসার সামনে অবস্থান নিয়ে ‘আওয়ামী দোসরদের ঠাঁই নাই’ বলে নানা স্লোগান দেন। এরপর বাসার দারোয়ানকে ধাক্কা দিয়ে চতুর্থ তলার বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেন তারা।
পরে ৯৯৯-এ কল করে পরিস্থিতি জানিয়ে অভিযোগ করার পর ঘটনাস্থলে আসে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বৈষম্যবিরোধী নেতারা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে বলে। কিন্তু পুলিশের কাছে গোলাম মোস্তফা নিজেকে অসুস্থ দাবি করেন এবং রাতে দরজা খুলতে রাজি হননি। এছাড়া মামলা না থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান সেখানে থাকা উপস্থিত নেতারা। একপর্যায়ে তারা পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওই তিন নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
ফেসবুকে এ ঘটনার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উদ্দেশে এক তরুণ বলেন, ‘আপনি কেন এইখানে কথা বলতেছেন এইভাবে? আপনি ওসি, আপনি গ্রেপ্তার করলেন না কেন। আমি বলছি, আমি বলছি...আপনি গ্রেপ্তার করেন।’
তখন ওসি বলেন, ‘ওনার নামে মামলা নেই।’ তরুণ বলেন, ‘মামলা আমি করব, আপনি গ্রেপ্তার করেন।’ ওসি জবাব দেন, ‘আমার সিনিয়র (জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা) বলছে, মামলা না থাকলে গ্রেপ্তার করা যাবে না।’ ওসি তখন তরুণদের উদ্দেশে ‘সিন ক্রিয়েট’ (অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি) না করার অনুরোধ করেন। তারপরও তরুণেরা গ্রেপ্তার করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তারা ওসিকে বারবার বলছিলেন, ‘ওসি টাকা খেয়েছেন।’
আজ বিকেলের দিকে আটক ওই তিনজনকে ছাড়িয়ে আনতে থানায় যান এনসিপি আবদুল হান্নান মাসউদ।
তাদের নেওয়ার পর এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন হান্নান মাসউদ। তিনি লেখেন, ‘মোহাম্মদপুর থানা বৈবিছাআর আহ্বায়কসহ তিনজনকে আটক করা হয় মব সৃষ্টির চেষ্টাকালে, যার ফলে বৈবিছাআর পরিচয়ে স্টুডেন্টরা ধানমন্ডি থানায় গিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করছিল। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারের অনুরোধে আমি সেখানে যাই। সেখানে গেলে প্রশাসনের অনুরোধে বিষয়টির মধ্যস্থতা করি, যেহেতু প্রশাসন ওদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ রুজু করেনি এবং করতেও চাচ্ছিল না।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আর তা ছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী একটা মঞ্চের ব্যানারে নিয়মিত মব সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের মধ্যেও একজন সেখানে ছিল, যেটা পরবর্তী সময়ে আমি জানতে পারি। এই বিষয়ে প্রশাসনকে পরিপূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে, ইনশা আল্লাহ এই মব সৃষ্টির মূল হোতারা দ্রুত এরেস্ট হবে। ডিএমপিকে ওদের ব্যাপারে ইনফর্ম করা হয়েছে।’