হাসনাত শাহীন
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৫ ১৩:৪৯ পিএম
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জুম বাংলাদেশ’ শনিবার শ্রমজীবী ও সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য সেগুনবাগিচায় ইফতারের আয়োজন করে। প্রবা ফটো
রাজধানীর সেগুনবাগিচার দুদক ও শিল্পকলা একাডেমির মাঝের খোলা রাস্তা। সেখানে সারি সারি মাদুর পাতা আসনে বসা শদেড়েক লোক। তার পাশেই কিছুটা বিক্ষিপ্তভাবে রাখা শতাধিক রিকশা; অটোরিকশাও আছে কিছু। একটু কাছে যেতেই বোঝা গেল মলিন ও করুণ মুখের দুই শতাধিক মানুষ; যাদের মধ্যে কেউ রিকশাচালক, কেউ হকার, কেউ দিনমজুর, কেউবা ভিক্ষুক। তারা সবাই বসেছে ইফতারের জন্য। বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীর কেউ সারি বেঁধে বসা মানুষগুলোর সামনে প্লাস্টিকের প্লেটে করে ইফতারি দিচ্ছেন, কেউ গ্লাসে পানি ও শরবত ঢেলে দিচ্ছেন। ইফতারি পেয়ে মুখে ঈষৎ হাসিতে ভ্রাম্যমাণ, শ্রমজীবী ও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো জানান দিচ্ছেন তারা বেশ খুশি।
রমজান মাস উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ, শ্রমজীবী ও সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য এমন খুশির আবহ তৈরি করেছে ‘জুম বাংলাদেশ’নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গত শুক্রবার; ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে কথা হয় সংগঠনটির কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে। তারা জানান, প্রতিবছর সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিতদের সেহরি ও ইফতার করায়। এবারও ইফতার ও সেহরির আয়োজন করেছে।
তারা বলেন, এখানে আগত অনেকেরই নিজের কোনো ঠিকানা নেই। একটুখানি খাবারের জন্য দিনরাত একাকার করে তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শ্রম দেন; কেউ কেউ আবার শুধুই ভবঘুরে। তাদের এই কষ্টের কথা মাথায় রেখে বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করতে পেরে আনন্দিত ‘জুম বাংলাদেশ’।
জুম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মো. শাহীন প্রধান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিগত তিন বছর ধরে আমরা এ আয়োজনটি করে যাচ্ছি। রোজাদার ব্যক্তিরা যাতে ইফতারি পেতে কষ্ট না পায় সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে আমাদের এখানে যে কেউ এসে খাবার খেতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ৫০০ মানুষের রান্নার কাজ করতে আমাদের অনেক পরিশ্রম হয়। তবু রমজানজুড়ে যেভাবেই হোক; আমরা এ কাজ চালিয়ে যেতে চাই। তবে ছিন্নমূল, ভাসমান রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটাতে কোনো সামর্থ্যবান ব্যক্তি যদি আমাদের সহযোগিতা করতে চায়; তাহলে আমাদের জন্য আরও ভালো হয়। আমরা তা সানন্দে গ্রহণ করব।’
জুম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আরও জানান, জুম বাংলাদেশ সেগুনবাগিচায় রান্নার জন্য একটি অস্থায়ী লাইভ কিচেন স্থাপন করেছে, যেখানে যে কেউ চাইলে সরাসরি তাদের কর্মকাণ্ড দেখতে পারবেন এবং সহায়তা করতে পারবেন।
কথা হয় ইফতার করতে আসা এক বৃদ্ধের সঙ্গে। তার নাম জামাল হোসেন। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রথম রমজান থেকে এখানে ইফতার ও সেহরি করছি। এবার রমজানে আমাগো লাইগা আল্লাহর রহমত পড়ছে। বাজারে তো সবকিছুর দাম বেশি, কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই এখানে আসি। এনাদেরকে আল্লাহ্ হেফাজত করুক।’