ইফতারির বাজার
হাসনাত শাহীন
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৫ ১১:০৬ এএম
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ফুটপাতসহ নামিদামি হোটেলে বসে ইফতারি আয়োজন। বুধবার রাস্তার পাশের এক দোকান থেকে ক্রেতাদের আকর্ষণের চেষ্টায় কয়েক দোকানি। প্রবা ফটো
কারওয়ান বাজার; রাজধানীবাসীই শুধু নয়Ñ দেশের অন্যতম বৃহৎ এ পাইকারি ও খুচরা বাজার সম্পর্কে দেশের সব অঞ্চলের মানুষেরই জানা। এ বাজারে প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য জিনিসেরও পৃথক পৃথক বাজার বসে। তবে রমজান মাসে এখানে চকবাজারের মতো আলাদা ইফতারির বাজার না বসলেও পাওয়া যায় বাহারি সব ইফতারসামগ্রী।
স্টার হোটেল অ্যান্ড কাবাব ও স্টার রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন নামিদামি হোটেলের সঙ্গে কারওয়ান বাজার জুড়ে অসংখ্য হোটেল-রেস্টুরেন্ট-বুফে আছে। যার সবগুলোতেই ইফতারির জন্য মেলে প্রয়োজনীয় ইফতারসামগ্রী। এর পাশাপাশি এ বাজারের বিভিন্ন জায়গায়, ফুটপাতে বিভিন্ন দামের ও রকমের ইফতারসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসে বিভিন্ন দোকানি।
হরেক পদের এবং দামের ইফতারি হওয়ার কারণও আছে। কেননা দেশের সর্ববৃহৎ কাঁচামালের পাইকারি আড়ত হওয়ায় এ এলাকাটি ব্যবসায়ী থেকে দিনমজুর, হকার, কুলি, মজুরসহ প্রায় সকল শ্রেণিপেশার মানুষের নিত্য বিচরণের এলাকা। যে কারণে এখানকার ইফতারির দোকানিরা তাদের দোকানগুলো সাজায় সব শ্রেণির মানুষের কথা মাথায় রেখেই।
গতকাল বুধবার দুপুরের পর থেকে ইফতারের আগে পর্যন্ত কারওয়ান বাজারের ভেতরে ও বাইরের বিভিন্ন স্থানের ছোট-বড় হোটেল ও দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, একদিকে চলছে ইফতারি তৈরির কাজ; অন্যদিকে ক্রেতাদের উদ্দেশে হাঁকডাক ছেড়ে নিজ নিজ দোকান থেকে ইফতারসামগ্রী কেনার আহ্বান। সেই সঙ্গে তারা ক্রেতাদের জানাচ্ছেন বিভিন্ন ইফতারি পণ্যের দামও। যেমনÑ আসেন; আলুর চপ ৫ টাকা, পিঁয়াজু ৫ টাকা, ডিম চপ ১০ টাকা... ইত্যাদি। মূলত দুপুরের পর থেকেই জমে ওঠে এ এলাকার ইফতারির বাজার।
অন্যদিকে এ অঞ্চলের প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, স্টার হোটেল অ্যান্ড কাবাব এবং স্টার রেস্টুরেন্টসহ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির লোকেদের জন্য হোটেলগুলোর চিত্র একেবারে ভিন্ন। এসব জায়গায় তেমন কোনো হাঁকডাক নেই; অনেকটা নীরবে চলছে ইফতারি বিক্রি ও ইফতার করার আয়োজন।
জানা গেলÑ এবারের রমজানে নিত্যপণ্যের দামের হেরফের হলেও কারওয়ান বাজার অঞ্চলের ইফতারির দাম আগের মতোই আছে। কারওয়ান বাজারের কাঁচামালের আড়তের পাশের ফুটপাতের এক ইফতারি বিক্রেতা জানালেন, রোজার মাস এলে প্রতিবছরই তো কমবেশি দাম বাড়ে। তবে এ বছর ইফতারির দাম বাড়াইনি। এর ঠিক পাশেই অবস্থিত এক হোটেলের ইফতারি বিক্রয়কর্মী জানালেন, প্রতিবছর ঢাকার অন্য এলাকাগুলোর তুলনায় কারওয়ান বাজারেই তুলনামূলক কমদামে ইফতারি বিক্রি হয়। এবারও তাই হচ্ছে। আমরা যে দামে ইফতারি দিচ্ছি এই দামে ঢাকার কেউ বিক্রি করতে পারবে না।
কারওয়ান বাজারের ফুটপাতের দোকানে ও ছোট ছোট হোটেলে ইফতারির দাম জানতে চাইলে বিক্রেতারা জানানÑ বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। আর কেজি হিসেবে জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। ডাব পাওয়া যাচ্ছে ৮০, ১০০ ও ১২০ টাকা দরে। হাঁকডাক দিয়ে তরমুজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে, মেশিনে ভাজা খোলা মুড়ি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অন্যদিকে কারওয়ান বাজারের স্টার কাবাব অ্যান্ড বেকারি, স্টার রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য হোটেল-রেস্টুরেন্টের ইফতারির দাম পাশের ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে তুলনামূলক বেশি। এখানে প্রতি পিস পনির সমুচা ২৫ টাকা, কিমা সমুচা ২০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৬০ টাকা, চিকেন কাটলেট ৬০ টাকা, চিকেন নাগেট ১০০ টাকা, চিকেন কারাজি ১০০ টাকা, চিকেন উইংস ৩০ টাকা, চিকেন ললিপপ ৬০ টাকা, চিকেন অনথন ২৫ টাকা, চিকেন ক্রামচিজ বল ৩০ টাকা, চিকেন তাওয়া ফ্রাই ৮০ টাকা, জালি কাবাব ২৫ টাকা, চিকেন স্প্রিং রোল ৩৫ টাকা, ড্রাম স্টিক ২৫ টাকা, চিকেন ফ্রাই ৮০ টাকা, চিকেন ক্রাম ফ্রাই ১৫০ টাকা, ভেজিটেবল রোল ২৫ টাকা।
এ ছাড়াও এবার রমজান সামনে রেখে বাজারে যথেষ্ট পরিমাণে খেজুর আমদানি হওয়ায় খেজুরের দাম একটু কমেছে। এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।