প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৫ ১৭:৪৪ পিএম
প্রবা ফটো
সিয়াম সাধনার মাস রমজানে নিত্যপণ্যের দামের হের-ফের হলেও রাজধানীর কারওয়ানবাজার অঞ্চলের ইফতারির দাম আগের মতোই আছে।
বুধবার (৫ মার্চ) কারওয়ানবাজারের আশে-পাশে ইফতারি পণ্যের দোকান ও রেস্টুরেন্টগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
স্টার কাবাব অ্যান্ড বেকারির এক বিক্রয়কর্মী জানান, আমাদের এখানে গত বছরের দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ ইফতার সামগ্রী।
কারওয়ানবাজারের আশেপাশের ইফতারি বাজার ঘুরেও দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ইফতার সামগ্রীর দাম খুব একটা বাড়েনি। তবে কমেওনি খুব একটা। কারণ যেসব পণ্য দিয়ে ইফতারি সামগ্রী তৈরী হয় তার মধ্যে অনেক পণ্যের দাম কমলেও ইফতারি আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো দেশের অন্যতম বৃহত্তম এ বাজার এলাকায়- শশা, লেবু, বেগুনসহ কিছু কাঁচা পণ্য রমজান সামনে রেখে গত কয়েকদিনে অনেকটা বেড়ে যাওয়া ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা আপেল, মাল্টা, আঙ্গুর ও কমলা’র দাম বৃদ্ধিতেও ক্ষোভ দেখিয়েছেন অনেকে। রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, রমজানে চাহিদার তুলনায় পণ্যের জোগান কম থাকলে দাম বাড়ে বাজারে। ইফতার কিনতে আসা বেশির ভাগ ক্রেতাই অস্বস্থির কথা জানিয়েছেন। কিন্তু আমাদের কিছু করার নাই।
এদিকে, স্টার কাবাবের প্রতি পিছ পনির সমুচা ২৫ টাকা, কিমা সমুচা ২০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৬০ টাকা, চিকেন কাটলেট ৬০ টাকা, চিকেন নাগেট ১০০ টাকা, চিকেন কারাজি ১০০ টাকা, চিকেন উইংস ৩০ টাকা, চিকেন ললিপপ ৬০ টাকা, চিকেন অনথর ২৫ টাকা, চিকেন ক্রামচিজ বল ৩০ টাকা, চিকেন তাওয়া ফ্রাই ৮০ টাকা, জালি কাবাব ২৫ টাকা, চিকেন স্প্রিং রোল ৩৫ টাকা, ড্রাম স্টিক ২৫ টাকা, চিকেন ফ্রাই ৮০ টাকা, চিকেন ক্রাম ফ্রাই ১৫০ টাকা, ভেজিটেবল রোল ২৫ টাকা। এ ছাড়া বাটার পরোটা ৬৫ টাকা, টানা পরোটা ৩৫ টাকা, কিমা পরোটা ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি পিস চিকেন টিক্কা ১২০ টাকা, বিফ শিক কাবাব ১৩০ টাকা, চিকেন বটি কাবাব ১২৫ টাকা, বিফ আদানা কাবাব ১৪০ টাকা, বিফ বটি কাবাব ১৬০ টাকা, চিকেন কাশমেরী কাবাব ১২০ টাকা, মাটন বটি কাবাব ১৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি, বুন্দিয়া ২২০ টাকা, ছোলা ১৮০ টাকা, চপ প্রতি পিছ বড় ২০ টাকা, আঙ্গুর ৩৮০ টাকা কেজি, আপেল আকার ভেদে ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা, তরমুজ প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। মেশিনে ভাজা খোলা মুড়ি ৮০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। হাতে ভাজা মুড়ির কেজি ১৫০ টাকা। এক মাস আগে এই মুড়ি ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেট মুড়ি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে, দোকানগুলোতে বিভিন্ন ব্রান্ডের শরবত তৈরির উপকরণগুলোর দাম কিছুটা বেশি। যেমন- ট্যাং, রুহ আফজা, ফস্টার ক্লার্ক, গ্লুকোজ, ফ্রুট স্যালাইন, ইসবগুল ও দেশি-বিদেশি কোম্পানির ফলের জুস। বিভিন্ন স্বাদযুক্ত শরবতের পাউডার ১-২ কেজি, ৮৪০, ৫০০, ৪৮০ ও ২৭০ গ্রামের কৌটা ও বয়ামে বিক্রি হচ্ছে। শরবত পানীয়ের বিদেশি পণ্যের মধ্যে রয়েছে নিউট্রি-সি ও ট্যাং। নিউট্রি-সি ওজন অনুযায়ী ৩০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ট্যাং ওজন অনুযায়ী ৩০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও দেশীয় প্রতিষ্ঠান হামদর্দ ফুড প্রোডাক্টের পানীয় রুহ আফজা ৩০০ মিলি ৩০০ টাকা, ৭৫০ মিলি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়াও এবার রমজানকে সামনে রেখে বাজারের যথেষ্ট পরিমাণে খেজুর আমদানি হওয়ায় খেজুরের দাম একটু কমেছে। এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। ঢাকায় প্রতি কেজি খেজুরের সর্বনিম্ন দাম ছিল ২৫০ টাকা। মাঝারি মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে। আর উন্নতমানের খেজুরের দাম ছিল এক হাজার ৬০০ টাকা প্রতি কেজি।
পশ্চিম তেজতুরী বাজারের এক ইফতার ও খেজুর বিক্রেতা জানান, রোজার মাস এলেই প্রতি বছরই তো কমবেশি দাম বাড়ে। এ বছর তেমন দাম বাড়েনি বলা যায়। আমরাও বাড়ায়নি।
এদিকে, ফলের দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতারা অনেকটা ক্ষোভের স্বরে বলছেন, প্রতিবছর রোজা এলেই দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা চলে। এবারও প্রায় সব ফল বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। মনে হচ্ছে এনিয়ে কারও মাথাব্যথা নাই।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফলের দাম বরাবরই একটু বেশি। তবে বিদেশি ফলের ওপর শুল্ককর আরোপে দাম আরও বেড়েছে।
কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাল্টা, কমলা ও আপেলের দাম কেজি প্রতি ২০-৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে প্রতি কেজি মাল্টা ৩০০-৩২০ টাকা, কমলা ২৭০-২৮০ টাকা, চায়না (মোটা) কমলা ৩০০-৩২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর ফুজি জাতের আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩১০-৩২০ টাকা কেজি এবং গ্রিন ও গালা আপেল ৪২০-৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।