প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৫ ২২:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকার শত বছরের অবিচ্ছেদ্য অংশ চকবাজারের ইফতারি ঐতিহ্য। আভিজাত্য, স্বাদ, মান সবদিক বিবেচনায় চকবাজারের মুখরোচক ইফতারি ঢাকার শাহী খানাপিনারই একটি অংশ। আধুনিকতা ও প্রযুক্তির এই সময়ে সবকিছুই পাল্টে গেছে। শুধু পাল্টায়নি চকবাজারের ইফতারির ঐতিহ্য। যতই দিন বাড়ছে ততই যেন বাড়ছে এখানকার ইফতারির চাহিদা। গতকাল রবিবার রোজার প্রথম দিনে চকবাজারে গিয়ে দেখা গেল, জমে উঠেছে এখানকার ঐতিহ্যবাহী ইফতারি বাজার।
রবিবার (২ মার্চ) দুপুরে চকবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানের প্রধান রাস্তাজুড়ে খোলা আকাশের নিচে ছোট ছোট দোকান সাজিয়ে হরেক রকমের ঐতিহ্যবাহী ইফতারি পণ্য নিয়ে বসেছে বিক্রেতারা।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর ২টার পর থেকে শুধু পুরান ঢাকার বাসিন্দারাই নন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা ছুটে এসেছেন ইফতারি কিনতে। দুপুর থেকে ইফতার পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এখানকার দোকানগুলোর ইফতারির মেন্যুতে পাওয়া যাচ্ছে- সুতি কাবাব, জালি কাবাব, টিক্কা কাবাব, মোরগ পোলাও, লাবাং, পরোটা, ছোলা, বিভিন্ন ধরনের কাটলেট, শাহি জিলাপি, পেঁয়াজু, শাকপুলি, ডিম চপ, কাচ্চি বিরিয়ানি, তেহারি, মুরগি-কবুতর ও কোয়েলের রোস্ট, খাসির রানের রোস্ট, দইবড়া, আস্ত রাজহাঁসের ফ্রাই, হালিম, নুরানি লাচ্ছি, পনির, পেস্তা বাদামের শরবতসহ বিভিন্ন শরবত, ছানামাঠা, কিমা পরোটা, ছোলা, ঘুগনি, বেগুনি, পাকুড়া, আলুর চপ ইত্যাদি।
এই এলাকার ইফতারির অন্যতম আকর্ষণীয় ও লোভনীয় খাবার হচ্ছে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই খাবারটি। এবার এর দাম রকমভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা।
‘বড় বাপের পোলায় খায়’-এর বিষয়ে বিক্রেতা মোহাম্মদ হোসেন জানান, তার দাদা প্রায় ৭৮ বছর আগে এখানে এই আইটেম নিয়ে বসতেন। এখন তিনি ও তার ভাই পূর্বপুরুষদের সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রতি রমজানে বিক্রি করছেন এই শাহী ইফতারির মেন্যু।
এখানে অন্যতম সুস্বাদু খাবার গরুর সুতি কাবাব বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি এক হাজার এবং খাসির সুতি কাবাব বিক্রি হচ্ছে বারোশ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি শাহী ছোলা ২৮০, ঘুঘনি ১৪০, চিকেন আচারি তেরশ এবং কাশ্মিরি বিফ আচারি দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া অন্য খাবারগুলোর মধ্যে জালি কাবাব ৩০, টানা পরোটা ৫০, কিমা পরোটা ৭০, কাঠি কাবাব ৪০ এবং ডিম চপ ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি দইবড়া ১০০ টাকা (৩টি), ফালুদা কেজি ২২০ টাকা, পেস্তা বাদাম শরবত ২৫০ টাকা লিটার, মুরগির ললিপপ প্রতিটি ৪০ টাকা, চিকেন ফিঙ্গার ৪০ টাকা, চিকেন স্যান্ডউইচ ৫০ টাকা, চিকেন স্প্রিং রোল ৪০ টাকা, ভেজিটেবল রোল ৩০ টাকা, চিকেন রোল প্যাটিস ৪০ টাকা, চিকেন প্যাটিস ৫০ টাকা, চিকেন শর্মা ৭০ টাকা, চিকেন রেশমি কাবাব ৫০ টাকা, মিনি পিৎজা ৭০ টাকা এবং চিকেন টিক্কা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আস্ত রাজহাঁসের রোস্ট বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়, কোয়েল পাখির রোস্ট ৮০ টাকা, মুরগি ফ্রাই ৪০০ টাকা, গুটি কাবাব কেজি ১২০০, দইচিড়া হাফ কেজির বাটি ৮০ টাকা, শাহী জিলাপি কেজি ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত, সবজি শাহী পরাটা পিস ৬০ টাকা, কিমা পরাটা ৮০ টাকা, প্লেন পরাটা ৪০, ফালুদা হাফ কেজি বাটি ১০০, পেস্তা বাদামের শরবত হাফ লিটার ১০০, পেঁপের শরবত ৫০, মালপোয়া পিস ২৫ টাকা, কিমা সমুচা ১৫ টাকা, গরুর কলিজার শিঙাড়া ১৫ টাকা, চিকেন ফ্রাই ৪৫ টাকা পিস, চিকেন শর্মা ৪০, চিকেন সাস্লিক ৩৫ টাকা, চিকেন কাকোজ ৪০ টাকা, দইবড়া ৫ পিস ১০০ আর ১০ পিস ২০০ টাকা, চিকেন টোস্ট ৪০-৪৫ টাকা, কাশ্মিরি নান ১০০-১২০ টাকা, গরুর কোপ্তা ২০ টাকা পিস এবং আস্ত তরমুজ ২০০ থেকে ৩০০ টাকাসহ নানান রকমের ফল।
চকবাজারের ইফতারি বাজারে কথা হয় লালবাগের লিমনের সঙ্গে। তিনি বলেন, চকবাজারের ইফতারির প্রতি অন্য রকম আকর্ষণ থেকেই এখানে আসা। তবে দাম বাড়ালেও স্বাদ ও মান আগের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে। ঢাকার শাহী খাবার ও মোগল ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা চকবাজারের ইফতারি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই থাকবে।