প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৬:৪১ পিএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:০২ পিএম
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে এক দফা দাবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের অবস্থান। প্রবা ফটো
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে এক দফা দাবিতে টানা ২৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতরা। তাদের দাবি, তিন ক্যাটাগরি নয়, দুই ক্যাটাগরিতে তাদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ২৫ থেকে ৩০ জন আন্দোলনকারীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে। এর আগে বুধবার সকাল ৯টায় তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।
আহতদের একজন মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ক্যাটাগরি থাকবে এ এবং বি। কিন্তু এখন এ, বি ও সি তিনটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। আমি নিজে সি ক্যাটাগরিতে আছি। আমার মাথায় এখনো বুলেট আছে। ১৫টা অপারেশন হয়েছে। আমি কিভাবে সি ক্যাটাগরিতে থাকি? প্রধান উপদেষ্টার সহকারী সচিব আমাদের জানিয়েছেন, বিষয়টা দেখছেন। কিন্তু দাবি আদায় না হলে আমরা এখান থেকে যাব না। জুলাই-আগস্টে যে বৈষম্যের জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি, সেই বৈষম্য আমাদের সঙ্গে হয়েছে।’
এ সময় পুলিশ ও কার্যালয়ের নিরাপত্তায় কর্মরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ (এপিবিএন) বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাদের ঘিরে অবস্থান নিয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, রাতে এখানে খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করেছেন তারা। সকালে অনেকে আশপাশে কোথাও গিয়েছেন। ফলে এখন মানুষের সংখ্যা কম। তবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জুলাই আন্দোলনে আহতরা রওনা হয়েছেন। দাবি আদায়ে তারাও বিকাল নাগাদ যোগ দেবেন।
আন্দোলনের শুরুতে আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিতে এলেও পরে গতকাল থেকে তারা ‘এক দফা’ দাবিতে অনড় থাকেন।
বুধবার রাতে আহত শিক্ষার্থী মো. আরমান বলেন, ‘আমাদের তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সরকার বৈষম্য তৈরি করছে। অনেক গুলিবিদ্ধ আছেন, যাদের সি ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। যা আমরা স্পষ্ট বৈষম্য দেখছি। তাই আমরা দু’টি ক্যাটাগরি চাই। আমাদের এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমরা একই জায়গায় অবস্থান করব।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্রথম উন্নত চিকিৎসার দাবিতে পঙ্গু হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের আহত কয়েক শ’ ব্যক্তি। সেদিন রাত ৩টার দিকে সরকারের চার উপদেষ্টার আশ্বাসে প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর তারা সড়ক ছেড়ে হাসপাতালে ফিরে যান। এরপর বিভিন্ন সময় আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতাল, রাজধানীর শাহবাগসহ বিভিন্ন জায়গায় তারা অবস্থান করেন।