প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:০২ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৪৮ পিএম
আহত ম্যাটস শিক্ষার্থী ঢামেকে চিকিৎসাধীন। প্রবা ফটো
চার দফা দাবিতে লংমার্চ নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে রওনা হওয়া মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) শিক্ষার্থীদের থামাতে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ সময় ১১ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে হাইকোর্ট এলাকার সামনে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়।
আহতরা হলেন- মো. মেহরাব, প্রাইম ম্যাটসের এরশাদুল হক, মো. জাহিদুল হাসান, মো. সোহাগ, মো. আমানুল্লাহ, মোছা. সায়মা, সুমাইয়া খাতুন, মোছা. তাহমিনা আক্তার তমা, মো. রাসেল, মো. শিহাব, মো. আরাফাত, জাহিদুল হাসান, নাইম, রায়হান গাজী, আসিবুল, সায়েম, এনামুল এবং আনারুল ইসলাম শিমুল।
তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
এর আগে শিক্ষাভবনের সামনে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা পুলিশি বাধা ও ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ের সামনে যেতে চাইলে শিক্ষা ভবনের সামনে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দও শোনা যায়।
পুলিশের তাড়া খেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কদম ফোয়ারা ও মৎস্য ভবন হয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের দিকে চলে যান।
সিরাজগঞ্জ সরকারি ম্যাটসের শিক্ষার্থী এবং ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সমন্বয়ক আহসান হাবিব বলেন, ‘আমাদের এখানে খুব ঝামেলা হচ্ছে। পুলিশ আমাদের লাঠিপেটা করছে।’
এর আগে বেলা ১১টার দিকে শাহবাগের সড়ক অবস্থান নেন ম্যাটস শিক্ষার্থীরা। সাড়ে ১১টার দিকে তারা অবস্থান নেন শাহবাগ মোড়েই অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সড়কটি বন্ধ হয়ে যায়।
সেখান থেকে বিকালে লংমার্চ শুরু করেন ম্যাটস শিক্ষার্থীরা। তবে লংমার্চ শুরুর আগে দুপুর ২টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে শাহবাগে আসেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তুহিন ফারাবি।
তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলার পর সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের আজহারুল হক রামিম, মুজাহিদুল ইসলাম, হাসিবুল ইসলাম শান্ত, আহমদ উল্লাহ মানসুর ও শামীম মিঞাকে নিয়ে সচিবালয়ে যান।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হাসিবুল ইসলাম শান্ত বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ে আছি। কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন কাল-পরশুর মধ্যে প্রজ্ঞাপন হবে। দেখা যাক কী হয়, এখনও আলোচনা চলছে।’
কিন্তু কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনার মধ্যেই শিক্ষাভবনে লাঠিচার্জের খবর আসে।
তাদের চার দাবি হলো-
১। ১ যুগের (১২ বছরের) অধিক সময় ধরে নানান অজুহাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এর শূন্য পদে বন্ধকৃত নিয়োগ অভিযুক্ত সচল করতে হবে এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদ সৃষ্টি করতে হবে। (কারণ, ওখানে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসা শিক্ষায় শিক্ষিতদের এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য ঔষধের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়, যা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা)।
২। প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন, কোর্সের নাম পরিবর্তন (১৯৮৫ সালের সিদ্ধান্ত) সহ ২০২১ এর কোর্স কারিকুলামের ত্রুটি ও অসংগতি সমাধান করে নতুন ইন্টার্ন লগবুক প্রণয়ন করতে হবে।
৩। উচ্চশিক্ষা বঞ্চিত, বিএমঅ্যান্ডডিসি স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা প্রদান করতে হবে। এবং
৪। প্রস্তাবিত এলাইড হেলথ প্রফেশনাল বোর্ড খসড়া আইনের নাম পরিবর্তনসহ প্রস্তাবিত সকল ধারায় সংশোধনীসহ বাস্তবায়ন করতে হবে।