× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

'রি-ওয়েট ঢাকা' সংলাপ

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হলে জলাশয়-সবুজ প্রকৃতি বাঁচাতে হবে : উপদেষ্টা রিজওয়ানা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:০২ পিএম

বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষ্যে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে 'রি-ওয়েট ঢাকা' শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষ্যে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে 'রি-ওয়েট ঢাকা' শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হলে ঢাকার জলাশয় এবং সবুজ প্রকৃতি বাঁচানো ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষ্যে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে 'রি-ওয়েট ঢাকা' শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এসব কথা বলেন ।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, "জলাশয় না বাঁচালে ঢাকাকে বাঁচানো যাবে না। একটু বৃষ্টি হলেই রাজধানীর অনেক এলাকা কক্সবাজারের মতো পানিতে ডুবে যায়। খাল বা জলাধার পুনরুদ্ধার করা গেলে এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, সরকার ঢাকা শহরের ১৯টি খাল দখল-দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে দুঃখজনক যে, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও এ শহরে কার্যকর স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। খালগুলো এখন বর্জ্যস্তূপে পরিণত হয়েছে। মরে যাওয়া খাল খনন করতে গিয়ে তোষক-বালিশ থেকে শুরু করে প্লেট-বালতি পর্যন্ত পাওয়া যায়।"

উপদেষ্টা স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, লেক বা খালের পাড়ে শাকসবজি আবাদ করা হলে সেখানকার পরিবেশ যেমন ভালো থাকবে, তেমনি খাদ্যের চাহিদাও অনেকাংশে মেটানো সম্ভব। নাগরিকদেরকে নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে হবে, কেবল কর্মী হিসেবে থাকলেই হবে না।

রি-ওয়েট প্রকল্পটির ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এই সাইটে জলাধার সংরক্ষণ সংক্রান্ত ৫০০টিরও বেশি গবেষণাপত্র যুক্ত করা হয়েছে। সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সিদ্দিকুর রহমান সরকার। তিনি বলেন, ঢাকার প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যার বিশাল চাপে শুধু রাজউকের পক্ষে এ শহর সামলানো সম্ভব নয়। তাই নাগরিকদেরও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সুইডেনের দূতাবাসের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রথম সচিব নায়োকা মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রোম বলেন, জলাভূমি হলো একটি শহরের কিডনি। ঢাকার কিডনি এখন ডায়ালাইসিসের পর্যায়ে চলে গেছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। প্রকৃতি সংরক্ষণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের সহকারী অধ্যাপক ও স্থপতি ড. তানজিল শফিক বলেন, ঢাকার জলাভূমি রক্ষা করা হলে প্রতিবছর এটি ১০ হাজার কোটি টাকার সমমূল্যের পরিবেশগত সুবিধা দেবে। আমরা ভুলে যাই, প্রকৃতি এবং অর্থনীতি পরস্পরবিরোধী নয়। জলাভূমি সংরক্ষণ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক এবং পরিবেশগত টেকসইতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরডিআরসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ বলেন, "ঢাকার জলাভূমি পুনরুদ্ধারে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা এবং নাগরিক উদ্যোগের সমন্বয়ই হতে পারে টেকসই সমাধান।

সংলাপের দ্বিতীয় সেশনে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ড. আদিল মোহাম্মদ খান, স্থপতি খন্দকার হাসিবুল কবির, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম-সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, হাওর অঞ্চলের প্রতিনিধি জাকিয়া শিশির, নগর কৃষক শহিদুজ্জামান শ্যামল প্রমুখ।

সংলাপে বক্তৃতা দেন ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান। তিনি বলেন, "জলাভূমি শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি আমাদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এর সংরক্ষণে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। জলাভূমি রক্ষায় যুব সমাজের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ঢাকার জলাভূমি সঙ্কট কোনো দূরবর্তী সম্ভাবনা নয়; এটি এখনকার বাস্তবতা। সংলাপে বক্তারা একমত যে জলাভূমি রক্ষা না করলে ঢাকা নগরীকে বাঁচানো যাবে না। তবে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।

আয়োজকরা জানান, "রি-ওয়েট ঢাকা" প্রকল্পের আওতায় গুলশান-বনানী লেকের একটি অংশ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। করাইলের স্থানীয় কৃষি সংগঠন ‘নগর আবাদ’ এর মাধ্যমে লেকের পাড়ে প্রায় ৩০ ধরনের শাকসবজি চাষ করা হচ্ছে। এতে পানির গুণগত মান উন্নত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য বাড়ছে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।

আয়োজসূত্রে আরো জানা যায়, ‘রি-ওয়েট ঢাকা’ প্রকল্পটি যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এর নেতৃত্ব দিচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড এবং বাংলাদেশের রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি)। 

আয়োজকরা জানান, রি-ওয়েট প্রকল্পে আরও সহযোগিতা করেছে রিভার্সিং এনভায়রনমেন্টাল ডিগ্রেডেশন ইন আফ্রিকা অ্যান্ড এশিয়া (রিডা), ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইইডি) এবং ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট। কনসোর্টিয়াম মেম্বার হিসেবে আরও রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড, শেফিল্ড হ্যালাম ইউনিভার্সিটি, স্মিথ কলেজ, নগর আবাদ, ইয়ুথনেট গ্লোবাল এবং প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা