× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা

ছিনতাই পথে পথে, পুলিশ থেকেও নেই

আসাদুজ্জামান তপন

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ০১:০২ এএম

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ০৮:৫৬ এএম

গ্রাফিক্স : প্রবা

গ্রাফিক্স : প্রবা

রাজধানী ঢাকায় একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে চলেছে। বিশেষত ভোরের ফাঁকা রাজপথ আর রাতের অন্ধকারে ছিনতাইকারী চক্র বেপরোয়া। তবে দিনের আলোতেও থেমে থাকছে না ওরা। নগরীর যত্রতত্র অস্ত্রের মুখে লুটে নেওয়া হচ্ছে পথচলতি মানুষের সর্বস্ব। তাদের হামলায় গুরুতর জখম এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। পুলিশের হাতে ধরাও পড়ছে কিছু ছিনতাইকারী। তবু এই অপরাধের রাস টেনে ধরতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উল্টো দিন দিন যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে অপরাধী চক্র।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী রাজধানীতে ছিনতাই বৃদ্ধির সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, ‘বিশেষ অভিযান চলছে, আশা করি দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ শাখার গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্যমতে রাজধানীতে ৪৩২টি ছিনতাইয়ের স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, নগরীর কোনো এলাকাই এসব অপরাধীর দৌরাত্ম্যের বাইরে নেই। অভিজাত এলাকাগুলোতেও অনেকটা নির্বিবাদে মানুষের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা।

পুলিশ ও ঢাকার আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসে খোদ রাজধানীতে ছিনতাইকারীর হাতে নিহত হয়েছে ১৬ জন। চলতি জানুয়ারি মাসেও ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমের খবর হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনা। সেসবের সচিত্র বিবরণ উঠে আসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে। অথচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

রাজধানীসহ সারা দেশে ছিনতাইকারীদের বেপরোয়া অপতৎপরতার কথা স্বীকার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ বলছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে নানা কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থানা এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল কমে যাওয়ায় অপরাধীরা অধিক মাত্রায় সক্রিয়। তবে শিগগিরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ বরাবরই বলে যে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এটা তাদের গৎবাঁধা উক্তি। বাস্তব ক্ষেত্রে তাদের সেই উক্তির প্রতিফলন দেখা যায় না। 

পুলিশের পরিসংখ্যান বা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে ছিনতাইয়ের যে খবর পাওয়া যায় তা প্রকৃত ঘটনার চেয়ে অনেক কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছিনতাইয়ের ঘটনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। ফলে থানা পুলিশ ছিনতাইয়ের যে পরিসংখ্যান দেয় তা প্রকৃত ঘটনার চেয়ে অনেক কম।

আবার অনেকে বাড়তি ঝামেলা মনে করে বা হয়রানির ভয়ে থানা-পুলিশ পর্যন্ত যেতে চান না। হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা না ঘটলে খুব কমই মামলা হয়। আবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো দেখাতে থানা-পুলিশ অনেক সময় মামলা গ্রহণে গড়িমসি করেÑ এমন অভিযোগও আছে। 

প্রকাশ্যে ছিনতাই ও অপরাধ বেড়ে যাওয়া নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, শেষরাতের দিকে সাধারণত ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে। পুলিশকে ইনস্ট্রাকশন দেওয়া হয়েছে যাতে শেষরাতে প্যাট্রলিং বাড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের টহল বাড়িয়ে ছিনতাই যাতে কমিয়ে আনা যায় সে চেষ্টা চলছে। 

ডিএমপির অপরাধ শাখার এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজধানীতে ৪৩২টি ছিনতাইয়ের স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এই স্পটগুলো ঘিরে কমপক্ষে ৯৭৯ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। আর এসব ছিনতাইকারীর বেশিরভাগই বিভিন্ন থানায় করা ফৌজদারি মামলার আসামি। 

ডিএমপির মতিঝিল ও ওয়ারি বিভাগে কমপক্ষে ২১২ জন ছিনতাইকারী সক্রিয়। এ ছাড়া মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে প্রায় ৩৮৬ জন, রমনা ও লালবাগ বিভাগে ২১৭ জন এবং উত্তরা ও গুলশান বিভাগে ১৫৪ জন ছিনতাইকারী অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক অপরাধের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, সবুজবাগ, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, রামপুরা ও বাড্ডা থানা এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি

রাজধানীর আফতাবনগরে চায়না প্রজেক্ট এলাকায় গত ২৭ জানুয়ারি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুস সালাম হত্যার শিকার হন। ছিনতাইকারীরা তার মাথায় আঘাত করে অটোরিকশাটি নিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুস সালাম শেরপুর এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে রিকশা খুইয়ে চার দিন আগে ঢাকায় এসে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি চালানো শুরু করেছিলেন। 

পশ্চিম রামপুরায় বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের সামনে ২৬ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে রিকশা ছিনতাই করার সময় দুই পেশাদার ছিনতাইকারীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

এর তিন দিন আগে ২৩ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে ঢাকার হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সজল রাজবংশীকে গুলি করে তার কাছে থাকা ৭০ ভরি স্বর্ণ ও চার লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। তিনি কামরাঙ্গীরচর এলাকার ইতি জুয়েলার্সের মালিক। বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেলে করে চার-পাঁচজন দুর্বৃত্ত এসে তার বাঁ পায়ে দুটি গুলি করে সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

২১ জানুয়ারি গুলশানে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীসহ দুজনকে কুপিয়ে ৮০ লাখ টাকা এবং বেশ কিছু ডলার ও ইউরো ছিনতাইয়ের ঘটনা ‍ঘটে। এ ঘটনায় আহত দুজন হলেনÑ সিটি মানি এক্সচেঞ্জের মালিক আবদুল কাদের শিকদার ও তার শ্যালক আমির হামজা। রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে গুলশান-২ নম্বরে ডিএনসিসি মার্কেটের সামনে ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়।

২০ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে পল্টনে বিজয়নগর পানির ট্যাংক এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সাজু মোল্লা নামে এক তরুণ নিহত হন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

১৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে মতিঝিল থানার রাজারবাগ এলাকায় এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এসব দুর্বৃত্ত রিকশার গতিরোধ করে হত্যার হুমকি দিয়ে ওই নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে।

এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ইসলামপুরের একটি পোশাকের দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহকে মগবাজারে ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। ওইদিন ভোর পৌনে ৬টার দিকে নিজ বাড়ি ময়মনসিংহ থেকে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।

যা বলছে পুলিশ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় রাজধানীতে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বেড়েছেÑ এটা খোদ পুলিশই স্বীকার করছে। তারা বলছে, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ব্যাপক বদলি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন নতুন সদস্যকে ঢাকায় পদায়ন করা হয়েছে। ডিএমপির প্রতিটি থানায় নতুন বদলি হয়ে আসা পুলিশ সদস্যদের বড় অংশই রাজধানীর পথঘাট সেভাবে চেনেন না। নতুন তালিকাও হয়নি। এমন আরও অনেক প্রতিকূলতা আছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এমন বক্তব্য আংশিক সত্য, পুরোটা নয়। কেননা রাজধানীতে ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ম্য কেবল ৫ আগস্ট-পরবর্তী ঘটনা নয়। মূলত পাঁচ-ছয় বছর আগে থেকে ছিনতাইকারীরা নগরীতে বেপরোয়া। সাম্প্রতিক সময়ে এসে এর মাত্রা বেড়েছে।

পুলিশের নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ছিনতাইয়ের মামলা বেড়ে চলেছে। ২০১৯ সালে মামলা ছিল ৬ হাজার ৮৮০টি, ২০২০ সালে ৭ হাজার ২০০টি, ২০২১ সালে ৮ হাজার ৪৯৮টি, ২০২২ সালে ৯ হাজার ৫৯১টি, ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৪৭৫টি এবং গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৮৩টি ছিনতাইয়ের ঘটনা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা মেট্রোপলিটন ও রেঞ্জ এলাকায়, ১৫ হাজার ৪১৯টি।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী গত ২০ জানুয়ারি ডিএমপির ৫০টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত ওই মতবিনিময়ে তিনি বলেন, ‘ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশি টহল আরও জোরদার করতে হবে। যেকোনো সমস্যা তাৎক্ষণিক মোকাবিলায় থানা এলাকার প্রতিটি অলিগলিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদচারণা থাকতে হবে। যেসব মাইক্রোবাস বা প্রাইভেটকার অযথা ঘোরাঘুরি করে সেগুলো তল্লাশি করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য ভাটারা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মেসবাহ উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। ছুরিকাঘাতে আহত হওয়া সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী মোবারক হোসেন নাফিজকে তিনি গ্রেপ্তার করেছিলেন। এ ছাড়া চলমান বিশেষ অভিযানে অধিকসংখ্যক পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি এবং মোহাম্মদপুর থানার ওসিকেও পুরস্কৃত করা হয়।

সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার

পুলিশ জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি ভোরে উত্তরায় ছিনতাইকারী চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দুদিন আগে ২২ জানুয়ারি রাতে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরে কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই আটজনকে পাকড়াও করা হয়।

গত ২৪ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরা চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদকের কারবার, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে গত মঙ্গলবার টেলিফোনে বলেন, ‘ছিনতাই বেড়েছে এটা সত্য। কেন বেড়েছে সেটার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষকে পথে আরও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ অভিযান চলছে, আশা করি দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক এ বিষয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ছিনতাই কোনো সময় বেড়ে যায় আবার কখনও কমে আসে। অপরাধটির ধরনই এমন। তবে আমাদের সদস্যরা সব সময় সাদা পোশাকে রাজধানীর সর্বত্র সতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়লেও দ্রুতই কমে আসবে আশা করছি।’

ছিনতাইয়ের ব্যাপকতা বৃদ্ধি ও তা দমনে করণীয় বিষয়ে সাবেক আইজিপি খন্দকার হাসান মাহমুদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। শীতকালে রাতে রাস্তাঘাট কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে। সেই সুযোগে ছিনতাইকারীরা তৎপর হয়ে ওঠে। এটা সব সময়ই দেখা গেছে। এ ছাড়া থানাগুলোতে বদলি হয়ে আসা নতুন পুলিশ সদস্যদের রাস্তাঘাট চিনে দ্রুত পুরোপুরি তৎপর হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে সম্প্রতি চলমান বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তারের ঘটনা আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং ছিনতাই কমে পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে আশা করি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা