প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২২ ১৬:২৪ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৩৩ পিএম
পুলিশি বাধায় শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের বিক্ষোভ। ছবি : প্রবা
পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির জন্য দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে শ্রম মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ হয়েছে।
বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিকরা। মিছিলটি পল্টন মোড় ঘুরে জিরো পয়েন্ট হয়ে সচিবালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা লোহার ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
পরে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীমের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল শ্রম মন্ত্রণালয়ে একটি স্মারকলিপি দেন।
এতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ভাতা যুক্ত করে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জলি তালুকদার বলেন, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক, কিন্তু বিশ্বে সর্বনিম্ন মজুরি দাতা দেশ। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা সত্য। অথচ নিঃসন্দেহে দেশের এ শিল্পের পেছনে শ্রমিকের ভূমিকা ও অবদানই প্রধান।’
তিনি বলেন, ‘সরকার দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি না করলে শ্রমিকদের ক্ষোভ চলমান নিয়মতান্ত্রিক বিক্ষোভে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সরকারের উদাসীনতা অতীতের মতো আরও একটি শ্রমিক বিদ্রোহের জন্মদিলে তার দায় দায়িত্বও সরকারকেই নিতে হবে।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, ‘পোশাক শিল্পের মালিকরা অর্থনীতির চরম দুর্দিনে ডলারে মুনাফার অঙ্ক গুনছেন, কিন্তু শ্রমিক মজুরি পাচ্ছে টাকায় এবং ৫ বছর আগের মানদণ্ড অনুসারে। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়। এই মজুরি সে সময়ের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের প্রয়োজন, বাজারদর ও দাবির সঙ্গে সামান্যও সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বিদ্যমান মজুরি দিয়ে দেশের ৭৮ ভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের পক্ষে কোনো রকম জীবন ধারণ করাও সম্ভব হচ্ছে না।’
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জলি তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, কোষাধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, শাহীন আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক, ফারুক হোসেন প্রমুখ।