প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:৪১ পিএম
স্বাস্থ্যখাতে ‘কোভিড-১৯ ইমারজেন্সি রেসপন্স প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেসের (ইআরপিপি)’ কর্মীরা চাকরি স্থায়ীকরণসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে ডিজি হেলথের কার্যালয়ে সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। আগের দিন মঙ্গলবারও একই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
ইআরপিপি কর্মীদের তিন দফা দাবি হলো- চাকরি স্থায়ীকরণ, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর চাকরিতে বহাল, অপারেশন পরিকল্পনায় যুক্ত রাখা।
বুধবার বিকালে দেখা যায়, ইআরপিপির কয়েক শ কর্মী ডিজি হেলথের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছেন। তারা সারাদেশের ৬৪টি সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সদর হাসপাতাল, সকল মেডিকেল কলেজ, আরআরটি পিসিআর ল্যাব, বিশেষায়িত হাসপাতাল, রেফারেল সেন্টারে বিভিন্ন পদে কর্মরত।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে চিকিৎসক, কনসাল্টেন্ট (ল্যাব), নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, কম্পিউটার/ডাটা অপারেটর, ল্যাব এটেন্ডেন্ট, ওয়ার্ড বয়, আয়া ও পরিচ্ছন্নকর্মীরা রয়েছেন।
কথা হয় আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. আব্দুর রহমানের সঙ্গে। রাজধানীর আগারগাঁওস্থ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিসিনে কর্মরত তিনি। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ২০২০ সালে যখন বাংলাদেশে করোনা আঘাত হানে তখন ২০ জুন ইউএনএফপিএ, ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ এবং বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বিশেষ প্রকল্পে (পরবর্তীতে ইআরপিপির আওতায়ভুক্ত) ১ হাজার ১৫৪ ডাক্তার, কনসাল্টেন্ট (ল্যাব), নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, কম্পিউটার/ডাটা অপারেটর, ল্যাব এটেন্ডেন্ট, ওয়ার্ড বয়, আয়া ও পরিচ্ছন্নকর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আমরা করোনাকালে বিভিন্ন টেস্ট, পরবর্তীতে ডেঙ্গুসহ সকল ধরনের সংক্রামক রোগের টেস্ট করে আসছি। আমরা কোভিডকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। বর্তমানে আমাদের প্রকল্পটির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এই সময়ে আমরা প্রত্যেকের এ সব কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। দেশের ৬৪টি সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সদর হাসপাতাল, সকল মেডিকেল কলেজ, আরআরটি পিসিআর ল্যাব, বিশেষায়িত হাসপাতাল, রেফারেল সেন্টারে কাজ করছি। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে আমাদের মধ্য হতে বিগত সরকার ২০২ জনকে রাজস্বখাতে নিয়োগ দিয়েছে। বাকীদেরও স্থায়ীকরণের কথা থাকলেও তা করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ৩১ ডিসেম্বর আমাদের এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। আমাদেরকে এ সব পদে চাকরি স্থায়ী করতে গত ১৭-১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ডিজি হেলথের সামনে বিক্ষোভ করি। ডিরেক্টর এডমিন আবু হানিফ আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি বিষয়টি ডিজিকে জানাবেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি ভুলে গেছেন। এখন মাত্র ২০ দিন সময় আছে এই প্রকল্পের। এই সময়ে আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণে কোনো ধরনের কথা বলছে না। বর্তমানে সারাদেশে ১ হাজার ৪ জনবল কাজ করছে। তারা সকল ধরনের টেস্ট, ল্যাব টেকনোলজিস্ট থেকে শুরু করে সব বিষয়ে পারদর্শী। আমাদেরকে নিয়োগ না দিয়ে এসব পদে অন্যদের নতুন করে নিয়োগ দিতে চাচ্ছে। অথচ আমাদের চাকরির বয়সও নেই যে অন্যস্থানে আবেদন করব। মোট কথা আমরা এই কাজে পারদর্শী। এখাতে আমাদেরকেই নিয়োগ দিতে হবে।
খুলনা মেডিকেল কলেজে কাজ করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, আমরা টেস্ট ছাড়াও আইসিসি ও ইসিসিতে কাজ করি। আমাদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাজের পরিধি বাড়ছে। যেমন ডেঙ্গু থেকে শুরু করে সকল ধরনের সংক্রামক রোগের টেস্ট আমরা করছি।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিসিনে কর্মরত বিকাশ দাস বলেন, গত চার বছরে আমরা রেফারেল সেন্টারে ২৫-২৬ লাখ করোনা টেস্ট, সংক্রামক রোগের টেস্ট করেছি। সারাদেশেই ছেলে-মেয়েরা দায়িত্বসহকারে কাজ করলেও আমাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, আমাদের মধ্যে অল্প কিছু পদের লোক ছাড়া প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষিত। ইআরপিপির প্রথম প্রকল্পের ২০২ জনকে রাজস্ব খাতে নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রকল্পটির দ্বিতীয় মেয়াদে কর্মরত ১ হাজার ৪ জনকে রাজস্ব খাতে নিয়োগ না দিলে স্বাস্থ্যখাতে জনবলের সংকট দেখা দেবে। এতে আমাদের মতো বিপুল সংখ্যক লোক কর্মহীন হয়ে দেশের বোঝায় পরিণত হবে। তাই আমাদের তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।