বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:৩৫ পিএম
ভারতে বাংলাদেশ মিশনে হামলা এবং বাংলাদেশের পতাকাকে অবমাননার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। সমাবেশে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের মাধ্যমে ভারতের আধিপত্যবাদ মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা একটি প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় তারা ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, ‘গোলামি না আজাদি? আজাদি, আজাদি’, ‘দালালি না রাজপথ? রাজপথ, রাজপথ’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেবো রক্ত’, ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আপোস না সংগ্রাম? সংগ্রাম, সংগ্রাম’, ‘হাইকমিশনে হামলা কেন? দিল্লি তুই জবাব দে’, ‘ছাত্র-শ্রমিক-জনতা, গড়ে তোলো একতা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা সহ্য করতে পারে না। এরই ধারাবাহিকতায় আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা হয়েছে।
সমাবেশে ঐক্যের ডাক দিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার যে দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখি, দিল্লীর বর্তমান এস্ট্যাবলিশমেন্ট আমাদের সেই স্বপ্নে বারবার আঘাত করছে। বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলা ভিয়েনা চুক্তির লঙ্ঘন এবং আমাদের সার্বভৌমত্বে স্পষ্ট আঘাত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানাই- দেখুন উগ্র হিন্দুত্ববাদের নগ্ন চেহারা, দেখুন দিল্লীর আগ্রাসনবাদ কীভাবে প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর ঘাড়ে শ্বাস ফেলছে। যারা যারা এই আগ্রাসনের শিকার হচ্ছেন, তাদেরকে মুক্তির প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই আমরা। এই আগ্রাসন বিরোধী ঐক্যে নেতৃত্ব দিতে ঢাকা প্রস্তুত আছে, ঢাকা ইজ রাইজিং।’
এ ছাড়াও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জুলাই মাসে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যারা লড়াই করেছেন এমন সকল রাজনৈতিক দলমত ও পথকে বাংলাদেশ এবং সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে, বাংলাদেশের মানুষ সুখে আছে- এটা দিল্লির সহ্য হচ্ছে না। আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরা বলতো- বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই- আমাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অধীনত্ব কিংবা দাসত্বের সম্পর্ক নয়। নতুন বাংলাদেশে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিশ্চিত হবে ন্যায্যতা ও আমাদের স্বার্থের ভিত্তিতে। দিল্লীর বাঁধের কারণে আমাদের নদীগুলো মরে গেছে, আবাদি জমি শুকিয়ে গেছে। যেসব অসম ও পরিবেশ বিরোধি চুক্তির কারণে দিল্লি আমাদের জনগণ ও পরিবেশের ওপর এই আগ্রাসন চালিয়েছে, সেসব অসম ও পরিবেশ বিরোধী চুক্তি অচিরেই বাতিল ঘোষণা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকেই ভারতের মিডিয়াগুলো বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে আসছে। কিন্তু দিল্লির সরকার এই প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণেই উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করার পরেও বাংলাদেশের মানুষ ব্যাপক সংযম ও সম্প্রীতির পরিচয় দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জনগণ দিল্লির ষড়যন্ত্রকে অত্যন্ত দক্ষতা ও কৌশলের সঙ্গে মোকাবেলা করেছে। ভবিষ্যতেও দিল্লীর পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে সার্বভৌমত্বর প্রশ্নে দল-মত নির্বিশেষে সকল জনগণ একতাবদ্ধ থাকবে বলে আশা করি আমরা।’
জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সালেহ উদ্দিন সিফাত, এস এম সুজা, অনিক রায়, আশরাফ মাহদী, মানজুর আল মাতিন, প্রীতাম দাস, আব্দুল্লাহ আল আমিন, আলী আহসান জোনায়েদ, সাইফ মোস্তাফিজ ও মনীরা শারমিন প্রমুখ।