× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিক্ষার্থী নিহতের খবর সঠিক নয়, অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:২৫ পিএম

শিক্ষার্থী নিহতের খবর সঠিক নয়, অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ এবং ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তাই ডিএমপির পক্ষ থেকে সবাইকে অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ওই তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখিত ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন বলে অনেকেই অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা সঠিক নয়।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকালে ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ তালেবুর রহমান সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী অভিজিৎ হাওলাদারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি  ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একপক্ষে ৩৫ কলেজের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ইউনাইটেড কলেজ অব বাংলাদেশ (ইউসিবি), আর অপর পক্ষে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের জোট। শিক্ষার্থী অভিজিৎ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও এ মৃত্যুকে ঘিরে কয়েকদিন ধরেই ওই দুই গ্রুপ পরস্পর বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। কয়েকদিন ধরে তাদের মধ্যে ঘটছে সংঘর্ষ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও।

ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৬ নভেম্বব ডেমরার ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী অভিজিৎ হাওলাদার ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৮ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। ওই দিন রাতে তার পরিবার ও কলেজের কিছু শিক্ষার্থী ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। ২০ নভেম্বর পুনরায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের ৫০০-৬০০ শিক্ষার্থী ওই হাসপাতালে ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় প্রতিবাদকারীদের চাপে হাসপাতালের পরিচালক চার জন ডাক্তার এবং দুই জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে অভিজিতের চিকিৎসা সংক্রান্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে হাসপাতাল চত্বরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর স্থানীয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতে আসে। এ সময় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা তা না মানায় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের দুই ছাত্র আহত হন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এতে আরও বলা হয়, রবিবার (২৪ নভেম্বর) আনুমানিক ২টার দিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পুনরায় ভাঙচুর চালায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে তারা শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজে ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৫ নভেম্বর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের প্রায় ১২-১৫ হাজার শিক্ষার্থী শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও বাহাদুর শাহ পার্কে জমায়েত হয়। তারা আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে ডেমরার ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। আগে থেকে পুলিশ ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে অবস্থান করে। কিন্তু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা প্রতিহত করে লাঠিসোঁটাসহ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের দিকে অগ্রসর হলে যাত্রাবাড়ী মোড়ে পুলিশ পুনরায় বাধা দেয়। তারা বাধা অতিক্রম করে ওই কলেজে পৌঁছে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

ডিএমপি জানায়, ৩৫টি বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ইউনাইটেড কলেজ অব বাংলাদেশ (ইউসিবি) নামে একটি ফোরাম গঠিত হয়। অপরপক্ষে রাজধানীর ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ ও সরকারি কবি নজরুল কলেজ মিলে সাত কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের একটি জোট রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থী অভিজিতের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ৩৫ কলেজের ফোরাম ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পরস্পরের প্রতি ঘৃণার মনোভাব সৃষ্টি হয়।

ডিএমপি আরও জানায়, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সোমবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে রাজধানীর সূত্রাপুর ও ডেমরা এলাকায় পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েন করা হয়। মোতায়েন করা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা অতিক্রম করে ড. মাহবুবুর রহমান  মোল্লা কলেজের দিকে অগ্রসর হয়ে ওই কলেজে হামলা চালায়। পুলিশ যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য অতিরিক্ত বল প্রয়োগ থেকে বিরত থাকে। পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তা সত্ত্বেও উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলায় জড়িয়ে পড়ে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা