প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৩৭ পিএম
ডা. মিলন দিবসে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা। ছবি : প্রবা
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার সমাধি ও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
এ সময় বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি কেন্দ্রীয় নেতা মানবেন্দ্র দেব, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের ডা. হারুন অর রশিদ, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য, বাসদের জুলফিকার আলী, খালেকুজ্জামান লিপনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রুহিন হোসেন প্রিন্স শহীদ ডা. মিলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, স্বৈরাচারের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ভিত্তি উচ্ছেদ করেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘শহীদদের রক্তস্নাত আন্দোলনে বিজয়ের পর বিএনপি-আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলেও শহীদ মিলনসহ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ও অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের বিচার করেনি। বরং ওই পতিত স্বৈরাচার আর তার দোসরদের নিয়ে নীতিহীন রাজনীতি করে এরা নতুন নতুন কায়দায় স্বৈরাচারী ব্যবস্থা কায়েম করেছে। এদের ভিত্তিকে পাকাপোক্ত করেছে। এরা ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট তিন জোটের রূপরেখা ও আচরণবিধি অনুসরণ করেনি। এদের হাত থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে নীতিনিষ্ঠ শক্তির ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’
সিপিবি নেতা প্রিন্স বলেন, ‘তিন জোটের রূপরেখা ও আচরণবিধি আজও প্রাসঙ্গিক। আজ অনেককে রাজনৈতিক ঐক্য, সমঝোতার কথা বলতে শোনা যায়। আগে তিন জোটের রূপরেখা ও আচরণবিধি মানুন। তারপর ঐক্য সমঝোতার কথা বলুন।’
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য নুর আহমদ বকুল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাকির হোসেন রাজু, মোস্তফা আলমগীর রতন, সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, কিশোর রায়, বেনজির আহমেদসহ আরও অনেকে।
১৯৯০ সালের এই দিনে এইচ এম এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল মুহূর্তে আন্দোলনের সংগঠক ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন।
মিলনের আত্মদানের মধ্যদিয়ে সেদিনের স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়। অবশেষে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এইচ এম এরশাদের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। সেই থেকে প্রতি বছর ২৭ নভেম্বর শহিদ ডা. মিলন দিবস পালন করা হচ্ছে।