উচ্ছেদ অভিযান
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৫৭ এএম
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ফুটপাতের দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। প্রবা ফটো
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ফুটপাতের শত শত দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও সিটি করপোরেশন এই অভিযান চালায়। এ সময় ফার্মগেটের গ্রিনরোড থেকে শুরু করে খামারবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা কয়েকশ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করছেন এলাকার হকাররা।
এছাড়া মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানের শহীদ মতিউর পার্কে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫০০ গাড়ি জব্দ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
ফার্মগেট এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্য দুপুর ১২টার দিকে ফার্মগেটের গ্রিন সুপার মার্কেটের সামনে থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এ অভিযানে আনন্দ সিনেমা হল, ফার্মগেট সুপার মার্কেট, তেজগাঁও কলেজের সামনে ও খামারবাড়ি এলাকার সড়ক-ফুটপাতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হাজারখানেক দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিকাল ৩টার দিকে উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে কয়েকশ হকার। তারা ফার্মগেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ৩টার দিকে খামারবাড়ি মোড়ে সড়ক অবরোধ করে। সেখানে কয়েকটি গাড়ির ওপর হামলাও চালানো হয়। পরে তারা সেখান থেকে তেজগাঁও কলেজের সামনে মিছিল নিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা বিক্ষোভ করে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে চলে যায়।
বিক্ষোভরত হকার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পেটের দায়ে রাস্তায় দোকান করি। আমাদের সরিয়ে দিলে কোথায় যাব? কী করে খাব, কীভাবে সংসার চালাব?’ চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে মো. শফিক নামে আরেকজন বলেন, ‘আগে ফার্মগেটের প্রতিটা দোকান থেকে পুলিশসহ বিভিন্নজন চাঁদা নিত। তখন কোনো সমস্যা হতো না। এখন কেউ চাঁদা নিচ্ছে না, এখন আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তাহলে কি তারা আবার চাঁদা নিতে চায়! এটা হতে দেওয়া হবে না। আমাদের পেটে লাথি দিলে, আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’
ফুটপাত উচ্ছেদের বিষয়ে ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘শহরের মধ্যে ফার্মগেট খুবই ব্যস্ততম একটি এলাকা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। ফুটপাত ও সড়ক দখলে থাকায় জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি অপরাধ তৎপরতা বাড়ছে। তাই ফার্মগেট এলাকার ফুটপাত উচ্ছেদ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গত সোমবার ফুটপাত উচ্ছেদের বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছিল। তাদের চলে যেতে ঘোষণা দেওয়া হয়। অথচ তারা দোকানপাট সরায়নি। তাই পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে।’
যৌথ অভিযানে সেনাবাহিনী তেজগাঁও অস্থায়ী সোনাক্যাম্পের একটি দল অংশ নেয়। ক্যাপ্টেন আবরার বলেন, ‘যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের বিষয়ে আগে থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। জননিরাপত্তার স্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এ বিষয়ে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন দোকানপাটের জন্য জনসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। ফলে জননিরাপত্তার স্বার্থে ফার্মগেট এলাকায় ফুটপাত এবং সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান থাকবে।’
এদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানের শহীদ মতিউর পার্কে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫০০ গাড়ি জব্দ করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, গতকাল বেলা ১১টা থেকে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা ছিল। কিন্তু অভিযানের খবর আগেভাগেই জেনে যায় হকাররা। তারা তাদের ভ্যান ও গাড়িগুলো পাশের পার্কে লুকিয়ে রাখে। পুলিশ বাইরে অভিযান না চালিয়ে পার্কে অভিযান চালিয়ে এসব গাড়ি জব্দ করেছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার নজমুল হাসান বলেন, ‘গুলিস্তানে আমরা দিনে চারবার অভিযান চালাই। কিন্তু অভিযানে এসে রাস্তায় কোনো গাড়ি পাওয়া যায় না। আমরা তাই জানার চেষ্টা চালাই, এই গাড়িগুলো আসলে কোথায় যায়। পরে আমরা তথ্য পাইÑ অভিযানের কথা জানলে হকাররা গাড়িগুলো গুলিস্তানে শহীদ মতিউর পার্কে এনে রাখে। অভিযানিক দল চলে গেলে তারা আবারও রাস্তায় চলে আসে। তাই সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় গাড়ি রাখার স্থানে অভিযান চালানো হয়।’ তিনি বলেন, ‘তারা পার্কে টাকা দিয়ে থাকে নাকি ইজারাদার তাদের রাখে সে বিষয়ে আমরা জানি না। পার্কের ইজারা দিয়েছে সিটি করপোরেশন। তাই এখানে গাড়ি রাখা বৈধ না অবৈধ, সেটা পুলিশের পক্ষে বলা সম্ভব না। তবে তারা গাড়ি রাখার জন্য যে টাকা দেন এবং টিকিট নেন, সেই টিকিট আমরা দেখেছি। অভিযানে ডিএমপির ট্রাফিক, ক্রাইম, সিটি করপোরেশন ও সেনাবাহিনী সহযোগিতা করেছে।’
ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি, অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। গত ২১ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ১৫ দিনে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সাড়ে ২৪ হাজার গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। অবৈধ গাড়ি পার্কিং, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, রুট পার্মিট ছাড়া গাড়িসহ বিভিন্ন গাড়ি ছিল। এই রাস্তায় হকারের কারণে গাড়ি চলতে পারে না। প্রতিদিনই আমরা অভিযান চালাচ্ছি। রাস্তা দখলে ব্যবহৃত প্রায় পাঁচশ গাড়ি জব্দ করে বাজেয়াপ্ত করেছে সিটি করপোরেশন।’