প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:৩২ পিএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হঠাৎ করে মেট্রোরেলের একক যাত্রার কার্ড ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পাস নতুন করে ইস্যু করা এবং পুরোনো কার্ড রি-ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কেন মেট্রোরেলের এমআরটি পাস বন্ধ রেখেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)?
ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে নানা উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ডিটিসিএ-এর র্যাপিড পাস প্রকল্প থেকে জাপানি দাতা সংস্থা জাইকা চলে যাওয়ায় এমন জটিলতা তৈরি হয়েছে। আবার কেউ মনে করছেন, ডিটিসিএ'র কার্ড বিক্রি বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, জাইকার চলে যাওয়া না যাওয়ার সঙ্গে এমআরটি পাস ইস্যু ও রি-ইস্যু বন্ধের সম্পর্ক নেই।
এর আগে, গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ডিএমটিসিএলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত নতুন কার্ড ইস্যু এবং পুরোনো কার্ড রি-ইস্যু করার সুবিধা বন্ধ থাকবে।
মেট্রোরেলের লাইন-৬ এর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এমআরটি পাস আমাদের নিজস্ব। কিন্তু এটি ইস্যু ও রি-ইস্যুর কাজটি করা হয় ডিটিসিএ'র সার্ভারে। যদি কোনো কারণে তাদের সার্ভারে ত্রুটি হয়, তখন সেটি আর আমাদের সাপোর্ট দিতে পারে না। তখন বাধ্য হয়ে আমাদের কার্ড ইস্যু ও রি-ইস্যু করা বন্ধ করতে হয়। সার্ভারে কাজ চলছে বলে ওরা আমাদের জানিয়েছে। ফলে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ আছে।’
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-৬) অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক (ইলেকট্রিক্যাল, সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ট্র্যাক) মো. জাকারিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের একটি ক্লিয়ারিং হাউস আছে, যেটি ডিটিসিএর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের এ কার্ডটি শুধু মেট্রোরেল না, অন্য ট্রান্সপোর্টেও ব্যবহার করা যায়। ক্লিয়ারিং হাউসের সার্ভারটি ১৪ বছরের পুরোনো। এটি এখন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ক্লাউডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটির কাজটি করেছে ডিটিসিএ। সবমিলিয়ে তারা সাত দিন সময় চেয়েছে। কিন্তু মাইগ্রেশনের কাজটি এক দিনেই হয়ে গেছে। আশা করছি, এমআরটি কার্ড ইস্যু ও রি-ইস্যু আজকেই (৩ নভেম্বর) চালু হয়ে যাওয়ার কথা।’
উল্লেখ্য, মেট্রোরেলে যাতায়াতের জন্য এমআরটি পাস ও একক যাত্রা টিকিট সরবরাহ করে ডিএমটিসিএল। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেনার ঝামেলা এড়াতে নিয়মিত যাত্রীরা এমআরটি পাস কিনে থাকেন। এতে ব্যস্ত সময়ে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝুঁকি এড়ানো যায়। এর পাশাপাশি ভাড়া ১০ শতাংশ কমে পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, এমআরটি পাসধারীরা স্টেশনের টিকিট কাউন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ৩০ মিনিট পর পর্যন্ত মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারেন। এমআরটি পাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স রাখা যায়।