× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আতঙ্কের জনপদ মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছেই

পারভেজ খান

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৫৮ এএম

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:০০ পিএম

আতঙ্কের জনপদ মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছেই

রাজধানীর বৃহত্তর মোহাম্মদপুর এলাকা। কেউ বলছেন সন্ত্রাসের জনপদ, কেউবা বলে থাকেন অপরাধীদের অভয়ারণ্য। এই জনপদের মানুষ এখন নির্বিঘ্নে, নিরাপদে, শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। বাসা থেকে বের হলেই আতঙ্কে চেপে ধরে মনে। ভয় হয়, নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে তো? আবার ঘরে ফিরলেও ঘুমানোর আগে আরেক দুশ্চিন্তা পেয়ে বসেÑ রাতটা ভালোয়-ভালোয় কাটবে তো? সব মিলিয়ে এই হচ্ছে বৃহত্তর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দাদের হাল অবস্থা। বিশেষ করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকার সুযোগে এ এলাকায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে উঠতি বয়সের সন্ত্রাসীরা, যারা কিশোর গ্যাং নামে পরিচিত। গত কয়েক দিন সরেজমিন অনুসন্ধান চালানোর মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে নিরাপত্তা নিয়ে এই এলাকার মানুষের অতিমাত্রায় উদ্বেগের বিষয়টি।

৫ আগস্টের পর থেকে গত ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শুধু মোহাম্মদপুরেই খুন হয়েছে ১০ জন। এসব খুনের নেপথ্যে রয়েছে আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ ও বাজার দখল। প্রকাশ্যে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া, গোলাগুলি এই এলাকায় যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোহাম্মদপুর থানার একজন উপপরিদর্শক জানান, এই এলাকায় যত অপরাধ ঘটছে তার বেশিরভাগই ঘটাচ্ছে কিশোর বয়সি উঠতি অপরাধীরা। স্থানীয় রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের কতিপয় সাবেক আর বর্তমান কাউন্সিলরদের ছত্রছায়া বা নিয়ন্ত্রণে থেকেই ওরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও তারা এমন একটি অবস্থানে আছে যে, তাদের বিপক্ষে ব্যব্স্থা নিলে থানায় দূরে থাক, পুলিশ বিভাগেই কাজ করা সম্ভব হবে না। 

তিনি আরও বলেন, একসময় দেখতাম ভাসমান ও নিম্ন আয়ের কিংবা বস্তিতে থাকা পরিবারের সন্তানরা কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত হতো। এখন দেখা যাচ্ছে, উচ্চ মধ্যবিত্ত, এমনকি ধনীদের সন্তানরাও এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হচ্ছে। তাদের অনেকে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের পোশাক, চুলের কাটিং, দামি মোটরবাইকে চলাফেরা সবকিছুই অস্বাভাবিক। তাদের অধিকাংশই আবার মাদকসেবী। প্রায় সবার হাতেই রয়েছে লেটেস্ট মডেলের মোবাইল ফোন। পরনে দামি ব্র্যান্ডের পোশাক। মাদক, মোবাইল ফোন, দামি রেস্টুরেন্টে খাওয়া, ডিসকো পার্টিতে যাওয়া, গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এসব খাতের অর্থ জোটাতেই তারা মূলত অপরাধ জগতে ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া একটা দাদাগিরি ভাব দেখাতেও তারা পছন্দ করে। 

আলোচিত কিছু ঘটনা

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই ৩৩ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেনকে কাটাসুরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর নবোদয় হাউজিং এলাকায় স্থানীয় কবজি কাটা গ্রুপের মূলহোতা আনোয়ার, রংপুইরা আকাশ, রাফাত, তুষার ও আহমেদের নেতৃত্বে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ফাইটার বিল্লাল গাজী নামে এক যুবককে। ৪ সেপ্টেম্বর জেনেভা ক্যাম্পে সনু নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর শাহাদাত নামে এক যুবককে গ্রিন ভিউ হাউজিং এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর রায়েরবাজারে নাসির ও মুন্না নামে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সদ্য কারামুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের নির্দেশে কিশোর গ্যাং লিডার এলেক্স ইমন ও তার লোকজন এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে এজাহারের সূত্র ধরে পুলিশ জানায়। ২৪ সেপ্টেম্বর চাঁদ উদ্যানে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মান্নান হোসেন ও একই ওয়ার্ডের লাউতলা ইউনিটের নেতা রিয়াজ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। সন্ধ্যায় ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী এসে প্রথমে গুলি চালায়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদের আহত করে। ২ অক্টোবর রাতে স্বপ্নধারা হাউজিংয়ের ১ নম্বর রোড থেকে শুরু করে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন গলির মুখে ব্যারিকেড দিয়ে অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করে একদল সশস্ত্র কিশোর। তারা অন্তত ১৫-২০ জন পথচারীর টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় দুজন নারীকেও মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, এই ছিনতাইকারীদের বয়স ১৬ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। ১২ অক্টোবর গভীর রাতে সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের পোশাক পরে সংঘবদ্ধ ডাকাত তিনরাস্তা মোড় সংলগ্ন ‘আবু কোম্পানির বিল্ডিং’ নামে পরিচিত পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি বাসা থেকে সাড়ে ৭৫ লাখ টাকা ও ৬০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে। ১৬ অক্টোবর রাতে জেনেভা ক্যাম্পে গুলিবিদ্ধ হয়ে শানেমাজ ওরফে শাহনেওয়াজ ওরফে কাল্লু নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। গত দুই মাসে সানু, শাহেন শাহ ও সাগরসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন এই ক্যাম্পে। ১৭ অক্টোবর ভোরে বসিলা চল্লিশ ফুট এলাকায় এক সিএনজি অটোরিকশা চালককে কুপিয়ে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা। ১৯ অক্টোবর বসিলায় ছিনতাইকারীরা তিন ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে দুটি মোবাইল ফোন ও ৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ২০ অক্টোবর মোহাম্মদপুর হাউজিং লিমিটেড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলে করে ছয় ছিনতাইকারী প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ১১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ১৭ হাজার টাকার চেক ছিনিয়ে নেয়।

২২ অক্টোবর ভোরে মোহাম্মদিয়া হাউজিংয়ের ৬ নম্বর রোডে রামদা-চাপাতি নিয়ে মুরগিবোঝাই মিনিট্রাকের পথরোধ করে ৬-৭ জন তরুণ। তারা ২৪ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। ট্রাক থেকে মুরগি নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে গেলে মুরগির মালিক কাশেমকে কুপিয়ে জখম করা হয়। 

প্রতিবেদনে কয়েকটি সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করা হলো, যেগুলো থানা-পুলিশের নথিতে রয়েছে। এর বাইরে মোহাম্মদপুরের প্রতিটি অলিগলিতে প্রায়ই নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী অনেকে এখন আর থানা-পুলিশও করতে চান না। তাদের ভাষায়, গিয়ে কোনো লাভ হয় না। ফলাফল শুধু শূন্য নয়, মাইনাস। বরং বিপদ আরও বাড়ে।’

পুলিশের খাতায় ৩০ কিশোর গ্যাং

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বা ডিবি পুলিশের নথি অনুযায়ী মোহাম্মদপুর এলাকার তিন রাস্তার মোড়, চাঁদ উদ্যান, লাউতলা, নবীনগর হাউজিং, বসিলা চল্লিশ ফিট, কাঁটাসুর, তুরাগ হাউজিং, আক্কাস নগর, ঢাকা উদ্যান নদীর পাড়, চন্দ্রিমা হাউজিং, নবীনগর হাউজিং, বসিলা হাক্কার পাড়, আদাবর, শামলী হাউজিং, নবোদয় হাউজিং, তাজমহল রোড, নূরজাহান রোড, শ্যামলী রিং রোড, রায়েরবাজার, হুমায়ুন রোড ও বাবর রোডের আশেপাশে জেনেভা ক্যাম্প এলাকা, টাউন হল ও আসাদ অ্যাভিনিউয়ের আশপাশ, আজম রোড, ইকবাল রোডে কিশোর গ্যাং জাতীয় অপরাধীদের তৎপরতা বেশি। ছোটবড় মিলিয়ে এই এলাকায় রয়েছে ৩০টি কিশোর গ্যাং। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২২টি হচ্ছেÑ ঠেলার নাম বাবাজি, ডায়মন্ড গ্রুপ, সালাম পার্টি, আসসালামু আলাইকুম পার্টি, দে ধাক্কা গ্রুপ, ব্রেকফাস্ট পার্টি, টক্কর ল, পাটালি গ্রুপ, লাড়া দে, লেভেল হাই, দেখে ল-চিনে ল, ল ঠেলা গ্রুপ, কোপাইয়া দে, ভাইপার, তুফান, টিকটক, ডিসকো বয়েজ, বিগ বস, নাইন স্টার, এসকে হৃদয় গ্রুপ, রনি গ্রুপ ও বিচ্ছু বাহিনী।

সন্ত্রাসীদের গডফাদার কারা

মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা হাজী আব্দুল মতিন শেখ। বয়স ৮৫ বছর। তার মতে, স্বাধীনতার পর থেকেই রাজধানীর অন্য এলাকার মতো এখানকার বাসিন্দারা যে খুব শান্তিতে বসবাস করছেন তা নয়। বরাবরই এই এলাকা অপরাধীদের ‘আস্তাবল’ হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এলাকার যে পরিবেশ-পরিস্থিতি তাতে আর আস্তাবল নয়, এটাকে বলা যায় ‘সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’। রাত-বিরাতে ডাকাতি, লুটপাট, দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা, ছিনতাই, এলাকা ব্লক করে বা ব্যারিকেড দিয়ে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক বেচাকেনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

মোহাম্মদপুর এলাকার স্থানীয় আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অপরাধপ্রবণ এলাকা বা সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে মোহাম্মদপুরের পরিচয় অনেক আগে থেকেই। বলা চলে সত্তরের দশকে এই এলাকা থেকেই নিয়ন্ত্রণ হতো পুরো রাজধানীর অপরাধ জগতের একটি বড় অংশ। সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য হাজী মকবুলের ছত্রছায়াতেই এই এলাকায় গড়ে ওঠে রাজধানীর ভিন্ন একটা অপরাধরাজ্য। পরে বিভিন্ন সময়ে বৃহত্তর মোহাম্মদপুর এলাকার সন্ত্রাস আর অপরাধের গডফাদার হয়ে ওঠেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবু সাইদ বেপারি (মারা গেছেন), সলু (কারাগারে), সাদেক খান (কারাগারে), সলুর ভাই জয়নাল হাজী (মারা গেছেন), রতন (মারা গেছেন), মতিন (মারা গেছেন), সেন্টু, পাগলা মিজান, চিনু মিয়া, আদাবরের নবী, হারিস, আনিস, কাশেম, হাসু, ইকবাল, তুহিন, রাজু (মারা গেছেন) প্রমুখ। তাদের পরের প্রজম্মে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠেন পিচ্চি হেলাল, যোশেফ, কমিশনার রাজীব, আসিফ, বসিলার শামিম, মনির (বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী)।

মোহাম্মদপুরের একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, সলু, সাদেক খান, সেন্টু, আসিফ আহমেদ ও তারেকুজ্জামান রাজীব, চিনু মিয়া, পাগলা মিজান, হাসু, ইকবাল, তুহীন, নবী, হারিস, কাসেম এরা বর্তমানে গা ঢাকা দিয়ে দেশে বা দেশের বাইরে থাকলেও বৃহত্তর মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণের চাবি এখনও তাদের হাতেই। 

তাজমহল রোডের বাসিন্দা ডা. আলী আহমেদ মজুমদার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তিনি গত ৪০ বছর ধরে মোহাম্মদপুরে বসবাস করেন। তার মতে, নগরায়ণ বাড়ার কারণে এই এলাকায় বাড়ছে অপরাধ। এই সুবাদেই এখানে গড়ে উঠেছে এবং উঠছে কিশোর গ্যাং। এখন মূলত তাদের হাতেই জিম্মি স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের নেপথ্যে রয়েছে এলাকার প্রভাবশালী বড় ভাইরা। 

এখন দাপট কাদের

পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকলেও সম্প্রতি শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল জামিনে বেরিয়ে আসার পর এলাকার নতুন সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এই নতুন সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেÑ বাদল ওরফে কিলার বাদল, তার ভাই সুমন ওরফে কাইল্যা সুমন, বিল্লাল ওরফে ভাগনে বিল্লাল, সাবু ওরফে জলদস্যু সাবু, গালকাটা মোশারফ, কিশোর গ্যাং নেতা এস কে হৃদয়, রাসেল ওরফে ভাত রাসেল, পিঞ্জিরা রাব্বি, এলেক্স ইমন ওরফে জুট ইমন, রানা ওরফে গালকাটা রানা, লালু উদ্দিন লাল্লু, ঘাট বাবু, গ্যারেজ সোহেল, বাত রাসেল, মাহি, রনি ওরফে ভাগিনা রনি, তাজেল গাজী, জসিম, সাজ্জাদ, ভাইস্তা শাহীন, আশিক, ময়লা জামাল, সাব্বির, জাকির, মাসুদ, ভূঁইয়া সোহেল, চুয়া সেলিম, আরমান, পলু কসাই, ছটু মাসুদ, মনু, চারকু, আকরাম ও শাহ আলম, কারবারি সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, ভূঁইয়া সোহেল ও রাজ। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সবাই পুলিশ ও র‌্যাবের হালনাগাদ করা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। 

স্থানীয়দের মতে, এসকে হৃদয় আর কিলার বাদলের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন মহল্লায় বেশ কয়েকটি ভয়ংকর কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে। এসব চক্রের সদস্যরা মোহাম্মদপুরজুড়ে ছিনতাই, মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির আধিপত্য বিস্তার করেছে। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই কিশোর গ্যাং। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অথবা জমি দখলে বাধা দিলে কুপিয়ে হত্যা আবার কখনও গুরুতর আহত করা হচ্ছে। 

বাদল সম্পর্কে স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ’৯০ দশকের শেষের দিকে কাঁটাসুরের একসময়ের দাপুটে সন্ত্রাসী এনআইয়ের হাত ধরে তার অপরাধ জগতে প্রবেশ। ডিশ ব্যবসায়ী ইকবাল হত্যার মধ্য দিয়ে কিশোর বয়সেই বাদলের কিলিং মিশন শুরু। এরপর কাঁটাসুরের বাবুল হত্যায় জড়িয়ে পরিচিতি পায় কিলার বাদল হিসেবে। ২০০২ সালে কমিশনার রাজু হত্যা ও মোহাম্মদপুরে ডাবল মার্ডারের (বস্তাবন্দি জোড়া লাশ) ঘটনায় বাদল সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এরপর বাদল আত্মপ্রকাশ করে পেশাদার কিলার হিসেবে। ২০০৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর কাঁটাসুর এলাকায় ব্রাশফায়ারে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর মিরপুর থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয় তাকে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাদল কারাবন্দি ছিল। পরে জামিনে ছাড়া পায়।

পুলিশের ভাষ্য 

সার্বিক বিষয়ে মোহাম্মদপুর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং ডিএমপি তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার রুহুল কবির খান গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এ বিষয়ে তারাও সতর্ক আছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এখন সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে যেসব কর্মকর্তা আছেন তারা সবাই নতুন। ফলে তাদের এলাকা সম্পর্কে জানতে এবং বুঝে উঠতে সময় লাগছে। লোকবলও স্বল্প। এরপরও তারা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা