× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ই-টিকেটের সুফল পেতে সংস্কার চায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ২০:৩৮ পিএম

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ঢাকা সিটি বাস সার্ভিসে ই-টিকেটিং : যাত্রীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। ছবি : প্রবা

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ঢাকা সিটি বাস সার্ভিসে ই-টিকেটিং : যাত্রীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। ছবি : প্রবা

রাজধানীর মিরপুরকেন্দ্রিক বাস সার্ভিসে চালু হওয়া ই-টিকেটিং ব্যবস্থায় আশানুরূপ সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। টিকেটে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় সেবাপ্রাপ্তিতে অভিযোগ থাকলেও প্রতিকার মিলছে না। এমন নানা অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি গণপরিবহন ব্যবস্থায় ই-টিকেটিংয়ের সুফল পেতে বিভিন্ন সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ঢাকা সিটি বাস সার্ভিসে ই-টিকেটিং : যাত্রীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সমিতির নেতারা বলছেন, প্রতিটি ই-টিকেটে বাসের নাম, নিবন্ধন নম্বর, যাত্রা ও গন্তব্যের নাম, দূরত্ব, ভাড়ার অংক, ভ্রমণ তারিখ ও অভিযোগ কেন্দ্রের নম্বর থাকা। কিন্তু এখন যেসব টিকেট দেওয়া হচ্ছে সেখানে এগুলো নাই। কোনো কোনো টিকেটে শুধু ভাড়ার অংক লেখা আছে। সব তথ্য না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হলে পরবর্তীতে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ পাবেন না যাত্রীরা।

সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘টিকেট হচ্ছে বাস সেবার রসিদ। এতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যংযুক্ত না থাকলে বাড়তি ভাড়া আদায় হলে পরবর্তীতে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ হারাবেন যাত্রীরা।’

আধুনিক গণপরিবহন সেবায় ই-টিকেটিং ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুরুতেই ই-টিকেটিং নিয়ে যাত্রী ও বাস মালিক-শ্রমিকের মধ্যে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ই-টিকেটিং চালুর পর বিভিন্ন রুটে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন মালিকরা। এছাড়া বাসে দূরত্বের ব্যবধানে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

মোজাম্মেল হক বলেন, ই-টিকেট ব্যবস্থার সুফল পেতে হলে পরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলোর সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে এই খাতের আমূল সংস্কার করা না গেলে ই-টিকেটিং সিস্টেমে সিটি বাস সার্ভিস ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। কেননা ই-টিকেটে দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া আদায় নিশ্চিত করায় ভাড়া কমে আসছে। ফলে বাসমালিকের আয়ও কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বাসে কম্পানির জিপি ও অদৃশ্য খাতের রুট খরচ বন্ধ করা না গেলে অনেক পরিবহন মালিককে লোকসান দিয়ে বাস চালাতে হবে। যানজট, চাদাঁবাজিসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ সিটি সার্ভিসের বাস খাতে নতুন বিনিয়োগ আসছে না।’

আধুনিক গণপরিবহন সেবায় ই-টিকেটিং ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি এসব সমস্যার সমাধান চেয়েছেন।

আলোচনা সভার শুরুতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণ প্রবন্ধে বলা হয়, ই-টিকেটিং নিয়ে যাত্রী, বাসমালিক-শ্রমিকের মধ্যে শুরু থেকে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ই-টিকেটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কোথাও ভাড়া বেশি আদায় করা হচ্ছে। পর্যাবেক্ষণে দেখানো হয়, রামপুরা থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত আগে ২০ টাকা ভাড়া থাকলেও ই-টিকিটে বর্তমানে তা ২৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ আট কিলোমিটার এই পথে ২০ টাকা ভাড়া আদায় হওয়ার কথা। খিলক্ষেত থেকে মিরপুর-২ আগে ১৫ টাকা ভাড়া আদায় হলেও ই-টিকেট চালুর পর ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। 

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ই-টিকেটিং চালুর ফলে কোনো কোনো পথে ভাড়া কমেও আসছে। যেমন খিলক্ষেত থেকে মিরপুর-১১ পথে ৩০ টাকার ভাড়া ২২ টাকা হয়েছে। আসাদগেট থেকে মিরপুর-১ ২৫ টাকার ভাড়া ১৩ টাকায় নেমে আসে। শেওড়াপাড়া থেকে ধানমন্ডি-২৭ পর্যন্ত আগে ২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও ই-টিকেটিংয়ে এ ভাড়া ১৩ টাকায় নেমে আসে। রামপুরা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত আগে ২০ টাকা ভাড়া আদায় করা হলেও ই-টিকিটিংয়ে নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা। মিরপুর-১ থেকে গাবতলী আগে ভাড়া ছিল ২০ টাকা, ই-টিকিটিংয়ে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। মিরপুর-১ থেকে সাভার আগের ভাড়া ৪০ টাকা হলেও ই-টিকিটিংয়ে ৩০ টাকায় নেমে আসার চিত্র উঠে এসেছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, ভাড়া নির্ধারণের শর্ত অনুযায়ী চালক-সহকারীর নিয়োগপত্র, বেতন ও ওভারটাইম নিশ্চিত করা জরুরি। লক্কড়-ঝক্কড় বাস উচ্ছেদ করে, বাসের সার্বিক পরিবেশ উন্নত করে, সিটি সার্ভিস আধুনিক বিশ্বের আদলে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করে বাসের জন্য আলাদা ডেডিকেটেড লেনের ব্যবস্থাসহ নানামুখী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে মানুষ ধীরে ধীরে বাসমুখী হবে। মোটরসাইকেলসহ ছোট পরিবহনের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে, ফলে যানজট ও মানুষের যাতায়াত ব্যয় কমে আসবে।

আলোচনা সভায় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান বলেন, ই-টিকেটিং উন্নত বিশ্বে আগে চালু হলেও গত চার বছর আগে বাংলাদেশে চালু হয়েছে। রাজধানীর বাসে ভাড়া নৈরাজ্য দূরীকরণে ই-টিকেটিং চালু করা হয়েছে। ফলে ওয়েবিলের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের পাশাপাশি বাসে বাসে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে। রাজধানীতে ৩০ নভেম্বরের পর থেকে লক্কড়-ঝক্কড় বাস বন্ধ হয়ে যাবে। সব বাস সার্ভিস দৃষ্টিনন্দন করা হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর বাসে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আমরা নানাবিধ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। আমাদের মহাসচিবের নেতৃত্বে একাধিকবার প্রান্তিক পর্যায়ের বাসমালিকদের নিয়ে সভা হয়েছে। ই-টিকেটিং চালুর পর যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি লক্ষ করা যাচ্ছে এবং যাত্রীদের যেসব অভিযোগ আসছে সব অভিযোগ ধীরে ধীরে নিষ্পত্তি করা হবে।’

বিআরটিএর ঢাকা বিভাগের (ইঞ্জিনিয়ারিং) উপ-পরিচালক স্বদেশ কুমার দাশ আলোচনা সভায় যোগ দেন। তিনি বলেন, বিআরটিএ রাজধানীর বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করার লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আসছে। আগামীতে এই কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্না, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব এম মনিরুল হক, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমিতির সভাপতি মনজুর হোসন ঈশা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন আলোচনা সভায়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা