প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:০৩ পিএম
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:৫৩ পিএম
দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান ইসলাম তামিমকে হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রবা ফটো
জমির মালিক ও প্লেজেন প্রোপার্টি লিমিটেডের মধ্যে ভবন নির্মাণের চুক্তি ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরের রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পরেও ডেভেলপার তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে। এই ভবনের একটি ফ্ল্যাট কেনেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মামুন। এই নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রুহুল কবির খান এ তথ্য জানান।
মো. রুহুল কবির খান বলেন, ‘ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান ইসলাম তামিমকে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. আব্দুল লতিফ, মো. কুরবান আলী, মাহিন, মোজাম্মেল হক কবির ও বাঁধন।’
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে জমির মালিক ভবনের সাত তলায় নিজের ফ্ল্যাটে কাজ করতে যান। এ সময় মামুনের সহযোগিতায় ডেভেলপার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল লতিফসহ ২০ থেকে ২৫ জনকে নিয়ে দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা ও জমির মালিকের ছেলে তানজিল জাহান ইসলাম তামিমের ওপর হামলা করে। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় তামিমকে মনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এই ঘটনায় নিহতের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
হত্যায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ডেভেলপার কোম্পানির মালিক এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, ‘আমাদের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় দেখছি না। আমরা অপরাধ ও অপরাধী হিসেবে দেখছি। সে যেই হোক, তার দায় থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট দেব। আমরা প্রাথমিকভাবে তার সম্পৃক্ততা পাচ্ছি। এই ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল তা তদন্তে উঠে আসবে। এ ছাড়া মাদকের ওই কর্মকর্তাকে মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমরা তার সম্পৃক্ততার বিষয় তদন্ত করে দেখব। বিএনপি নেতা রবিউল ৩ নম্বর আসামি।’
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবীর বলেন, ‘হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব অবহেলার কারণে ইতোমধ্যে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার অবহেলা পেয়েছি।’