সংবাদ সম্মেলনে বাবা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:২৯ পিএম
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:০৭ পিএম
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ হলে ছেলে নিখোঁজ হওয়ার কথা জানান বাবা গোলাম মোহাম্মদ। ছবি : সংগৃহীত
‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর মো. নাসির উদ্দীন বাসায় একটি ল্যাপটপ নিয়ে যান। পরদিন তার বড়ভাই মো. মহিউদ্দিন তাকে ল্যাপটপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে জানান, ল্যাপটপটি তার জনৈক বন্ধুর। তিন দিনের জন্য ধার হিসেবে নিয়েছেন। একপর্যায়ে তার বড়ভাই তাকে বলে অন্যজনের জিনিস এভাবে ব্যবহার করতে নেই, দ্রুত এটা ফেরত দিয়ে দেওয়ার। এরপর নাসির তার বন্ধুকে ফোন দিয়ে ল্যাপটপ ফেরত নিয়ে যেতে বলে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে বের হয় নাসির। যাওয়ার সময় বলে যায় ল্যাপটপ ফেরত দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসবে। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
এভাবেই সাংবাদিকদের ছেলে নাসিরের নিখোঁজের বর্ণনা দিলেন বাবা গোলাম মোহাম্মদ। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম মোহাম্মদ বলেন, আমার ছোট ছেলে নাসির প্রায় ১০ দিন ধরে নিখোঁজ। আমার স্ত্রী সন্তানের দুশ্চিন্তায় পাগলপ্রায়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে বের হয়ে এখন পর্যন্ত ফিরেনি। আমি ও আমার পরিবার থানা হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে হয়রান ও পেরেশান। প্রশাসন থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাইনি।
তিনি আরও বলেন, ওইদিন রাত থেকেই নাসিরের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাতেই আশপাশের জায়গায় নাসিরকে খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু নাসিরকে পাওয়া যায়নি। ১৯ সেপ্টেম্বর সারা দিন সম্ভাব্য স্থান, কলাবাগান, পান্থপথ, শাহবাগ থানা ও ঢাকা মেডিকেলে খুঁজেও তার কোনো সন্ধান পাইনি। পরে ২০ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় জিডি (নং-১২৪৫) করি। জিডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। কিন্তু থানা থেকে আশানুরূপ কোনো রেসপন্স পাইনি। এতে আমরা প্রচণ্ড হতাশ। ইতোমধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর আমার ছেলের ব্যবহার করা ড্রয়ার ও খাতাপত্র খোঁজাখুঁজি করলে একটি বাদামি রংয়ের খামে ল্যাপটপ কেনার স্ট্যাম্প দেখতে পাই। যাতে ১ লাখ টাকায় ল্যাপটপটি কেনা হয়েছে বলে লেখা রয়েছে। ওই ল্যাপটপ কেনার বিষয়ে আমার পরিবার বা আমি কিছুই জানতাম না। ডকুমেন্টটি পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক রমনা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে জানাই এবং তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাই।