প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৪ ০০:২২ এএম
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪ ০০:২৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি ভবনের অফিস কক্ষ থেকে ককটেল-গোলাবারুদসহ জামায়াতের তিন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, কোষাদ্যক্ষ খন্দকার মিজানুর রহমান ও সদস্য মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ।
শনিবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তাদের গ্রেপ্তার করে।
সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোড সংলগ্ন ৫/এ অবসর ভবনের একটি অফিসে শনিবার বিকাল থেকেই অভিযান চালায় সিটিটিসি। ভবনটি দীর্ঘক্ষণ ঘিরে রাখা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।
অভিযান শেষে রাতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে কোটা আন্দোলন ঘিরে ঢাকা শহরে যে নাশকতা হয়েছিল তাতে জামায়াত ইসলাম ও শিবিরের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ও বিভিন্ন ডকুমেন্টস এবং গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এসব তথ্য পেয়েছে সিটিটিসি।
তিনি আরও বলেন, এই অফিস থেকে নাশকতার সমন্বয় করা হয়েছিল এবং নাশকতাকারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কে কোন এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে তার সমন্বয় করা হয়েছিল এই অফিস থেকে।
আসাদুজ্জামান বলেন, সাত মসজিদ রোড থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত যে নাশকতা হয়েছিল। সেই নাশকতার মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাশেদুল ইসলাম। এখান থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনেও হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল তার নির্দেশে। নাশকতায় আরও যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের নামও আমরা পেয়েছি। এরই মধ্যে জামায়াতের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সিটিটিসির উপ কমিশনার (ডিসি) মিশুক চাকমা বলেন, রাজধানীর ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোড সংলগ্ন ৫/এ অবসর ভবনে জামায়াতে ইসলামের অফিসে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসে নানা অপকর্ম পরিচালনা করেছে। এখানে অভিযান চালিয়ে তাদের অনেক ডকুমেন্টস পাওয়া গেছে। ডোনার ও সদস্য তালিকার তথ্যও পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার তথ্যও রয়েছে আমাদের কাছে। তাদের কাছ থেকে দেশিয় অস্ত্র, ককটেল ও বিস্ফোরক জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে সাত মসজিদ রোডের এই রাস্তায় যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় সেটিও এই অফিস থেকে পরিচালিত হয়।’