প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৪ ১৬:১৭ পিএম
বায়তুল মোকাররমের গেটে কাউকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে গতকাল মঙ্গলবার নিহত ছয়জনের স্মরণে বিএনপি আয়োজিত গায়েবানা জানাজা কর্মসূচির পর পুলিশের সঙ্গে কিছুক্ষণ সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় একপক্ষ আরেক পক্ষের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে।
বুধবার (১৭ জুলাই) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিএনপি এই কর্মসূচি আয়োজন করেছিল। গায়েবানা নামাজ শেষে উত্তর গেইটে দিয়ে বেরুনোর সময় পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুড়ে। একপর্যায়ে সাউন্ড গ্রেনেডও মারে তারা।
বিক্ষুব্ধ কর্মীরা দৌড়ে গলি থেকে পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল ছুড়ে। প্রায় ২০ মিনিট এরকম পরিস্থিতি সাংঘর্ষিক চলতে থাকে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইট থেকে পুরানা পল্টন মোড় পর্যন্ত সড়কে প্রচুর ইটপাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়।
বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম মসজিদে বিএনপিসহ যুগপৎ আন্দোলনের রাজনৈতিক দলগুলো ডাকা গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ছিল পূর্বঘোষিত। কিন্তু পুলিশ দুপুর ১২টা থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ গেইটে পুলিশ পাহারা বসায়। সারিবদ্ধভাবে পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে থাকে। মুসল্লি নয় কিংবা তরুণ বয়সি কাউকে সন্দেহ হলে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেয়। অনেকে প্রবেশ করতেও দেওয়া হয়নি বলে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের বেশ কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা জোহরের নামাজের আজানের পর মসজিদে প্রবেশ করেন।
নামাজ শেষে মূল মসজিদের বারান্দায় গায়েবানা জানাজা হয়। কোটা আন্দোলনে ছাত্র লীগ ও পুলিশের গুলিতে নিহত ছয় শিক্ষার্থীর আত্মার মাগফেরাত কামনায় এই জানাজার কর্মসূচি দেয় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে মসজিদসহ সারা দেশে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
জানাজা শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর নেতাকর্মীদের নিয়ে মসজিদ থেকে বের হন। এ সময়ে পুলিশ উত্তর গেইট পুরোটা খুলে না দিলে মুসল্লিরা পুরো গেইট খুলে শ্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে সামনে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।