× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফারদিন হত্যাকাণ্ড: র‌্যাব ও ডিবির ভিন্ন তথ্য তদন্তে নতুন মোড়

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২২ ২১:২৪ পিএম

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২২ ২১:৩১ পিএম

ফারদিন নূর পরশ

ফারদিন নূর পরশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যায় জড়িত খুনিরা চিহ্নিত হয়েছে এবং সর্বশেষ তাঁকে চনপাড়ায় দেখা গেছে বলে দাবী করেছে র‌্যাব।

অপরদিকে নিখোঁজের দিন রাত সোয়া দুইটার দিকে ফারদিনকে তিন থেকে চারজন তরুণ যাত্রাবাড়ি থেকে লেগুনায় উঠিয়ে তারাবোর দিকে নিয়ে যায় বলে দাবি করছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার রহস্য উদঘাটনে চালক রুবেলসহ লেগুনার আরোহীদের খুজঁছে গোয়েন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, চনপাড়ায় নয়, ফারদিনকে অন্য কোথাও হত্যা করা হয়েছে বলেও মনে করছে ডিবি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার দিন রাত সোয়া দুইটার দিকে ফারদিনকে যাত্রাবাড়ীতে দেখা গেছে। সাদা পোশাক পড়া এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে লেগুনার ওঠেন ফারদিন। এরপর লেগুনা তারাবো বিশ্বরোডের দিকে চলে যায়। তখন লেগুনায় আরও চারজন ছিলেন। সাদা পোশাক পরা ব্যক্তি, লেগুনার চালক ও লেগুনায় আগে থেকে থাকা চারজনকে সনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, সময় ও দূরত্ব বিবেচনা করলে ওইদিন রাত আড়াইটার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থেকে কোনোভাবেই ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়া সম্ভব না। তাই খুন চনপাড়ায় নয়, অন্য কোথাও হতে পারে বলে ধারণা করছে ডিবি। দ্রুতই এ ঘটনার রহস্য উদ্্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।  

এদিকে র‌্যাব বলছে, চনপাড়া বস্তির রায়হানের নেতৃত্বে সাত থেকে আটজন এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তবে কী কারণে ফারদিনকে হত্যা করা হয়েছে এবং কোথায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে সে বিষয়টি এখনো পরিস্কার নয় তারা। এ ছাড়া মাদক সেবনের সঙ্গে ফারদিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা সে বিষয়টি নির্ভর করছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ভিসেরা রিপোর্টের উপর। রায়হানসহ বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে র‌্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র দাবী করলেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গনমাধ্যেম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে চনপাড়া বস্তির মাদক ব্যবসায়ী রায়হানের নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সাত থেকে আটজনের সন্ধানে মাঠে নেমেছে র‌্যাব। তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা পাওয়া যাবে।

যদিও র‌্যাবের এই দাবীর সঙ্গে একমত নন ফারদিনের বাবা কাজী নূরউদ্দিন রানা। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায়হান গ্যাংয়ের সঙ্গে আমার ছেলের কী নিয়ে বিরোধ থাকবে? বুঝলাম সে (রায়হান) একটা খারাপ মানুষ। কিন্তু আমাকে বোঝান, আমার ছেলেটাই কেন তার টার্গেটে পড়বে? সে কেন ওখানে (চনপাড়ায়) যাবে? কীভাবে সম্ভব সেটা! কোন তথ্যের ভিত্তিতে দেখাবেন, সেখানে আমার ছেলেটা মুভ করেছে? সে যদি সেখানে না থেকে থাকে, তাহলে এসব বলার অর্থ কী?’

ডিবি প্রধান বলেন, ‘তারাবো থেকে ওই সময়ের মধ্যে চনপাড়া যাওয়া সম্ভব নয়। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে সে বিষয়ে এখনো কনক্রিট তথ্য পাইনি। তবে এটা আমরা বুঝতে পেরেছি যে, রাত সোয়া দ্ইুটার পরে তাঁকে লেগুনায় তোলা হয় এবং সেখানে চারজন ছিল। ফারদিনকে লেগুনায় তুলে সুলতানা সেতু পার হয়ে বিশ্বরোডের দিকে নেওয়া হয়। সেখানেই ঘটনাটি ঘটেছে কিনা সেটাও আমরা তদন্ত করছি।’ 

হারুন আর রশীদ বলেন, ‘আমরা মনে করি ওখানে (চনপাড়া) পৌঁছতে ফারদিনের দুইটা চল্লিশ থেকে তিনটা বেজে যাওয়ার কথা। আসলে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের পুলিশের ডিবি টিম কাজ করছে এবং আমরা যেখানে যেখানে সে গিয়েছে সকল তথ্যই আমাদের নজরে আসছে। একচুয়ালি ঘটনাটি কী সেটা আমরা আরো পরে জানাতে পারবো।’ 

তাঁকে কী লেগুনায় জোড় করে তেলা হয়েছে নাকি সেচ্ছায় উঠেছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, ‘আমরা দেখলাম একটি সাদা গেঞ্জি পরা ভদ্রলোক তাঁর সঙ্গে কথা বলছে। কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে লেগুনায় তুললেন। আমরা জানতে পেরেছি লেগুনাটি সোজা সুলতানা কামাল ব্রিজ পার হয়ে বিশ্বরোড এবং বরপাতে যায়। এটা নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। বাকি পারিপাশির্^কতা, তাঁর মোবাইল ফোন, বুশরাকে জিজ্ঞাসাবাদ, তিনি সারা ঢাকা শহরে কোথায় ছিলেন, কোথায় গিয়েছেন এসব কিছু আমরা তদন্তে নিয়ে আসছি।’ 

ফারদিন কোথায় মারা গেছে এবং মাদক ব্যবসা বা চনপাড়া কেন্দ্রীক একটা গ্রুপের কথা শোনা যাচ্ছে-এর সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা আপনারা এখনো পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, ‘তারাবোতে যেতে তাঁর ২ টা ৪৫ মিনিট লাগবে। ২টা ৪৫ থেকে তাঁর চনপাড়া আসতে আবার নোয়াপাড়া যেতে হবে।নোয়াপাড়া থেকে নদী পার হয়ে হয়ে আসতে হবে চনপাড়া। সেটা অনেক সময়ের বিষয়। সব কিছু আমরা তদন্ত করছি, পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’ 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখনো হত্যার মোটিভ সম্পর্কে জানার চেষ্টা চলছে। রিমান্ডে থাকা ফারদিনের বন্ধবীর কাছ থেকে মেলেনি উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য। তাই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ এখন নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে চলছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান। নতুন কাউকে গ্রেপ্তার করা গেলে তদন্তে গতি আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা, লেগুনায় ওঠার পর হয়তো ফারদিন অপহরনকারীদের হাতে পড়েছিলো। তারা যখন বুঝতে পারে ফারদিন বুয়েটের ছাত্র এবং বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের ঝামেলা হতে পারে তখন তাকে খুন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘটনার পেছনে মুক্তমনা-বিরোধীদের হাত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না সংস্থাটি। সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রটি দাবী করেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা