প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ০০:০১ এএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১০:৫৯ এএম
ফাইল ফটো
বাসযোগ্যতার আন্তর্জাতিক সূচকে রাজধানী ঢাকা নিচের দিকে থাকার কারণ চিহ্নিত করেছে পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি)। তারা বলছে, বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী জনঘনত্ব যত হওয়ার কথা তার চেয়ে তিন-চারগুণ জনসংখ্যা এই শহর ধারণ করছে। যার ফলে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে ঢাকা।
বুধবার (৩ জুলাই) বিআইপি কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) উদ্যোগে ‘বাসযোগ্যতা সূচকে ঢাকা কেন এত পিছিয়ে’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, ঢাকা শহরের বেশির ভাগ এলাকা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠায় নাগরিক সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কিন্তু ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে বিগত সময়ে বড় ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে নগর সুশাসন, উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের কার্যকর সমন্বয়, সেবা সংস্থাসমুহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, উন্নয়ন পরিকল্পনায় কমিউনিটির অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গগুলোতে। ঢাকার যানজট এবং বায়ু, পানিসহ পরিবেশদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাশ্রয়ী, কার্যকর ও টেকসই সমাধান বের না করতে পারলে ঢাকা বাসযোগ্য হবে না।
বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অনুসৃত বিকেন্দ্রীকরণ নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন করবার মাধ্যমে ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমানোর সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকার বাসযোগ্যতার ক্রমশ উন্নতি সাধন করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। এ সময় ঢাকার বাসযোগ্যতা বাড়াতে ১৩টি প্রস্তাবনা দেয় বিআইপি।
মূল প্রবন্ধে বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, মেট্রোরেলের পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এর জন্য মানসম্মত বাস সার্ভিস ও প্যারা ট্রানজিট সার্ভিস নিশ্চিত করা এবং হাটবার উপযোগী ফুটপাত নিশ্চিত করতে হবে। এলাকাভিত্তিক সবার জন্য প্রবেশগম্য খেলার মাঠ-পার্ক-উদ্যান তৈরি করা এবং বিদ্যমান সুবিধাবাদীসমূহ সকলের জন্য উন্মুক্ত করা দরকার। এছাড়া আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধাদি নিশ্চিত করতে পরিকল্পনার মানদণ্ড (প্ল্যানিং স্ট্যান্ডার্ড) সংশোধন করা, আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন শিল্প কারখানা-গুদাম প্রভৃতি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া, প্রয়োজন মোতাবেক নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে নীতিমালা তৈরি করা, এবং ভূমি বরাদ্দ ও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার।
বিআইপির সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, এলাকাভিত্তিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। শহরের বিশাল জনগোষ্ঠীকে বস্তিতে রেখে বাসযোগ্যতার উন্নতি করা সম্ভব নয়।
বিআইপি সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইপির যুগ্ম সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ তামজিদুল ইসলাম, বোর্ড সদস্য (একাডেমিক এফেয়ার্স) পরিকল্পনাবিদ উসওয়াতুন মাহেরা খুশি, বোর্ড সদস্য (মেম্বারশীপ এফেয়ার্স) পরিকল্পনাবিদ মো ফাহিম আবেদীন প্রমুখ।