প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২২ ১৪:২৬ পিএম
আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৪৯ পিএম
চিকিৎসক জাকির হোসেন। ফাইল ছবি
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. জাকির হোসেনকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
বুধবার (১৬ নভেম্বর) বিকালে যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
যাত্রাবাড়ি থানায় দায়ের করা বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) তাকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ডা. জাকির হোসেন নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন আনসার আল ইসলাম ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের পাঠ্য ‘কাইজেন’ সিরিজের লেখক বলে দাবি করেছে সিটিটিসি।
গত ৮ নভেম্বর থেকে ডা. জাকির হোসেন নিখোঁজ রয়েছেন বলে এর আগে দাবি করে তার পরিবার।
এ ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর অর্থাৎ গত ১০ নভেম্বর ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা মোহসিন উদ্দিন ফকির ভাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের এডিসি আহমেদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিক গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং তথ্য প্রযুক্তির কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সাংগঠনিক এবং অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংঘবদ্ধ একটি গ্রুপ দাওরা কোর্স (প্রশিক্ষন) পরিচালনা করছে। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারনে সংগঠনটির সদস্যরা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিরাপত্তাজনিত কারনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে না। উক্ত গোয়েন্দা তথ্যেরভিত্তিতে দীর্ঘদিন নজরদারির মাধ্যমে আরো তথ্য পাওয়া যায় যে, আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্যগন নতুন সদস্য সংগ্রহ করে তাহাদের সংগঠনের নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত করার জন্য প্রথমে অনলাইনে এবং পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে দাওরা কোর্স (প্রশিক্ষন) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় সিটিসিটি জানতে পারে সায়েদাবাদ এলাকায় ইব্রাহিম (সাংগঠনিক নাম) নামের এক ব্যক্তির নের্তৃত্বে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের একটি গ্রুপ একত্রিত হবে।’
তিনি জানান, এ খবরের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে একটি টিম সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। গত বুধবার (১৬ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দেওয়ান মোহাম্মদ সাইদুর রহমান চিশতি সায়েদাবাদী দরবার শরীফের মুল গেইটের সামনে রাস্তার মাঝখানে ফ্লাইওভারের নিচে ৩ থেকে ৪ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেখে তাদের দিকে এগুতেই তারা পালানোর সময় জাকির হোসেনকে (৩০) আটক করা হয়।
এডিসি আহমেদুল ইসলাম বলেন, জাকিরকে জিজ্ঞাবাবাদে প্রাথমিক ভাবে ১৫ জনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সিটিটিসি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির নিজেকে আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেন। সংগঠনে তিনি ইব্রাহিম নামে পরিচিত। কাইজান সিরিজ তার নিজের লেখা একটি ব্লাগ রয়েছে। আনসার আল ইসলামের সদস্যদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রশিক্ষনে ‘কাইজান সিরিজ’ বিষয়ে আলোচনা করেন এবং সবাইকে এই ব্লগ পড়ার নির্দেশনা দেন।
জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তারের সময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন ডা. জাকির। তারা হলেন- নাদিম, মুসা, আমজাদ, জুনায়েদ ওরফে রনি, এজাজ, মিঠু, জুলফিকার, নোবেল ওরফে মিন্টু, ওয়ালীম, মুস্তাকিম, শায়েখ মামুন, মীর ফরহাদ, সাইফুল্লাহ, ফরিদ ও সিরাজ। এরাও আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য। তারাও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ ঘটনায় তাদের নাম উল্লেখ করে গত বুধবার মধ্যরাতে যাত্রাবাড়ি থানায় স্পেশাল এ্যাকশন গ্রুপের পরিদর্শক মোঃ মাহিদুল ইসলাম একটি মামলা করেন।