পিস অ্যাম্বাসেডর সম্মেলনে বক্তারা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ২০:১৬ পিএম
আপডেট : ২৯ জুন ২০২৪ ২০:৪৩ পিএম
পিস অ্যাম্বাসেডর সম্মেলনে অতিথিরা। প্রবা ফটো
সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় না থাকলে কোনো দেশ বেশিদূর এগোতে পারে না। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সবার আগে তথ্যের সততা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করতে হবে। ভিন্ন মত থাকা সমাজের একটা সৌন্দর্য, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু যেখানে একমত হতে হবে সেটি হচ্ছে, সত্য ও সঠিক তথ্য বলতে হবে। সত্যকে মেনে নিতে হবে। রাজনীতিতে সমতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক ক্ষমতা এক হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে এবং বৈষম্য কমবে না। আজ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন ব্যবস্থার কাঠামো ভেঙে পড়েছে। এর বিপরীতে উন্নয়ন তত্ত্ব সামনে আনা হয়েছে। বাংলাদেশে একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি শুরু হয়েছে। রাজনীতি এখন লুটপাটের ব্যবস্থা হয়ে গেছে।
শনিবার (২৯ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত পিস অ্যাম্বাসেডর জাতীয় সম্মেলনে ব্ক্তরা এসব কথা বলেন।
দেশে সংঘাত-সহিংসতা রোধ ও শান্তি-সম্প্রীতি চর্চার ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা, তরুণ ও ছাত্রনেতাদের অর্জন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে গঠিত বহুদলীয় প্ল্যাটফর্ম ‘পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের (পিএফজি) নেতৃত্ব দেওয়া পিস অ্যাম্বাসেডরদের অংশগ্রহণে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে, ইউএসএআইডির সহযোগিতায়, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এবং আইএফইএসের অংশীদারিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে স্থানীয় নেতারা নিজ নিজ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে (ঢাকা ঘোষণা) সই করেন।
শনিবারের এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) রানা মো. সোহেল, সিপিবির সাবেক সভাপিত মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘আমি মনে করি, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সবার আগে তথ্যের সততা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করতে হবে। ভিন্ন মত থাকা সমাজের একটা সৌন্দর্য, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু যেখানে একমত হতে হবে সেটি হচ্ছে, সত্য ও সঠিক তথ্য বলতে হবে। সত্যকে মেনে নিতে হবে। রাজনীতিতে সমতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অতীতের বিভিন্ন ঘটনার কারণে আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বিরাজ করছে। কিন্তু রাজনৈতিক মত-পার্থক্য থাকলেও আমাদের মধ্যে যদি আমরা ইতিবাচক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি করতে পারি, তাহলে আমরা সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। তবে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ প্রশ্নে কোনো আপস থাকতে পারে না।’
শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তথ্যের সঠিকতা থাকা দরকার। সত্য নিরপেক্ষ হয় না। কিন্তু সত্যকে স্বীকার করতে হয়, সত্যকে মেনে নিতে হয়। অতীতের বিভিন্ন ঘটনার কারণে আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বিরাজ করছে। কিন্তু রাজনৈতিক মত-পার্থক্য থাকলেও আমাদের মধ্যে যদি আমরা ইতিবাচক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি করতে পারি, তাহলে আমরা সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। তবে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ প্রশ্নে কোনো আপস থাকতে পারে না।’
স্বাগত বক্তব্যে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হলো এদেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলা। কারণ আমাদের মধ্যে মত-পথের ভিন্নতা থাকলেও আমাদের সবার পরিচয় হলো আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু এখন বাংলাদেশে একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি শুরু হয়েছে। আমি মনে করি, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় না থাকলে কোনো দেশ বেশিদূর এগোতে পারে না।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, ‘বৈষম্য বজায় থাকলে সমাজ এগোতে পারে না। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে গেলে সমাজে বৈষম্য বাড়তে থাকে। আমি মনে করি, বর্তমানে রাজনৈতিক সংকটের চেয়েও অর্থনৈতিক সংকট বড় সংকট। এসব সংকটের উত্তরণ ঘটাতে হলে একটা নতুন সামাজিক চুক্তিতে উপনীত হতে হবে, আলাপ-আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, রাজনীতিতে সমতার পরিবেশ তৈরি হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক ক্ষমতা এক হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে এবং বৈষম্য কমবে না।’
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিলীপ কুমার সরকার, পিএফজি সদস্য খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু, আজ্ঞু আনোয়ারা ময়না, অধ্যাপক আসাদ আলী ও অ্যাডভোকেট রিপা সিনহা।