প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ২৩:৪২ পিএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪ ২৩:৫৪ পিএম
লাখ টাকা দামের অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ব্যবহারকারীদের ট্র্যাক করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আর মোবাইলফোনের দেশীয় শিল্পের বাজারের বিকাশের জন্য অবৈধ ফোনের বিরুদ্ধে ঘন ঘন অভিযান পরিচালনা করার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকদের সংগঠন টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টারস নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।
সেমিনারে বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, বিটিআরসির মহাপরিচালক মনিরুজ্জামান জুয়েল, রবি আজিয়াটার চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম, বাংলালিংক ডিজিটালের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, এমটব মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার, মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শাহিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রতিবছর দেশে প্রায় ৫ কোটি মোবাইল ফোনের চাহিদা আছে জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক দেশে ব্যবহৃত নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ডাটাবেইজ বিটিআরসিকে সংরক্ষণ এবং তা প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এনবিআর এবং ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে তাৎক্ষণিক সরবরাহেরও নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ২০২২ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যাক ৩ কোটি মোবাইল ফোন বাংলাদেশে সংযোজন বা উৎপাদন করতে পেরেছিলাম। বিদেশ থেকে আমদানি হয়েছিল, আবার কিছু অবৈধ পথে এসেছে। ২০২৩-২৪ সালে এসে উৎপাদনের সংখ্যাটা কমে গেছে। কিন্তু মোবাইল ব্যবহারকীর সংখ্যা কমেনি।
মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীদের দাবির বিষয়ে পলক বলেন, বিটিআরসি আপনাদের ইনফরমেশন এবং টেকনোলজি সাপোর্ট দেবে। বিটিআরসি এবং ডিবি প্রধান আশ্বস্ত করেছেন তার গোয়েন্দা বিভাগ পুলিশের পক্ষ থেকে সব সহযোগিতা দেবে। ভোক্তা অধিদপ্তরও আপনাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, মোবাইলফোনের বিশাল বাজার। এখানে যেমন সম্ভাবনা আছে, তেমনি চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকিও রয়েছে। বিমানবন্দরে প্রায় দেখি, ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোন সেট একটা চ্যানেল দিয়ে আসে, লাগেজ বলে। শত শত মোবাইল ফোন সেট আসে। একটা গ্রুপ আছে তারা এই মালগুলো বের করে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্য কম দামে অন্য লাইন দিয়ে নিয়ে আসছে। আমাদের মোবাইল মার্কেটে কম দামে ওগুলো বিক্রি করে। যারা অবৈধভাবে আনে তারা কম দামে আনে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং দেশে যারা উৎপাদন করেন তারাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।
ডিবিপ্রধান বলেন, আমার মনে হয় অবৈধ মোবাইল ফোনের বিরুদ্ধে ঘন ঘন অভিযান পরিচালনা করা দরকার। আমাদের সাইবার ডিভিশন আছে। যদি প্রয়োজন মনে হয়, আমাদের কাজে লাগাবেন, আমরা আসলে অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করতে চাচ্ছি। দেশ এগোচ্ছে, অপরাধীরা সাইবার ক্রাইমের দিকে ঝুঁকছে। সব বিবেচনা করে আইন তৈরি করতে হবে। তাহলে আমরা এই বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যেতে পারব। দেশ লাভবান হবে।
টিআরএনবির সভাপতি রাশেদ মেহেদীর সভাপতিত্বে সেমিনারে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।