৬০ নাগরিকের বিবৃতি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ২১:০৫ পিএম
মিরনজিল্লার হরিজন সম্প্রদায়কে পুনর্বাসন ছাড়াই ঢাকা (দক্ষিণ) সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ করার চেষ্টার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে ৬০ জন নাগরিক। সেই সঙ্গে পুর্নবাসন ছাড়া তাদের উচ্ছেদ না করার দাবিও তুলেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) নাগরিক সমাজ তাদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা (দক্ষিণ) সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মিরনজিল্লা কলোনিতে ৩ ও ৪ জুন উচ্ছেদ অভিযান চালাতে চার প্লাটুন পুলিশ চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে কিছূ না করলেও গত ৯ জুন ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন বাধা দেন। কর্তৃপক্ষ একটি বাউন্ডারি দেয়াল ও কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে ওই দিনের মতো ফিরে আসে। এর আগে ৬ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মিরনজিল্লা হরিজন পল্লী উচ্ছেদের প্রতিবাদে ‘বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ’ মানববন্ধন করে। যদিও বস্তি উচ্ছেদ মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে পুনর্বাসন ছাড়া কোন বস্তি বা কলোনি উচ্ছেদ করা যাবে না। কারণ সংবিধানে জনগণের বাসস্থানের অধিকার রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত।
বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার ওপর ৩০ দিনের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
কলোনিতে বসবাস করা লোকজন বলছেন, তাদের পূর্বপুরুষদের এই অঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য আনা হয়। বর্তমানে সাত শতাধিক পরিবার এই কলোনিতে গাদাগাদি করে বসবাস করছে। তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক পরিবারের সদস্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত। বাদবাকি দুই শতাধিক পরিবারের সদস্যের সবাই কোনো না কোনো সময়ে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তারা স্বেচ্ছায় এসে ঢাকা শহরে গেঁড়ে বসেননি। এমন বাস্তবতায় অবৈধ বলে সিটি করপোরেশনে কর্মরতদের বাইরে অন্যদের উচ্ছেদ করলে পথে নামতে হবে। হরিজন সম্প্রদায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর মিরনজিল্লা হরিজন সিটি কলোনিভুক্ত জায়গায় বসবাসকারীদের জন্য আবাসিক ভবন ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক ভবন কিংবা মার্কেট না করার অনুরোধ জানানো হয়।
ওই বছরের ৫ জুলাই সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এক চিঠিতে সাবেক দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে কলোনিতে বসবাসকারীদের চাকরি ও আবাসন সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানান। ২০২২ সালের ১৬ মে হরিজন সেবক সমিতির পক্ষ থেকে মেয়র বরাবর দেওয়া চিঠিতে কলোনির আবাসন সংকট সমাধানে পাঁচটি ১০ তলা ভবন নির্মাণের আবেদন করা হয়। একই বছরের ১৬ মে দক্ষিণ সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়াল হোসেন মেয়র বরাবর দেওয়া চিঠিতে মিরনজিল্লা হরিজন সুইপার কলোনিতে ১০তলা বিশিষ্ট পাঁচটি ভবন নির্মাণের অনুরোধ জানান। কিন্তু বর্তমানে কাঁচাবাজার করার নামে হরিজনদের কলোনির একাংশ গুঁড়িয়ে দেয়া শুধু অমানবিক নয়, তা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
বিবৃতিতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তারা মিরনজিল্লার হরিজন সম্প্রদায়কে পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ না করার দাবি জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন, মানবাধিকার কর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. জেড আই খান পান্না, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ।