প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৪ ০৯:৩৪ এএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৪ ১১:২৩ এএম
অনিরাপদ খাদ্যগ্রহণে দেশে বছরে ৩ থেকে সাড়ে ৪ কোটি মানুষ অসুস্থ হয়। তাদের মধ্যে ১৯ শতাংশের মৃত্যু হয়। ৭ শতাংশ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত ও অসুস্থতার কারণে কাজকর্মে অংশ নিতে পারে না। এতে বছরে সব মিলে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (১১ জুন) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে ‘খাদ্যজনিত অসুস্থতা ও স্বাস্থ্য বিপত্তি নিরসনে নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থার গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)-এর উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিএফএসএ চেয়ারম্যান জাকারিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএফএসএ সদস্য আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।
মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, আমরা শুরুটাই করি ভেজাল দিয়ে। যেমন জন্মনিবন্ধনে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছি, চাকরি নিতে গিয়ে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছি। এজন্য আমাদের জাতিগত ও সামাজিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। ভেজাল প্রতিরোধ করতে না পারলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য উৎপাদন পর্যায়ে নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষ ক্যানসার আক্রান্ত হচ্ছে। এজন্য ধান, শাকসবজি উৎপাদনে কতটুকু সার, কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে দেখা দরকার।
তিনি আরও বলেন, একটি বাগানে কী পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার হবে সেখানে কৃষি কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। যেখানে ভালো ফসল হয় সেই ক্ষেতে তাদের সাইনবোর্ড দেখা যায়।
মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, আমরা যদি নিজেরা নীতি-নৈতিকতা না মানি তাহলে খাদ্য নিরাপদ করা যাবে না। মুড়িতে ইউরিয়া সার দেওয়া হচ্ছে, কৃষিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে। পেশাদারদের মধ্যে পেশাদারি না থাকলে শুধু নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দিয়ে কাজ করলে খাদ্য নিরাপদ করা যাবে না।
অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ খাদ্য ও নিরাপদ খাদ্যের তফাত, নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব, খাদ্যে ভেজাল ও রঙের ব্যবহার, খাদ্যজনিত রোগ, খাদ্যবিপত্তি, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব, বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্যের পথচলা ও চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন, খাদ্যের নিরাপদতা নিশ্চিতে ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে কাজ করতে হবে। মানব, পশু ও পরিবেশগত খাদ্যব্যবস্থা নিয়েও কাজ করতে হবে।
তিনি আর বলেন, যেহেতু নিরাপদ খাদ্যের লোকবল কম তাই উপজেলা পর্যায়ে কাজ করতে হলে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জনশক্তি কাজে লাগাতে হবে।
জাকারিয়া বলেন, খাদ্য ব্যবস্থাপনায় প্লাস্টিকের ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়ায় খাদ্য কতটা নিরাপদ থাকছে তা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে জেল-জরিমানা না করে তাদের সময় দিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিগত ও সামাজিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জাকারিয়া বলেন, খাদ্যের কারণে দেশে কত মানুষ অসুস্থ হয় তার সঠিক কোনো তথ্য নেই। তা ছাড়া নানা তথ্যমতে, সারা বিশ্বে ১০ শতাংশ মানুষ অসুস্থ হয়। তবে আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ অসুস্থ হয়। আর দক্ষিণ এশিয়ায় এ হার বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সে ক্ষেত্রে আমরা খাদ্যজনিত অসুস্থতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছি। তবে এ ব্যাপারে আমাদের নিজস্ব কোনো জরিপ বা গবেষণা নেই। আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে এ বিষয়ে তথ্য চাইলে তারা জানিয়েছে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। তবে আইসিডিডিআরবি কিছু তথ্য দিয়েছে।
বিএফএসএ’র সদস্য ড. মো. শোয়েব বলেন, আইইডিসিআরের ২০১৫ সালের হিসাবে দেশে ৩ কোটি মানুষ খাদ্যজনিত অসুস্থতায় ভোগে। তা ছাড়া অন্য একটি হিসাবে এ সংখ্যা সাড়ে ৪ কোটি।