× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টানা কয়েকদিন নির্ঘুম ছিলেন কনস্টেবল কাওসার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৪ ১১:৪০ এএম

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪ ১২:০০ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

গুলশানে কূটনৈতিকপাড়ায় দায়িত্ব পালনকালে সহকর্মীকে ‍গুলি করে হত্যা করা আরেক কনস্টেবল মো. কাওসার আলী আগে থেকে ‘মানসিক রোগী’ ছিলেন। এ কারণে তাকে তিন দফা পাবনায় মানসিক হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করানো হয়েছিল ডিএমপির পক্ষ থেকে। কাওসার আলীর পরিবারও তাকে মানসিক রোগী বলছে। এমন একজন ‘মানসিক রোগী’কে ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি জোনে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানসিক রোগী বা শারীরিকভাবে অসুস্থ অথবা মানসিকভাবে চাপে থাকলে পুলিশের যেকোনো সদস্য বা কর্মকর্তাকে পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য ছুটিতে পাঠানোর নিয়ম। তাহলে ‘অসুস্থ’ পুলিশ সদস্যকে কেন ডিপ্লোম্যাটিক জোনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এমন স্থানে ডিউটি দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যের গুলিতে আরেক পুলিশ সদস্যের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ডিএমপি থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিএমপির ‍গুলশান বিভাগের উপকমিশনার রিফাত রহমান শামীমকে সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিবিশনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. এলিন চৌধুরী এবং ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার আসফাক হোসেন। 

তদন্ত কমিটির সভাপতি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার রিফাত রহমান শামীম প্রতিদিনের বাংলাদেকে বলেন, ‘ঘটনার কারণ কী তা জানতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আমরা মনে করছি।’ গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, কাওসার আলীকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলছেন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন গতকাল সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি কথা-কাটাকাটি এরপর গুলি, তার কাছে এসএমজি ছিল। এসএমজি দিয়ে ফায়ার ওপেন করেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ঘটনা শুনে আসলেই আমরা সবাই বিচলিত হয়েছিলামÑ এক কনস্টেবল আরেক কনস্টেবলকে কেন হত্যা করবে।’

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যা শুনেছি হয়তো তার পারিবারিক কোনো অসুবিধা থাকতে পারে বা অন্য কোনো কিছু থাকতে পারে। কাজেই এখনোই সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু আমরা বলতে পারছি না।’ এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক প্রশ্নই সামনে আসছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এর মূল মোটিভটা, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটতে পারে। এজন্য কী করণীয়, সবকিছু নিয়েই আমরা বসব। বসে আমরা দেখব কোনো জায়গায় আমাদের গাফিলতি ছিল কি না।’

কাওসার আলী ‘মানসিক রোগী’

পুলিশ কনস্টেবল কাওসার আলী ২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চাকরি নেন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দৌলতখারী দাড়েরপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাওসারের বাবার নাম হায়াত আলী মাস্টার। বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। কাওসারের বাবা ও মা দুজন জীবিত আছেন। কাওসারের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। 

পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছে, চাকরি পাওয়ার পর ২০১০ সালে কাওসারের মানসিক সমস্যা দেখা দেয় প্রথমে। ওই সময় তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়। 

কাওসারের মা মাবিয়া খাতুন জানান, তার ছেলে খুব ভালো ছিল। মাথায় কিছুটা সমস্যা ছিল। চাকরিতে যোগদানের পর থেকে তার মানসিক সমস্যা আরও বাড়তে থাকে। গত শনিবার রাতেও সে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। স্ত্রী সাথি আক্তার বলেন, তার স্বামীর মানসিক সমস্যা দীর্ঘদিনের। 

মনিরুলের বাড়িতে মাতম

এদিকে সহকর্মীর গুলিতে প্রাণ হারানো কনস্টেবল মনিরুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। গতকাল সোমবার সকালে জানাজা শেষে নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে মনিরুলকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় এলাকার মানুষের ঢল নামে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছলে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। মনিরুলের দুই বছর বয়সি শিশুসন্তান রয়েছে। বিয়ে করেছেন বেশি দিন হয়নি।

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) ও নেত্রকোণা প্রতিবেদক]

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা