স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বললেন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ২১:৫০ পিএম
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪ ২১:৫৩ পিএম
সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক ব্যবহারের সমালোচনা যেমন হয়েছিলো, প্রতীক ব্যবহার না করার ক্ষেত্রেও মতভেদ আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এই স্বিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৮ জুন) রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) আয়োজিত স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে চ্যালেঞ্জ ও নির্বাচনে দলীয় প্রতিকের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান একরামুল হক সায়েমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাখাওয়াত হোসেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মুখ্য পরিচালক ড. আব্দুল আলীম প্রমুখ।
মো. তাজুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মতামত প্রদানের অধিকার থাকবেই। এখানে যেমন ভাল কাজের প্রশংসা করার সুযোগ থাকে, মন্দ কাজের সমালোচনা করারও সুযোগ থাকে। মাঝে মাঝে আমার ভাল কাজেরও সমালোচনা করা হয়। এক্ষেত্রে এই সমালোচনা আমাকে আরও উদ্যোমী হতে সাহায্য করে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণের বিকল্প নেই। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণ বিষয়ে কারও দ্বিমতেরও সুযোগ নেই। কিন্তু মতভেদটা হচ্ছে মূলত আইন সংশোধন নিয়ে। আইন মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সংশোধন হয়।পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোতেও তাই হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে আইন সংশোধন হচ্ছে। আর, মতপার্থক্য যা হচ্ছে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী এবং সময়োচিত। এর মধ্য দিয়ে মানুষ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে তার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারবেন।
নাগরিক সেবা বাড়াতে ঢাকায় নগর সরকারের বিকল্প নেই জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র বলেন, ‘আমার প্রায়াত পিতা মোহাম্মদ হানিফ অভিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং তার মেয়র জীবনে অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি নগর সরকার প্রতিষ্ঠার কথাটা বলে গিয়েছেন। আমি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, পাঁচ বছর এই শহরের নেতৃত্বে ছিলাম। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বলবো, ঢাকা শহরে নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নগর সরকারের বিকল্প নেই। তাই নগর সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমাদের যে পুঞ্জীভূত সমস্যা রয়েছে, এগুলোকে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি।’
এর আগে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কেন্দ্রেন (সিরাডাপ) সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।এ সময় তিনি নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে সিরডাপ প্রতিষ্ঠাতা এবং পূর্বসূরিদের স্বপ্নপূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৪-৬ জুন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত সিরডাপের ২৪তম সভায় ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি’কে পরর্বতী দুইবছরের জন্য সংস্থাটির গভর্নিং কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়৷ একইসাথে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন সদস্য রাষ্ট্র ফিজি'র পল্লী ও সমুদ্র উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সাকিয়াসি রাইসেভু দিতোকা এবং মহাপরিচালক নির্বাচিত হন সদস্য রাষ্ট্র ভারতের ড. পি. চন্দ্র শেখর।